মিউনী’র ১ যুগের গল্প

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আশরাফুল ইসলাম রানা

সৌন্দর্যসেবায় নিজস্বতা দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন তানজিমা শারমিন মিউনী। ২০০৪-পরবর্তী সময়ে বিউটি পার্লার ব্যবসায় নিজের সম্পৃক্ততা শুরু। শুরুতে হেয়ার কাট নিয়ে কাজ করলেও ব্রাইডাল এবং কনটেম্পরারি এক্সপেরিমেন্টাল মেকওভারেও দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। প্রচারবিমুখ এই রূপ বিশেষজ্ঞ এবার শুরু করেছেন ভিন্নধর্মী বিউটি ও ট্রেন্ড বিষয়ক টিভি শো গø্যামার ডটকম। কোনো রূপ বিশেষজ্ঞ হয়ে নিজের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, নিজের বিউটি সেগমেন্ট নিয়ে ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও পরিচালনার নজির দেশীয় মিডিয়ায় একেবারেই আনকোড়া, মন্তব্য ফ্যাশন সংশ্লিষ্টদের। ধীরে পথচলা মিউনী’র ১২ বছরের কাজের আদ্যোপান্তের খোলামেলা আলাপই থাকছে এবার।

সৌন্দর্যসেবা সংশ্লিষ্টদের কাছে তানজিমা শারমিন মিউনী একটি পরিচিত নাম। বাবা রাজশাহীর সাবেক সংসদ সদস্য হলেও নিজে রাজধানীতে পা বাড়াননি। পড়াশুনার ইতি টেনেছেন আইন বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না নিয়েই। বিয়ের পর ২০০০ সালের দিকে নিউইয়র্ক থেকে হেয়ার কাটের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে মিউনী ঢাকায় শুরু করেন নিজেদের বিউটি পার্লার- হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল। বর্তমানে মিউনী’স ব্রাইডাল নামে যা পরিচালিত হচ্ছে রাজধানীর ধানমন্ডি ও উত্তরাতে।

সৌন্দর্যসেবা যথেষ্ট সম্ভাবনার একটি খাত বলে মনে করেন এই রূপ বিশেষজ্ঞ। বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করলে এর গুরুত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মিউনী মনে করেন সৌন্দর্যচর্চা এখন কেবল শৌখিনতা নয়, প্রয়োজনও বটে। নিজের যতœ নেয়া অথবা নিজের সৌন্দর্য ঠিকঠাক ফুটিয়ে তোলার বিষয়ে কমবেশি সবাই সচেতন এখন। এটি অবশ্য খুবই আশার কথা। এখন বেশিরভাগ মানুষই চান নিজেকে সুন্দর করে তুলতে, তবে অতিরিক্ত মেকআপের সাহায্যে নয়।

মিউনীর পিক্সি কাটে নিজের চুলের স্টাইলের জন্যও সেবাগ্রহীতাদের মাঝে রয়েছে বাড়তি গ্রহণযোগ্যতা। সবার কাছে মিউনী নামে পরিচিত এই রূপ বিশেষজ্ঞ শুধু চুলের কাটে নয়, পোশাকের ক্ষেত্রেও তৈরি করেছেন নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট।

ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে তরুণীদের মাঝে ত্বক, চুল ও মেকআপ নিয়ে বেড়েছে সচেতনতা। ভিডিও টিপস ট্রিকস টিউটোরিয়াল দিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তরুণ প্রজন্মের ব্লুগারও এখন বেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে সৌন্দর্যচর্চা নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়লেও এ বিষয়ে পড়াশোনার তেমন সুযোগ দেশে নেই বলে জানালেন মিউনী। এমনকি এ দেশে সৌন্দর্যসেবার অনেক ধাপে ব্যবহৃত নানা মেকআপ এবং বিউটি পণ্যের জোগানও নেই দেশীয়ভাবে। বরং সৌন্দর্যসেবায় বিদেশি পণ্য ব্যবহারে রয়েছে ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত সরকারি বিভিন্ন সংস্থার আইনি জটিলতা।

কথায় কথায় উঠে আসে নানা উত্থান আর চলতি পথের বাঁকবদলের গল্পও। হঠাৎই ছুড়ে দেয়া হলো ২০১৪-এর ১৪ অক্টোবর নতুনভাবে যাত্রা শুরু হওয়া নিজস্ব সিগনেচার প্রতিষ্ঠান মিউনী’স ব্রাইডাল ও আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী? বর্তমান নিয়েই থাকতে চান- মিউনীর সোজাসাপ্টা উত্তর। আজকে যেটা করছেন, সেটা খুব মন দিয়ে করলে ভবিষ্যতে সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে আপনাতেই- এমনটাই বিশ্বাস মিউনীর। এ ধারণা দিয়েই স্বাধীনচিন্তায় সমৃদ্ধভাবেই বড় করে তুলছেন এ লেভেল পড়–য়া একমাত্র মেয়ে নাফিয়া নাজমিকে।

তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক করে পরবর্তী সময়ে এই পেশায় কেন? জানান, ছোটবেলা থেকেই অন্দরসজ্জা, আলপনা আঁকা, ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল। বড়বেলায় এসে নিজের কাপড় ডিজাইন, সেলাই বা নিজের প্রতিষ্ঠান বা বাসার ইন্টেরিয়রের মতো বিষয়গুলোও প্রাধান্য পেয়েছে। আসলে প্রয়োজন আমাকে এ পেশায় এনেছে। তাই নিয়তিকে নিয়তির ওপর ছেড়ে রাখতেই পছন্দ করেন তিনি।

কাজের জায়গায় নানা ধরনের আবদার থাকে যারা সার্ভিস নিতে আসেন। পাশাপাশি সামনেই ব্রাইডাল নিয়ে বাড়বে ব্যস্ততা। এ ব্যাপারটি নিয়ে কিছু বলেন? ব্রাইডাল মেকআপের ক্ষেত্রেও সবাই সাধারণ সাজেই থাকতে চান জমকালো। অনেকেই এসে আবদার করেন, যেন চেহারা বদলে দেয়া না হয়। এ ক্ষেত্রে মিউনি মনে করেন হেয়ার সেটিং অথবা হেয়ার কাটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেবল চুলের সাজের সাহায্যেই একজনের চেহারায় নিয়ে আসা যায় আমূল পরিবর্তন। তাই মিউনি সবসময়ই নিজের কাজে চুলের সাজকে দেন বাড়তি প্রাধান্য।

উদ্যোক্তা হিসাবে ব্যবসা সামলানো এরপর সাজ-হেয়ারকাট নিয়েও রয়েছে ব্যস্ততা। সবকিছু সামলিয়ে দুই সপ্তাহ শুরু করেছেন নতুন ঘরনার টিভি শো গøামার ডট কম। রূপ বিশেষজ্ঞ ও হেয়ার কাট এক্সপার্ট হিসাবে চেনাজানা গন্ডির বাইরে নতুন কাজ, কেমন লাগছে? আসলে ভিজ্যুয়ালে এতোদিন কাজ করা হয়েছে বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানের কনটেন্ট সহযোগী হয়ে। কিন্তু এবার কাজ করছি পুরাটাই নিজের জন্য। বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আরটিভির সৌহার্দপূর্ণ সহযোগীতাই কাজে আরো উৎসাহী করেছে আমাকে। নিজের পরিকল্পনা, কন্টেন্ট তৈরি এবং পরিচালনা নিয়ে আসলে বেশ ব্যস্ততাই যাচ্ছে। টিভিতে আমার শোতে বিউটিফিকেশন, টিউটোরিয়াল, ফটোশ্যুট, ফ্যাশন সেগমেন্ট ও থাকছে উপস্থাপনার ভিন্নতায়। নিজে টিভির নেপথ্যের কলাকুশলী না হয়েও কাজটা করে যাচ্ছি সকলের উৎসাহে। প্রতি মঙ্গলবার করে অনুষ্ঠানটি দেখানো হচ্ছে আরটিভির পর্দায়।

কাজ আর কাজ, নিভৃতেই পার করে দিয়েছেন ১ যুগ। এই দীর্ঘসময়ে পেশা থেকে প্রাপ্তি কতটুকু- এমন প্রশ্নে মিষ্টি হেসে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী মিউনির উত্তর, সামনের দিনগুলা নিয়ে সুদূরপ্রসারী চিন্তা নেই কখনই। কিন্তু সবসময়ই চেষ্টা ছিল ভালো কিছু করার। সাজানো-গোছানোর প্রতি ভালো লাগা থেকেই একসময় এই পেশায় আসা। তাই আমার কাজটাকে শত ভাগ দেয়ার চেষ্টা আমার থাকে।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj