আপিলের সুযোগ নেই এনআরসি থেকে বাদ ১৯ লাখ মানুষের

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : আসামের পর, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশে এনআরসি কার্যকরে তোড়জোড় চলছে। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আপিল আবেদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে কেন্দ্র ও আসাম সরকার। আসামের সরকারি স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি বলছে, চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় যে ১৯ লাখ বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, ফের আপিল আবেদনের সুযোগ নেই তাদের। ট্রাইব্যুনালে যাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে, তারাও তালিকায় ঠাঁই পেতে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না। জাতীয় নাগরিক তালিকায় কেবল হিন্দু-মুসলিম-ই নন, বাদ পড়েছেন আসামের বহু আদিবাসী। কেবল নগাও জেলার দারা পাথারের ১২ হাজার বাসিন্দার ৫ হাজারেরই নাম নেই চূড়ান্ত এনআরসিতে। যে তালিকায় আছেন দলু, হাজং, কুচরাও। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কর্মসূচি তাদের।

শত প্রতিবাদের মাঝেও নিজেদের পথে অটল আসাম সরকার। বাদ পড়া ১৯ লাখের জন্য এরই মধ্যে পুরোদমে বন্দিকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে গোয়ালপাড়ার পশ্চিম মাটিয়া এলাকায়।

আসাম রাজ্য সরকারের জুনিয়র প্রকৌশলী রবিন দাস বলছেন, এখানে ১৫টি চার তলা ভবন তৈরি হচ্ছে। ১৩টি পুরুষদের জন্য এবং ২টি নারীদের জন্য। পৃথক বাথরুম, হাসপাতাল, রান্নাঘর, খাবার এমনকি স্কুলও থাকছে এখানে।

আসামে যখন এমন প্রতিবাদ তখন হরিয়ানার পর, এবার উত্তর প্রদেশেও এনআরসি কার্যকরের তোড়জোড় শুরু করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ বলেন, মোদি সরকারকে তার সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ। উত্তর প্রদেশেও এনআরসির সম্ভাবতা যাচাই চলছে। প্রয়োজনে এখানে ধাপে ধাপে এনআরসি হবে। অবশ্য, বাদ পড়াদের আপিল আবেদন নিয়ে বিভ্রান্তি শুরু হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দাবিতে।

আসামের স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি বলছে, চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায়, বিদেশি চিহ্নিত ১৯ লাখের ফের আপিল আবেদনের সুযোগ নেই। আর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে যাদের সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে, তারাও তালিকায় ঠাঁই পেতে, নতুন করে আবেদন করতে পারবেন না। তবে কেন্দ্র বলছে, কাউকে রাষ্ট্রহীন কিংবা বিদেশি বলছেন না তারা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাভিশ কুমার বলেন, বাদ পড়াদের পূর্ণাঙ্গ আপিল আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এজন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেয়া আছে। কেউ ফরেনার্স টাইব্যুনালে সন্তুষ্ট না হলে, উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন। বাদ পড়ারা রাষ্ট্রহীন নন; তাদের বিদেশি হিসেবেও ঘোষণা করা হবে না।

বলা হচ্ছে, আপিল আবেদনের পর, বিদেশি টাইব্যুনাল থেকে নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই, একজন ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট অথবা তার প্রতিনিধির কাছে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। স্থানীয় জেলা কর্মকর্তা তা সত্যায়ন করবেন এবং কেস গ্রহণের পর এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে আবেদনকারীকে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj