তোমার জন্মদিনে

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সাধন সরকার

সবেমাত্র অফিস থেকে ফিরছি। যে কথাটি আমি মনে মনে ভাবছিলাম সেই কথাটি আমাকে শুনতে হলো! নীলা বলল, ‘বিয়ের এক বছর আজ শেষ হলো। কিন্তু চার দেয়ালে বন্দি জীবন ছাড়া আর কিছুই পেলাম না! এর চেয়ে বিয়ের আগের জীবন কতই না মজার ছিল!’

আমি নীলার কথা শুনেও না শোনার ভান করলাম! যদিও কথাগুলো আমাকে শোনানোর জন্যই বলা। নীলা জানে স্বল্প বেতনের টানাটানির এই নতুন সংসারে কীভাবে দুজনকে চলতে হচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম নীলা হয়তো ভুলে যাবে আমাদের বিবাহবার্ষিকীর কথা! কিন্তু নীলার জন্মদিন ও বিবাহবার্ষিকী একই দিনে পড়েছে। তাই কোনোভাবেই যেন ভুলে যাওয়ার নয়! ঠিক করে রেখেছিলাম হাতে কিছু বেশি টাকাপয়সা এলে নীলাকে একসঙ্গে সারপ্রাইজ দিব, কিন্তু বিধিবাম! খানিকপর পরিপাটি হয়ে নীলা বলল, ‘চলো।’

আমি বললাম, কোথায়?

ও বলল, যেদিকে দু’চোখ যায়!

নিজেকে বড় অসহায় অসহায় লাগছে। আজ এমন একটা দিনে নীলাকে কিছুই দিতে পারলাম না। নীলা আমাকে সেখানে নিয়ে গেল যেখানে বিয়ের আগেও আমরা প্রায়ই যেতাম। শহরের এই ছোট্ট লেকটিকে ঘিরে আমাদের অনেক স্মৃতি আছে। নীলাকে বেশ চনমনে মনে হচ্ছে। মনে যেন কোনো না পাওয়ার বাসনা নেই, নেই কোনো আকাক্সক্ষা।

এই লেকটার কাছে আসলেই নীলার মন যেন ভালো হয়ে যায়। পরিচয় হওয়ার পর থেকে নীলার প্রত্যেকটা জন্মদিন এখানে এসে উদযাপন করতাম। এখন যোগ হয়েছে আবার বিবাহবার্ষিকীর আয়োজন! বিকেলের সোনারোদে লেকের স্বচ্ছ জলে নীলার ছায়া পড়েছে। লেকের জলের ওপর মৃদু বাতাস মিশে যাওয়ার ছন্দে নীলার ছায়া যেন দোল খাচ্ছে।

হঠাৎ নীলা বলল, আমি জানি তোমার হাতের অবস্থা ভালো নয়, সব চাওয়া পাওয়া মানুষকে আনন্দ দিতে পারে না। এখানে আসলে আমার মনটা ভালো হয়ে যায়। তাই এই লেকটাতে আসা।

অতঃপর বাসায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এমন সময় এক বন্ধুর ফোন, ‘বন্ধু, গত তিনমাস আগে আমরা যে প্রাইজবন্ডের লটারির টিকেট কিনেছিলাম তাতে প্রথম পুরস্কারটা তুমিই পেয়েছো।’ এই লটারির টিকেটটা কিনা ছিল মূলত নীলার নামেই!

:: ঢাকা

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj