আফিফ ঝলকে দুর্দান্ত জয় টাইগারদের

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : ধ্বংসস্ত‚পের মাঝে দাঁড়িয়েও কীভাবে লড়াই করতে হয় সেটার নজির দেখালেন ১৯ বছর বয়সী আফিফ হোসেন ধ্রæব। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই দলকে জেতানো দুর্দান্ত ইনিংস খেললেন তিনি। আর তাকে সঙ্গ দিয়েছেন আরেক তরুণ ক্রিকেটার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সিনিয়রদের ব্যর্থতার পরেও আফিফ-সৈকতের ব্যাটিং ঝলকেই জয় দিয়ে ঘরের মাঠে চলমান ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের পথচলা শুরু করতে পেরেছে টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের দেয়া ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞরা ব্যর্থ হয়েছেন প্রত্যাশানুযায়ী ব্যাটিং করতে। আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন লিটন, সাব্বির ও সৌম্যের মতো দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলা ব্যাটসম্যানরাও। সিনিয়রদের ব্যর্থতার দিনে ঝলক দেখিয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার আফিফ হোসেন ধ্রæব। মাত্র ৬০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে টাইগাররা যখন হারের প্রহর গুনছিল তখন ক্রিজে আসেন তিনি। আর চরম বিপর্যয়ের মুখে ব্যাটিংয়ে এসেই ব্যাট হাতে ২২ গজে ঝড় তোলেন এই তরুণ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই দলকে জয় এনে দেয়া নান্দনিক ইনিংস খেলেন তিনি। তার ২৬ বলে ৫৬ রানের ইনিংসেই মূলত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আফিফ ছাড়াও এই ম্যাচে আরেকজন টাইগার ব্যাটসম্যানের কথা বিশেষভাবে বলতে হবে। তিনি হলেন মোসাদ্দেক হোসেন। এ দিন ২৪ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন তিনি। মূলত, মোসাদ্দেক-আফিফের ৮২ রানের জুটির সুবাদেই ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে জয়ের নায়ক আফিফ হোসেন ধ্রæবকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে আফিফ হোসেন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। বিসিবি সভাপতি জানান, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচটি উপভোগ করেছেন এবং টাইগারদের জন্য দোয়া করেছেন। ৫৬ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলায় ম্যাচসেরা হন আফিফ হোসেন ধ্রæব।

ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে এ দিন টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে হ্যামিল্টন মাসাকাদজার নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ে। এই ম্যাচ দিয়েই টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলামের। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই তাকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক সাকিব। ব্রেক থ্রুও এনে দেন তাইজুল। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই জিম্বাবুয়ের ওপেনার ব্রেন্ডন টেইলরকে সাজঘরে ফেরান তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অভিষেক ম্যাচের প্রথম বলেই উইকেট পাওয়া ১৫তম বোলার তাইজুল। তার অফস্টাম্পের কিছুটা বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে লংঅনে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দেন অভিজ্ঞ টেইলর। জিম্বাবুয়ের ইনিংসে পরের আঘাতটি আনেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। টেস্ট সিরিজে দলের বাইরে থাকা এই পেসার সপ্তম ওভারে ক্রাইগ আরভিনকে আউট করেন। মোস্তাফিজের বলে বিগ শট খেলতে গিয়ে মোসাদ্দেকের হাতে ক্যাচ দেন আরভিন। তবে এর মধ্যে এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক মাসাকাদজা। কিন্তু ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি তিনি। আউট হন ব্যক্তিগত ৩৪ রানে। মাসাকাদজা যখন আউট হন তখন রোডেশিয়ানদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৫৬ রান। এরপর আর ৭ রান তুলতেই শেন উইলিয়ামস ও টিমিসেন মারুমার উইকেট হারায় তারা। ফলে ৬৩ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট ফেলে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সাকিবের দল। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে হাল ধরেন রায়ান বার্ল ও টিনোটেন্ডা মতোম্বডজি। ৮১ রানের জুটি গড়ে দলকে লড়াকু স্কোর এনে দেন তারা। বাংলাদেশের পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন তাইজুল, মোসাদ্দেক, সাইফউদ্দিন ও মোস্তাফিজ।

১৮ ওভারে ১৪৫ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতাটা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। তাও নিজেদের চিরচেনা মাঠে। কিন্তু শুরুতে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এই লক্ষ্যটাই কঠিন করে তোলেন টাইগার ব্যাটসম্যানরা। উদ্বোধনী জুটিতে দলকে ২৬ রানের শুরু এনে দেন দুই ওপেনার লিটন দাশ ও সৌম্য সরকার। তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি সহজেই জিততে যাচ্ছে স্বাগতিকরা। কিন্তু সব হিসেব-নিকেশ এলোমেলো হয়ে যায় মাত্র ৫ বলের ব্যবধানে। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে বোল্ড হন লিটন। তাকে আউট করেন চাতারা। পরের ওভারের প্রথম তিন বলে সৌম্য ও মুশফিককে সাজঘরের পথ দেখান কাইল জারভিস। দলের চরম বিপর্যয়ে হাল ধরতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক সাকিবও। ফলে মাত্র ২৯ রানের মধ্যেই ৪ উইকেটে হারিয়ে যেন ধ্বংসস্ত‚পে পরিণত হয় টাইগারদের ব্যাটিং লাইনআপ। পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাব্বির রহমান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাহমুদউল্লাহ ১৪ ও সাব্বির ১৫ রানে আউট হন। টাইগারদের সংগ্রহ তখন ৬ উইকেটে ৬০ রান। সাব্বিরের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন আফিফ হোসেন। এসেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। মাত্র ৩০ বলে ৫০ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিতে থাকেন মোসাদ্দেক-আফিফ। এ দিন মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন আফিফ হোসেন।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj