সর্বজনীন দর্শকের প্রিয় নায়ক সালমান শাহ

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অনেক কিছুই হতে পারত। কিন্তু তা না করে এলেন দেখলেন মন জয় করে চলে গেলেন। খুবই অল্প সময় বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে রাজত্ব করলেন কিংবদন্তি অভিনেতা সালমান শাহ। বেঁচে থাকলে এই ২০১৯-এ তার বয়স হতো ৪৮ বছর। কিন্তু তা নয়, কোনো এক অভিমানে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালে চলে যান না ফেরার দেশে। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের দরিয়াপাড়ায় নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। দুই ভাইয়ের মধ্যে সালমান বড়। ছোট ভাই শাহরান চৌধুরী ইভান। ছোটবেলায় তিনি ছিলেন কণ্ঠশিল্পী। ইমন নামে অভিনয় জীবন শুরু হয় বিটিভিতে শিশুশিল্পী হিসেবে। আর ১৯৯৩ সোহানুর রহমান সোহানের হাত ধরে আসেন চলচ্চিত্রে। কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে হয়ে ওঠেন কোটি কোটি ভক্তের নায়ক। প্রথম ছবি দিয়েই জয় করে নেন সারাদেশের মানুষের মন। আজো মানুষের মুখে মুখে ফেরে তার ছবির নাম। কেউ কেউ হয়তো মনের অজান্তে গুনগুনিয়ে ওঠেন তার অভিনীত ছবির গান। স্টাইল আর অভিনয় দিয়ে বদলে দিয়েছিলেন বাংলা ছবির প্রেক্ষাপট। ক্যারিয়ারের অল্প সময়ে মাত্র ২৭টি ছবিতে অভিনয় করেন। তার প্রায় প্রতিটি ছবি ছিল ব্যবসাসফল। সালমানের সর্বমোট মুক্তিপ্রাপ্ত ২৭টি। যার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। আদালত থেকে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও তার পরিবার ও ভক্তদের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা এখনো বিচারাধীন।

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া কেয়ামত থেকে কেয়ামত, দেনমোহর, তোমাকে চাই। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় বিক্ষোভ, আনন্দ অশ্রæ, চাওয়া থেকে পাওয়া, বিচার হবে। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় জীবন সংসার, মহামিলন, স্বপ্নের পৃথিবী, স্বপ্নের ঠিকানা, এই ঘর এই সংসার। ১৯৯৬ সালে মুক্তি পায় কন্যাদান, মায়ের অধিকার, প্রেম যুদ্ধ, সত্যের মৃত্যু নাই, সুজন সাথী, স্বপ্নের নায়ক, তুমি আমার। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় বুকের ভেতর আগুন, প্রেমপিয়াসী।

যেসব নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছেন সালমান, তাদের মধ্যে আছেন, সোহানুর রহমান সোহান, জহিরুল হক, মুহম্মদ হান্নান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, শিবলী সাদিক, শফি বিক্রমপুরী, শাহ আলম কিরণ, দেলায়ার জাহান ঝন্টু, নুরুল ইসলাম পারভেজ, মালেক আফসারী, বাদল সরকার, মতিন রহমান, দিলীপ সোম, ছটকু আহমেদ, জাকির হোসেন রাজু।

চলচ্চিত্র অভিনয়ে সালমান শাহর নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন, শাবনূর, মৌসুমী ছাড়াও অভিনয় করেছেন শাবনাজ, লিমা, শিল্পী, শ্যামা, সোনিয়া, দৃষ্টি, সাবরিনা ও কাঞ্চি। মৃত্যুর আগে বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন পরে কাজ করতে পারেননি। সেগুলো হচ্ছে- শেষ ঠিকানা, প্রেমের বাজি, আগুন শুধু আগুন, কে অপরাধী, মন মানে না, ঋণ শোধ, তুমি শুধু তুমি। চলচ্চিত্র ছাড়াও পাথর সময়, ইতিকথা, আকাশছোঁয়া, দোয়েল, সব পাখি ঘরে ফেরে, সৈকত সারস, নয়ন নামে টিভি নাটকে অভিনয় করেছেন সালমান। এ ছাড়াও হয়েছেন ইস্পাহানী গোল্ডস্টার টি, জাগুয়ার কেডস, মিল্কভিটা, কোকাকোলা এবং ফান্টার মডেল। এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে মৃত্যুর ২৩ বছর। তারপরও কমেনি তার আবেদন, তার প্রভাব রয়েছে কোটি ভক্তের মনে। অনেকেই হয়তো মনে করেন অকাল মৃত্যুই সালমানকে অমরত্ব দিয়েছে। তর্ক-বিতর্ক যাই হোক, আজো সালমানের মতো জনপ্রিয়তায় সমক্ষক এই দেশের চলচ্চিত্রে কেউ নেই। সালমান বেঁচে থাকবেন তার ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

:: মেলা প্রতিবেদক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj