চট্টগ্রামে পাফো বন্ধুদের একটি স্মরণীয় সন্ধ্যা

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

পাপন বড়–য়া শাকিল

আগের আবেগ কি আছে? কথাটি ফেলে দেয়ার মতো নয়। নিজে নিজেকে প্রশ্ন করি- সময়ের ধুলো জমে কি ক্ষয়ে যায় বন্ধুত্ব? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে পাক্কা দুসপ্তাহ। বলছিলাম গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরের কাগজ পাঠক ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা পরিবারের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আড্ডার কথা।

প্রস্তুতি পর্ব

২ সেপ্টেম্বর পাফো চজেপ-এর জন্মদিন। তাই মাসের যে কোনো শুক্রবারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উযাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রথম ধাক্কাটা খেলাম ভেন্যু নিয়ে। আমি আর সাগরদা দুদিন দৌড়াদৌড়ি করে কোনো মিলনায়তন ঠিক করতে পারলাম না। শিল্পকলা থেকে ফুলকি… সব মিলনায়তন বুকড। পরে শিমু ভাইয়ের বুদ্ধিতে ঘরোয়া আয়োজনের সিদ্ধান্ত। শুরু হলো বন্ধুদের ফোনে অবহিতকরণ পর্ব। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সবার একই আবেগী উচ্চারণ- অবশ্যই আসবো।

মর্নিং শোজ দ্য ডে

৬ সেপ্টেম্বর সাতসকালে নারায়ণগঞ্জের মানিক সরকারের ফোনে ঘুম ভাঙে। তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান। তারপর এফবিতে ঢুকে চোখ ছানাবড়া! ঢাকা থেকে ভোলাদা রওনা হয়েছেন একেবারে সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে। সঙ্গে সবুজ ভাই (রেজাউর রহমান সবুজ), শফিক ভাই ও তৃণমূল থেকে উঠে আসা কেন্দ্রীয় নেতা বোরহান (মিরসরাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা)! অতঃপর বিভিন্নজনের টুকটাক ফোন। এসব অনুষঙ্গ দেখে অনুমান করেছিলাম- আজ কিছু হতে চলেছে। আসলেই সেদিন আড়ম্বরতাকে ছাড়িয়ে গেছে অনাড়ম্বর আয়োজন।

বন্ধু কি খবর বল

বিকেল ৪টার পর থেকে শুরু হয়েছে পাঠক ফোরাম বন্ধুদের আনাগোনা। ইয়া বড় কেক নিয়ে হাজির শিমু ভাই। একে একে আসতে লাগলেন রুপক দা, সাগর দা, জোটন সোমসহ ঢাকার বন্ধুরা, রোজী আপা, বহ্নি, ফাতেমা আন্টি, মিলি আপা, রুবাইয়াৎ বেলাল, সুমি, আনোয়ার আবসার, ফারুকী ভাই, সোমা আপা, অমি, পলাশ, শামস সাগর ভাই, ইতি ভাবী, মামুন, খোকন ভাই…। সিরাজী ভাই আসলেন উনার মস্তবড় (তিন সদস্যবিশিষ্ট) পরিবারসহ। দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা, সে এক অন্যরকম অনুভূতি। আসলেন চট্টগ্রাম মিডিয়া পাড়ার প্রিয়মুখ ভোরের কাগজ চট্টগ্রাম অফিস প্রধান সমরেশ বৈদ্য। সঙ্গে রিপোর্টার প্রীতম দাশ ও বিপ্লব উদ্যানের এক সময়ের নিয়মিত বন্ধু ফটো সাংবাদিক কমল দাশ। তিনি আমাদের আড্ডার স্মৃতি উনার ক্যামেরায় ধরে রাখলেন।

আমরা সবাই রাজা

পাঠক ফোরাম এমন একটি সংগঠন যেখানে- ছোট-বড় নেই, নেই পদ-পদবির বাহুল্য। সবাই সমান। সবাই আমরা বন্ধু। আড্ডায় উপস্থিত অর্ধশতাধিক বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, ব্যাংকার, করর্পোরেট অফিসার, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, জনপ্রিয় লেখক। তবুও আমাদের একমাত্র পরিচয় ছিল আমরা- বন্ধু।

আমাদের পাঠক ফোরামের অনেক বন্ধু সমাজের বিভিন্ন স্তরে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন। আলোকিত করছেন সমাজকে। যা পাঠক ফোরামের প্রত্যেক বন্ধুর জন্য গর্বের। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আড্ডায়ও উপস্থিত ছিলেন ক’জন দ্যুতি ছড়ানো বন্ধু। ছিলেন কুমিল্লা পাঠক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ও উপপরিচালক পরিবার পরিকল্পনা ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম পাঠক ফোরামের বন্ধু চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিআইজি) মাহমুদা বেগম সোনিয়া, পাহাড়তলী পরিবারের সভাপতি ও চসিকের জনপ্রিয় কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, মিরসরাই পরিবারের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারমিন মুস্তারী সুমি, চট্টগ্রাম পরিবারের প্রতিষ্ঠাকলীন সদস্য জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মাইনুল এইচ সিরাজী। মিস করেছি আরেকজন প্রিয় মানুষ জয়দীপ দে শাপলুকে।

হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল

তিন জেলার তিন সাবেক সভাপতি ভোলা দা, আজিজ ভাই, রুপক দা ও ভোরের কাগজ চট্টগ্রাম অফিসের সমরেশ দা মিলে কেক কাটার মাধ্যমে সাগরদার সঞ্চালনায় শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আড্ডা। আড্ডায় আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন চট্টগ্রাম পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবু ফারুকী, সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী রুপক বড়ুয়া, ঢাকা পরিবারের বোরহান উদ্দিন, সরফরাজ উদ্দিন পারভেজ, দন্ত্যস শফিক ও রেজাউর রহমান সবুজ। পাঠক ফোরামকে নিয়ে সম্ভাবনার কথা জানান পাফোর বটবৃক্ষ খ্যাত ভোলা নাথ পোদ্দার।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন ঢাকা পরিবারের সাবেক সভাপতি শামস সাগর, ফাতেমা ইসলাম, জিন্নাত আরা রোজী, সুরাইয়া জামান মিলি, ফাহমিদা হায়দার সোমা, কাজী তাহমিনা নূর বহ্নি, পলাশ, সৈকত, বেলাল, শাহেদা আক্তার শিমু, আনোয়ার আবসার, আলাউদ্দিন খোকন, আলী আকবর, আবিদা আজাদ, সুমি, সোনিয়া, মাইনুল এইচ সিরাজী, অমি, কুশিয়ারা, নাজমুল হুদা শিমু প্রমুখ। আর আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে চলে জলখাবার পরিবেশন।

শেষ হয়েও হলো না শেষ

ভেন্যু ঠিক করেছিলাম দুই ঘণ্টার জন্য। সন্ধ্যা ৫-৭টা। দীর্ঘ সময়ের ফারাকে আমরাও ভুলে গিয়েছিলাম- হার্দিক মুহূর্তগুলো সময়ের এককে মাপা যায় না। রাত ৮টার পর থেকে শুরু হয় কর্তৃপক্ষের তাগাদা। আমাদের পরেই আরেকটি প্রোগ্রাম। আমাদের হৃদ্যতার গভীরতা দেখে হার মানেন লাউঞ্জ কর্তৃপক্ষ। বাতিল করে দেন পরবর্তী শিডিউল। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা টেন ইলেভেনের সাইফুদ্দিন তালুকদারকে।

রাত ১০টায় লাউঞ্জ থেকে বের হয়েও আমাদের আড্ডা শেষ হয় না। আবার আউটার স্টেডিয়ামে জমে চা আড্ডা। কারো বাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না। তবুও আগামী কর্মচঞ্চল সকালের তাগিদে আরেকটি মিলনের প্রতীক্ষায় আমরা পা বাড়াই স্ব-স্ব গন্তব্যে।

পুনশ্চ

পৌনে তিনশ কিলোমিটার জার্নি করার পরও ভোলাদার মতো বয়সী মানুষ (বয়সী বলার জন্য চির তরুণ দাদার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা) সারা দিন ক্লান্তহীন থাকা কিংবা বাচ্চার অসুস্থতার পরও মাত্র পৌনে একঘণ্টা বন্ধুদের সঙ্গে কাটানোর জন্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসাকে কি আবেগ বলে? ১০০% গৃহিণী রোজী আপা যখন এক সপ্তাহ আগে থেকে বলে রাখেন- ৭টায় আমি আর থাকতে পারবো না। নাকি একজন গৃহিণীর কঠিন সময় থেকে কিছু সময় অগ্রিম বের করে রাখাকে আবেগ বলে? জানি না। তবে জানি- সময়ের ধুলো জমে ক্ষয়ে যায় না বন্ধুত্ব।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj