চিরকুটের মাধ্যমে ভর্তি : ঢাবি উপাচার্য ও ডিনের পদত্যাগ দাবি শিক্ষার্থীদের

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সান্ধ্যকালীন কোর্সে চিরকুটের মাধ্যমে বিশেষ ভর্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে পৃথক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ দাবি জানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাবি শাখা ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদারের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শেখ রাসেল টাওয়ারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিল থেকে চিরকুটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাদের ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করা হয়। পাশাপাশি ভর্তিকৃতদের ডাকসুর সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি এবং বহিষ্কারেরও দাবি জানানো হয়।

সমাবেশ আরো উপস্থিত ছিলেন, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রাশেদ ইকবাল খান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুর রহমান প্রমুখ।

কোটা আন্দোলনকারীদের মানববন্ধন : কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে। তাদের মানববন্ধনে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে ছিল- উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের পদত্যাগ, অবৈধভাবে ভর্তি হওয়া ৩৪ ছাত্রকে অছাত্র ঘোষণা করা এবং অবৈধ ছাত্রত্ব নিয়ে যারা ডাকসুতে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের পদ শূন্য ঘোষণা করে উপনির্বাচন দেয়া।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ৩৪ জনকে নিয়ম লঙ্ঘন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাধারণ ছাত্রদের দিকে নজর না দিয়ে ছাত্রলীগের প্রতিনিধিত্ব করছে। ছাত্রলীগ কোনো অপকর্ম করলে প্রশাসন তার বিচার করে না। ভিসি ছাত্রলীগের অন্যায়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। অতিসত্বর যাদের অবৈধভাবে ছাত্রত্ব দেয়া হয়েছে তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।

পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে তার মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। আমরা এমন একজন উপাচার্য পেয়েছি যিনি রাতের আঁধারে চিরকুটের মাধ্যমে একটি সংগঠনের নেতাদের বিশেষ ক্ষমতাবলে ভর্তি করেন।

একইসঙ্গে ‘অবৈধভাবে’ ভর্তি হয়ে ডাকসুতে নির্বাচিত ছাত্রলীগ নেতাদের পদ শূন্য ঘোষণা করে সেই পদগুলোতে উপনির্বাচনের দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ছাত্রলীগের ৩৪ জন সাবেক ও বর্তমান নেতা ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ব্যাংকিং এন্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন।

ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল ওই প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যায়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে এদের সবাই ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে ঢাবি উপাচার্য ও ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের বিশেষ সুপারিশের (চিরকুট) মাধ্যমে ভর্তি হন।

দ্বিতীয় সংস্করন'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj