চলচ্চিত্র নিয়ে বললেন শীর্ষেন্দু ও সমরেশ

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঢাকার চেইন বুকশপ ‘বাতিঘর’-এর আমন্ত্রণে সম্প্রতি এক ঘরোয়া আড্ডায় মুখোমুখি হয়েছিলেন দুই বাংলার জনপ্রিয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও সমরেশ মজুমদার। বাতিঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে সমরেশ মজুমদারের লেখা নতুন বই ‘অপরিচিত জীবনযাপন’। গত ১৪ সেপ্টেম্বর, শনিবার বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসে আড্ডায় অংশ নেন তিনি। একই সময় অন্য একটি অনুষ্ঠানে ঢাকায় এলেও ১৬ সেপ্টেম্বর, সোমবার বাতিঘর আড্ডায় আসেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। এই দুই সাহিত্যিক দীর্ঘ আলাপচারিতার মাঝে সাহিত্যের নানা বিষয়ের সঙ্গে চলচ্চিত্র নিয়েও কথা বলেন। তাদের লেখা থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে আলাপচারিতায়। সেটি তুলে ধরছেন শাহনাজ জাহান

সাহিত্যকে চলচ্চিত্রে তুলে আনা সম্ভব নয়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বহু উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। তার সৃষ্ট শবর চরিত্রটি নিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি রহস্য চলচ্চিত্র। এ ছাড়াও অদ্ভুতুড়ে সিরিজ অবলম্বনে বিভিন্ন সিনেমা তৈরি হয়েছে। তার কাহিনী অনুসারে বানানো চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- আজব গাঁয়ের আজব কথা, বাঁশিওয়ালা, পাতালঘর, গোঁসাইবাগানের ভূত, দোসর, কাগজের বৌ, গয়নার বাক্স, ছায়াময়, সাধুবাবার লাঠি, মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি, ঈগলের চোখ, আসছে আবার শবর, হীরের আংটি, আশ্চর্য প্রদীপ, এবার শবর। সাহিত্যের সঙ্গে চলচ্চিত্রের সম্পর্ক প্রসঙ্গে শীর্ষেন্দু বলেন, ‘সাহিত্যের সঙ্গে সিনেমার সম্পর্ক আছে। তবে সাহিত্যকে সিনেমায় তুলে আনা সম্ভব নয়। সাহিত্যে কল্পনার অনেক কিছু থাকে। যেমন পথের পাঁচালী। সত্যজিৎ রায় তার সিনেমায় পথের পাঁচালীকে কতটা তুলে আনতে পেরেছেন? ১০/১৫ ভাগ হয়তো উঠে এসেছে। আমার অনেক লেখা নিয়ে সিনেমা হয়েছে। বাঙালি লেখকদের মধ্যে সম্ভবত আমার লেখায় সবচেয়ে বেশি সিনেমা হয়েছে। প্রায় ৩০/৩৫টা তো হবেই। এটা আমার জন্য সৌভাগ্য নাকি দুর্ভাগ্য জানি না। আমার কাছে যখন গল্প নিতে আসে, আমি এটা বুঝেই দেই। আমার লেখা থেকে যে সিনেমাগুলো হয়েছে সবগুলো যে ভালো তা-না। কিছু কিছু হয়েছে। আমি আমার সিনেমা দেখতে যাই না। খুব জোর করে ধরলে যাই। অপর্ণা সেন যেটা বানিয়েছে, ‘গয়নার বাক্স’। সেটা মোটামুটি হয়েছে। ছবিটার শেষের দিকে একটু সংযোজন ছিল। জানি না বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে কিনা? সেটা আমার ভালো লাগেনি।’

সাহিত্য ও চলচ্চিত্র আলাদা মাধ্যম

সমরেশ মজুমদার

সমরেশ মজুমদারের লেখা থেকে বিভিন্ন সময় টিভি সিরিয়াল এবং চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। সমরেশের লেখা বিখ্যাত উপন্যাস কালবেলা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন গৌতম ঘোষ। তবে ছবিটি পছন্দ হয়নি সমরেশের। বরেণ্য এই সাহিত্যিক বলেন, ‘গৌতম আমার খুবই কাছের বন্ধু। কিন্তু গল্পটির সঙ্গে সুবিচার করতে পারেনি। গৌতম ঘোষ সিনেমাটির শেষ টেনেছেন নিজের মতো করে।’ সাহিত্য ও চলচ্চিত্র দুটো আলাদা মাধ্যম বলে মনে করেন সমরেশ। তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রের প্রকাশটা একরকম, সাহিত্য আরেকটি মাধ্যম।’ বাংলাদেশে এসে তার লেখা ‘উৎসবের রাত’ নিয়ে ওয়েব সিরিজ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে লেখকের সঙ্গে দেখা করে স্বত্ব নিয়েছে প্রযোজনা সংস্থা আলফা-আই। চার পর্বের ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করা হবে ‘উৎসবের রাত’। এটি নির্মাণ করবেন শাহরিয়ার শাকিল। সমরেশ মজুমদার বলেন, ‘এই গল্পটি আগেই লেখা ছিল। শাহরিয়ার বলল, সিনেমা করবে না। চার পর্বের ওয়েব সিরিজ করবে। তাই গল্পটি দেয়া।’ সমরেশ মজুমদারের লেখা থেকে কালবেলা ছাড়াও বুনোহাঁসসহ বেশ কিছু ছবি নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশের একজন নির্মাতা এই লেখকের ‘গর্ভধারিণী’ উপন্যাস থেকে সিনেমা নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি নির্মিত হয়নি।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj