বিতর্কিত ৫ সুন্দরী প্রতিযোগিতা

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

যারা ভাবেন সুন্দরী প্রতিযোগিতা শুধু আলো ঝলমলে, জাঁকজমক, হাসি-আহ্লাদ, বিজয়ের গল্প ও সাফল্যের হাতছানিতে ভরা তাদের অবশ্যই জানা উচিত এই পাঁচটি বিতর্কিত সুন্দরী প্রতিযোগিতার ঘটনা। এসব ঘটনার মধ্যে অনেক সাহসিকতার নজিরও আছে। কলঙ্কই কারো কারো জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে বৃহত্তর ও মহত্তর উদ্দেশ্যে পরিচালিত করেছিল। এই সুন্দরের প্রতিযোগিতায় অসুন্দরের প্রভাবের কোনো কমতি নেই, কোনোদিন ছিলও না। এ প্রতিযোগিতা থেকেই কেউ খুঁজে নেয় তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্য, আর কেউ হারিয়ে যায় চিরতরে। পৃথিবী নাড়িয়ে দেয়া পাঁচটি সুন্দরী প্রতিযোগিতা সম্পর্কিত বিতর্কিত ঘটনা আজ থাকছে মেলার পাঠকদের জন্য

মিস ওয়ার্ল্ড ১৯৭৪

১৯৭৪ সালে মিস ওয়ার্ল্ডের ২৪তম আসরে বিজয়ী হন ইংল্যান্ডের হেলেন মরগান। কিন্তু মুকুট পরার চারদিনের মাথায় মিডিয়া আবিষ্কার করে যে তার একটি ১৮ মাস বয়সী পুত্র সন্তান রয়েছে। ফলে তাকে খেতাব ও মুকুট পরিত্যাগ করতে হয়। অফিসিয়ালভাবে মুকুট ত্যাগ করা প্রথম মিস ওয়ার্ল্ড তিনি। সাউথ আফ্রিকার অ্যানেলিন ক্রিয়েল তার স্থলাভিষিক্ত হন।

মিস আমেরিকা ১৯৮৪

এই বছর মিস আমেরিকা হন নিউ ইয়র্কের ভেনেসা উইলিয়ামস। তিনিই এই প্রতিযোগিতা জেতা প্রথম আফ্রো-আমেরিকান নারী। আসর জয়ের পরে হঠাৎ একদিন ‘পেন্টহাউস’ ম্যাগাজিন তার কিছু নগ্ন ছবি প্রকাশ করলে তিনি তার খেতাব হারান। তার জায়গাটি দেয়া হয় প্রথম রানার আপ, নিউ জার্সির সুজেট চার্লসকে। ভেনেসা ছিলেন বর্ণপ্রথার প্রতিবন্ধকতা ভাঙার গৌরব, রাতারাতি হয়ে গেলেন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।

মিস ইউনিভার্স ১৯৯৬

সাল ১৯৯৬, মিস ইউনিভার্সের ৩৫তম আসর। মুকুট পরেছিলেন ভেনেজুয়েলার অ্যালিসিয়া মাচাদো। মুকুট পরার কিছুদিনের মাথায় খবরের শিরোনামে চলে আসে যে অ্যালিসিয়ার হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়াতে কর্তৃপক্ষ তাকে সরিয়ে রানার আপ তারিন ম্যানসেলকে বিজয়ী ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত অ্যালিসিয়া তার জায়গা ধরে থাকতে সমর্থ হলেও মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ বিশ্ববাসীর কাছে নিন্দিত হয়। তারা যে শুধু দেহভিত্তিক সৌন্দর্যের বিচার করছে তা সবার কাছে প্রকট হয়ে ওঠে। খবরের কাগজ ছেয়ে যায় অ্যালিসিয়ার ওয়ার্ক আউট করার ছবি আর তাকে ওজন ঝরাতে বাধ্য করানোয় কর্তৃপক্ষের নিন্দায়। সে সময় মিস ইউনিভার্সের এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার ছিলেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিন্দায় ভেসে যান ট্রাম্প এবং ব্যাপারটিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বসেন হিলারি ক্লিনটন। নিঃসন্দেহে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের জন্য বড়সড় স্ক্যান্ডাল ছিল এই আসর।

মিস ওয়ার্ল্ড ১৯৯৮

১৯৯৮ সালে মিস ওয়ার্ল্ডের ৪৮তম আসরে মুকুট পরেন ইসরায়েলের লিনর অ্যাবারজিল। আসর জেতার কয়েকদিন পরে তিনি প্রকাশ করেন যে প্রতিযোগিতার কয়েক মাস আগে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তাকে ছুরির মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করেছিল তার ট্রাভেল এজেন্ট ইউরি শ্লোমো নূর। প্রথমদিকে শক্ত প্রমাণের অভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু পরে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সেই ধর্ষকের ১৬ বছরের কারাদণ্ড হয়। অ্যাবারজিল নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে অন্য মেয়েদের অনুপ্রাণিত করার কাজ শুরু করেন। তখন থেকে তিনি বিশ্বজোড়া যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে একজন প্রতিবাদী অধিবক্তায় পরিণত হন।

মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৪

২০১৪ সালের মিস ওয়ার্ল্ডের ৬৪তম আসরের প্রস্তুতিপর্বে হন্ডুরাসের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হন মারিয়া জোসে আলভারাডো। কিন্তু মূল আসরের অনতিকাল পূর্বে ১৯ নভেম্বর ২০১৪ রহস্যজনকভাবে মিস হন্ডুরাস ওয়ার্ল্ড মারিয়া ও তার বোন সোফিয়া খুন ও কবরস্থ অবস্থায় ক্যাবলোটেলস গ্রাম থেকে উদ্ধার হন। ১৯ বছর বয়সী সেই সুন্দরীর সম্মানার্থে মিস হন্ডুরাস প্রতিযোগিতার আয়োজকরা তার জায়গাটি অন্য কাউকে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে সে বছর হন্ডুরাস আনুষ্ঠানিকভাবে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়ে।

:: মেলা ডেস্ক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj