এস এম সোলায়মান এক নক্ষত্রের নাম

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নাট্যাঙ্গনে তার আবির্ভাব ধূমকেতুর মতোই। এস এম সোলায়মান, বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে তাকে ‘ক্ষ্যাপা পাগলা’ বলেও ডাকেন কেউ কেউ। পাগল না হলে কি আর নাটক করা চলে? যে কোনো শিল্পের জন্যই দরকার হয় পাগলামি। সোলায়মানের পাগলামি সমৃদ্ধ করেছে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনকে। ২০০১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ‘ক্ষ্যাপা সোলায়মান’। মাত্র ৪৮ বছরের জীবনে দেশের নাট্যাঙ্গনে ‘কোর্ট মার্শাল’, ‘গোলাপজান’, ‘আমিনা সুন্দরী’, ‘ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল’ এর মতো নাটকের জন্ম দিয়ে নিজেকে করে গেছেন অনন্য। সোলায়মানের নাটক মানেই যেন সঙ্গীতের অপূর্ব ব্যবহার। সঙ্গীত যে নাটকে কখনো কখনো সংলাপ হয়ে উঠতে পারে সেটাই যেন দেখিয়েছেন গোলাপজান নাটকে। চরিত্রের কান্না যখন নেপথ্যে সঙ্গীতের সুরে ঝরে পড়ে। গোলাপজানের সংলাপের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গীতেও যেন সংলাপ রচনা করেন নাট্যনির্দেশক এস এম সোলায়মান। ১৯৫৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর এস এম সোলায়মান জন্মেছিলেন ভারতের আসাম রাজ্যের ডিগবয় শহরে। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের দু’দফা (১৯৮৮-১৯৯১) সেক্রেটারি জেনারেল এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সংস্কৃতিকর্মীদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে এস এম সোলায়মানের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। এস এম সোলায়মান কালান্তর, পদাতিক নাট্য সংসদ, ঢাকা পদাতিক, অন্যদল ও থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি ৩০টিরও বেশি নাটক রচনা, রূপান্তর এবং নির্দেশনা দিয়েছেন। সঙ্গীত ও কোরিওগ্রাফির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে এস এম সোলায়মান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নবনাট্যধারায় নির্মাণ করেন এক নতুন আঙ্গিক। এ ছাড়া ২৫টিরও বেশি টেলিভিশন নাটক রচনা করেছেন। নির্মাণ করেছেন অসংখ্য ভিডিওচিত্র, ডকুমেন্টারি, টিভি নাটক ইত্যাদি। প্রকাশিত হয়েছে তার রচিত ও সুরারোপিত কয়েকটি মিউজিক ভিডিও অ্যালবাম, গান ও গীতিনাট্যের ক্যাসেট। তার রচিত ও সুরারোপিত অধিকাংশ গান এখনো অপ্রকাশিত। ১৯৯৩ সাল ২০০০ সাল এস এম সোলায়মান বেশ কয়েকবার আমেরিকায় যান। সেখানে প্রবাসী বাঙালিদের সমন্বয়ে গঠিত দল- বাংলাদেশ থিয়েটার অব আমেরিকার প্রযোজনায় সাতটি নাটক মঞ্চায়ন করেন। শিল্পচর্চার স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৪ সালে একুশে পদক লাভ করেন তিনি। মঞ্চনাটকে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি রংপুর পদাতিক সম্মাননা (১৯৮৮), বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডা সম্মাননা (১৯৯৪), বাংলাদেশ থিয়েটার অব আমেরিকা সম্মাননা (১৯৯৫), বাংলাদেশে চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি পুরস্কার (১৯৯৬), বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব লসএঞ্জেলেস সম্মাননা (১৯৯৬), সুবচন নাট্য সংসদ (১৯৯৬), চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা সম্মাননা (১৯৯৭), থিয়েটার আর্ট ইউনিট সম্মাননা (১৯৯৮), মহাকাল নাট্য স¤প্রদায় সম্মাননা (২০০০), আরণ্যক নাট্যদলের ‘দীপু স্মৃতি পদক’ (মরণোত্তর-২০০১) এবং ঢাকা পদাতিকের ‘আবুল কাশেম দুলাল স্মৃতি পদক’ (মরণোত্তর- ২০০২) লাভ করেন। তার রচিত ও নির্দেশিত নাটক আমিনা সুন্দরী আমেরিকার অফ ব্রডওয়েতে মঞ্চস্থ প্রথম বাংলা নাটক হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ১৯৮৩ সালে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার স্ত্রী রোকেয়া রফিক বেবী এবং একমাত্র কন্যার নাম আনিকা মাহিন একা।

:: পাভেল রহমান

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj