চট্টগ্রাম জেলা পরিবার : অন্তহীন ভালোবাসার এক ঠিকানা

শনিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সুরাইয়া জামান মিলি

সেই নব্বই দশকের আড্ডাবাজ ও স্বপ্নবাজ কিছু মুক্তচিন্তার মানুষ- পাফোপ্রেমী এই আমরা। পড়ালেখার বাইরে যাদের সময় কেটেছে ভোরের কাগজ পাঠক ফোরামে লেখালেখি করে। নানান সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়ে ভোরের কাগজ অফিস এবং প্রাণের বিপ্লব উদ্যান আমাদের চট্টগ্রাম জেলা পরিবারের কর্মকাণ্ডে ছিল মুখর। সাপ্তাহিক প্রাণবন্ত, গঠনমূলক আলোচনায় ভরপুর বৈঠকগুলোতে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে সেই সময়টা কেটেছে। সেই মানুষগুলোকে নিয়ে আমাদের আবার সেই আড্ডা। কত নাম জানা, অথচ অদেখা বন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়া- সে অন?্যরকম অনুভূতি! কেমন করে যেন এক বিশাল পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের বাঁধনে জড়িয়ে গেলাম।

গত ৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার স্টেডিয়াম গ্যালারি মার্কেটে টেন ইলেভেন লাউঞ্জে হয়ে গেল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আড্ডা। বন্ধু জালালউদ্দিন সাগরের সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানে আমরা ভেসেছি আনন্দ আড্ডায়। ২৩তম জন্মদিনের অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান শেষতক রূপ নিল আনুষ্ঠানিকতারও বেশি কিছুতে। জন্মদিনে পুরনো সবাইকে পেয়ে আমরা আবার আপ্লুত হয়েছি, আবেগবৃষ্টিতে স্নান করেছি। শত ব?্যস্ততার মাঝে সেই মোহ, সেই টান যেন পাশ কাটানো যায় না কিছুতেই। তাই তো পাপন বড়ুয়া শাকিল ও নাজমুল হুদা শিমুর বার বার মনে করিয়ে দেয়াটা উদ্বুদ্ধ করে পুরনো দিনে ফিরে যেতে। আমরা এক মুহূর্ত ভুলতে পারিনি। অশেষ ধন্যবাদ তোমাদের দুজনকেই। তোমাদের পরিশ্রম ও চেষ্টায় পাফো পরিবার আবার এক ছাদের নিচে একত্রিত হতে পারল।

সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জালালউদ্দিন সাগর ভাই ও রূপক বড়ুয়াকে। অনেক ধন্যবাদ পাঠক ফোরাম চট্টগ্রাম জেলা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ ফারুকী ভাইকে। তার মূল্যবান হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য আমাদের আপ্লুত করে। যেসব বন্ধুরা উপস্থিত থেকে এই অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় ও প্রাণবন্ত করেছেন সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই। ঢাকা পরিবারকে অশেষ ধন্যবাদ শত ব্যস্ততার মাঝেও কষ্ট করে এসে অনুষ্ঠানকে আলোকিত করার জন্য। ভোলাদা, বোরহান, দন্তস্য সফিক, সরফরাজ উদ্দিন পারভেজ, রেজাউর রহমান সবুজকে কৃতজ্ঞতা। অনেক ধন্যবাদ কুমিল্লা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ভাইকে। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সময় দেয়া, সেই হাসি আড্ডায় মাতিয়ে রাখা ভোলা যাবে না।

ফাতেমা ইসলাম, জিন্নাত আরা রোজী, শারমিন মুস্তারি সুমী, কাজী তাহমিনা নূর বহ্নি, আনোয়ার আবসার, রূবাইয়াত বেলালসহ বাকি সবার প্রাণবন্ত উপস্থিতি বার বার আমাদের স্মৃতিকাতর করে তুলেছিল। শত শত স্মৃতির পাঠক ফোরাম আবার ফিরিয়ে আনল সেই দিন। ভালোবাসায়, হৃদ্যতায় অনুভূত হলো- এখানেই থেমো না। বিপ্লব উদ?্যানের সেই আড্ডার আরো দুজন প্রাণপুরুষ, যাদের কথাও হানা দিল স্মৃতিতে। ওয়াহিদ মুরাদ ভাই এবং এস. এম. আজাদ হোসেন ভাইয়ের অগ্রণী ভূমিকা চট্টগ্রাম জেলা পরিবারকে দিয়েছিল গতিময়তা। আমরা ছিলাম তাদের সারথি। প্রায় দুই যুগ বাদে শিমু-শাকিলরা তার ধারাবাহিকতা। এগিয়ে যাক চট্টগ্রাম জেলা পরিবার হার্দিক গন্তব্যে।

:: পাফোস-৪৮৪

চট্টগ্রাম জেলা পরিবার

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj