দুঃখ পুষে রাখার মানুষ আমি নই : প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘গুমনামি’ সিনেমায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। এই সিনেমা ঘিরে সা¤প্রতিক বিতর্ক, ফিল্ম ফেস্টিভালের চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়া ও কটু কথার জবাবে তিনি কথা বলেছেন ভারতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে। তারই চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো মেলার পাঠকদের জন্য

প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ইদানীং খুব চুপচাপ মনে হচ্ছে!

প্রসেনজিৎ : চুপচাপ? না-না। আমি তো কখনই খুব একটা ভোকাল নই। আর ম্যাচিওরিটি, বয়স সবটাই তো বাড়ছে। তাই সব দিক থেকে বোধহয় চুপচাপ থাকাটাই ভালো।

ইলেকশনের পর থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনৈতিক গন্ধটা বড্ড বেশি করে আসছে কি?

প্রসেনজিৎ : ইন্ডাস্ট্রি পলিটিসাইজড বিগত সাত-আট বছর ধরেই হচ্ছে। তাই ইলেকশনের সঙ্গে এন্টারটেনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক নেই। কে কোন দলে যাবেন, সেটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।

সেটা কি আল্টিমেটলি কাজে প্রভাব ফেলবে না?

প্রসেনজিৎ : আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে আগে কেউ রাজনীতির দিকে ঝোঁকেনি, এমন তো নয়! হ্যাঁ, এখন ব্যাপারটা অফিশিয়ালি হচ্ছে। একজন সিনিয়র হিসেবে এটুকু বলতে পারি, ইন্ডাস্ট্রিকে রাজনীতিমুক্ত রাখা হোক। আর রাজনৈতিক রংয়ের কারণে একজন অন্য জনের সঙ্গে কাজ করবে না, সেটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে হয়ই না, যদি না সেখানে ব্যক্তিগত সমস্যা থাকে। রাজ্য বা কেন্দ্রে যে পার্টিই থাকুক, তাদের সাহায্য আমাদের আজীবন দরকার হয়েছে, হবেও। সেই প্ল্যাটফর্মটা থাকা দরকার, যেখান থেকে আমরা তাদের কাছে গিয়ে সেই প্রয়োজনীয়তার কথাটুকু বলতে পারি।

ফিল্ম ফেস্টিভালের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়াটা কি আপনার সম্মানে আঘাত করেছে?

প্রসেনজিৎ : দেখুন, আজ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল আমাকে অসম্মান করেনি। সেটা আমি স্টার প্রসেনজিৎ বলে নয়, মানুষ প্রসেনজিৎকে ওরা রেসপেক্ট করে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী হয়তো কিছু বুঝেছেন বা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, যে কারণে এই সিদ্ধান্ত। মাত্র ছ’মাস আগেই আমি বলেছিলাম, এবার ফেস্টিভালের ২৫ বছর বলে গৌতমদা (ঘোষ), বাবুদারা (সন্দীপ রায়) সামলাক। আমি পাশে থেকে পুরো কাজটা করে দেব। যে লোকটা এটা বলল, তাকে সরানোর আগে কেউ একবার জিজ্ঞেসও করল না, তোমার কি কোনো অসুবিধে হচ্ছে? বা সময় নেই? এটা আমার কাছে কষ্টের। আমার একমাত্র অপরাধ, আমি ইন্ডাস্ট্রির জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গিয়েছি। তবে দুঃখ পুষে রাখার মানুষ আমি নই।

ঘটনাটির পরে ফোন এসেছিল?

প্রসেনজিৎ : সিএমের অফিস থেকে ফোন এসেছিল, একটি কমিটি তৈরি হবে, তাতে থাকার জন্য। কিন্তু সেখানে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে সিএমের ফোন আসেনি, উনি হয়তো ব্যস্ত ছিলেন।

টিভির পর্দায় সুগত বসু ‘গুমনামি’কে এবং আপনাকে প্রবলভাবে আক্রমণ করেছেন। তার উত্তরে কী বলবেন?

প্রসেনজিৎ : অভিনেতারা তো এই ধরনের কথা শোনার জন্য জন্মেছেন। তারা সম্পূর্ণ হন না, যদি না লাঞ্ছনা সহ্য করেন। এবং তা সহ্য করার ক্ষমতা ঈশ্বর আমাদের দিয়েছেন। উনি একটা ক্যামেরা ও প্ল্যাটফর্ম পেয়ে যা যা বক্তব্য ছিল, বলেছেন। আমি তো টিভিতেও রিঅ্যাক্ট করিনি। কারণ উনি বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। আমি ওকে সম্মানটা দিয়েছি। অভিনেতার সবচেয়ে বড় শিক্ষাই হলো ‘শালা’ না শুনলে ‘গুরু’ শুনতে ভালো লাগবে না।

ইডির জেরা কি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সাদা কলারে দাগ?

প্রসেনজিৎ : না, আমি ব্যাপারটা এভাবে দেখি না। এ রকম চিঠি যখন পাঠানো হয়, তার একটা সিস্টেম আছে। তবে ডকুমেন্ট দেখে ওরা সন্তুষ্ট।

আর্টিস্ট ফোরাম নিয়েও তো অনেকের অভিযোগ যে, ফোরাম টাকাপয়সা সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে পারছে না?

প্রসেনজিৎ : কোথায় মেটাতে পারেনি? যদি কোনো শিল্পী মনে করেন, আর্টিস্ট ফোরাম বিগত ২০-২৫ বছর ধরে আর্টিস্টদের জন্য কাজ করেনি, তারা যেন ফোরামে এসে মেম্বারশিপের কার্ডটা জমা দিয়ে যায়।

:: মেলা ডেস্ক

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj