এনআরসি আতঙ্ক : পুরনো নথির খোঁজে শত শত মানুষ কলকাতায়

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জিতে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার ফলে তাদের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাদের এবার কী হবে- আটক করে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে, না কি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে, তা নিয়ে সংবাদপত্রে, সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা চলছে। আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ছিলেন, এখন আসামে থাকেন, তবে সেখানকার এনআরসিতে নাম ওঠেনি, এরকম বহু মানুষ রোজ ভিড় করছেন কলকাতার রাজ্য লেখ্যাগার বা স্টেট আর্কাইভসে। এরকমই দুজন, আসামের কোকরাঝাড় জেলার বাসিন্দা শাহিদ আলি আর সেকেন্দর আলি।

এই সরকারি আর্কাইভসে রাখা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সব ভোটার তালিকা। ভোটার তালিকায় কারো নাম আছে কী না, তা খতিয়ে দেখে স্টেট আর্কাইভসই একমাত্র সার্টিফায়েড কপি দেয়ার অধিকারী। সেই সার্টিফায়েড কপি আদালতে গ্রহণযোগ্য।

আসামের বাসিন্দা শাহিদ আলি আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ছিলেন। নদী ভাঙার পরে তিনি আসামের কোকরাঝাড়ে গেছেন রোজগারের আশায়। পুরনো গ্রামের পঞ্চায়েত সার্টিফিকেট দিয়েছে যে তিনি আদতে সেখানকার লোক, এখন আসামে আছেন।

আমার বাবা-দাদা সবাই পশ্চিমবঙ্গেরই ভোটার ছিলেন। কিন্তু সেই কাগজপত্র তো আমার কাছে নেই। সেসব খুঁজতেই কোকরাঝাড় থেকে কলকাতায় আসতে হলো, শাহিদ আলি বিবিসিকে বলেন। আমার নাম ওঠে নি এনআর সিতে, ছেলে মেয়ে কারও নাম নেই। বাবার ভোটার তালিকা দেখাতে না পারলে তো সবাইকে জেলে ধরে নিয়ে যাবে, তিনি বলেন।

পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা থেকে এসেছিলেন মনোরঞ্জন মজুমদার। তার বড় বোনের বিয়ে হয়েছে আসামে, এবং নাম এনআরসিতে ওঠেনি। ‘দিদির বিয়ে হয়েছে ওখানে। ও যে আসলে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার ছিল, সেই প্রমাণপত্র নিতে এসেছি,- জানালেন মনোরঞ্জন মজুমদার।

পশ্চিমবঙ্গে এখনো এনআরসি চালু না হলেও কেন্দ্র সরকার বারেবারেই বলছে এ রাজ্যেও তারা এনআরসি চালু করবে। তা থেকেই ভয় হয়েছে কলকাতার বাসিন্দা পৌলমী রায়চৌধুরী বা ডোমজুড়ের বাসিন্দা শেখ মেহবুব আলমের মতো বহু মানুষের। আসামের মতো এখানেও যদি এনআরসি চালু হয়, আর কাগজপত্র যদি দেখাতে না পারি, তাহলে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যেতে পারে। আগে থেকেই তাই কাগজপত্র যোগাড় করে রাখছি, বলছিলেন পৌলমী রায় চৌধুরী।

ব্যারাকপুরের বাসিন্দা চায়না চ্যাটার্জীও পূর্বপুরুষের নাম ভোটার তালিকায় আছে কী না, সেই খোঁজ করতে এসেছিলেন স্টেট আর্কাইভসে। ‘আমার ঠাকুরদা, বা সব পূর্বপুরুষরাই এখানকার বাসিন্দা। ইংরেজ আমলে সরকারি কর্মীও ছিলেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ। কিন্তু এত পুরনো কাগজপত্র খুঁজে পাচ্ছি না,’ বলেন চায়না চ্যাটার্জি। তিনি বলছেন, যদি আসামের মতো এনআরসি চালু হয়, তাই নথি জোগাড় করে রাখতে হবে। ‘এগুলো না দেখাতে পারলে তো পূর্বপুরুষদের পরিচয়ই তো দিতে পারব না, প্রমাণ করতেই পারব না যে তারা এখানেই থাকতেন,’ তিনি বলেন। স্টেট আর্কাইভসের পরিচালক ড. সীমন্তী সেন বিবিসিকে জানান, রোজ প্রায় ৪০০-৫০০ মানুষ আসছেন তার দপ্তরে যাদের মধ্যে অনেকেই এখন আসামের বাসিন্দা, কিন্তু হয়তো আগে পশ্চিমবঙ্গে থাকতেন। ‘পুরনো ভোটার তালিকায় নিজের বা পূর্বপুরুষের নাম আছে কী না, সেই সার্টিফায়েড কপি যোগাড় করে তারা আসামের বিদেশি ট্রাইব্যুনালে যাবেন,’ ড. সেন বলেন।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj