ভৈরবে গৃহকর্মীর গায়ে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মাহমুদ মোজতবা, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) থেকে : উপজেলায় সাদিয়া বেগম (১৮) নামে বাবা-মা হারা এক গৃহকর্মীকে লাঠিপেটা ও গরম পানি ঢেলে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে গৃহকর্মী সাদিয়াকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সাদিয়ার বাবা মৃত জামাল মিয়া। বাড়ি ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার সিংগেরকান্দা গ্রামে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ভৈরব বাজারের গিয়াস উদ্দিন মিয়ার মেয়ে গৃহকর্ত্রী মেহেরুন্নেছা অপি এবং তার স্বামী উপজেলার শিমুলকান্দি গ্রামের হাজি ওসমান গণির ছেলে তানভীর রাফসান সাদলী। গতকাল বুধবার দুপুরে তাদের কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭ বছর আগে সাদিয়া বেগম তার দূর সম্পর্কের এক খালার মাধ্যমে ভৈরব বাজারের গৃহকর্ত্রী মেহেরুন্নেছা অপির বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে আসে। প্রথম দিকে তাকে কাজের জন্য নির্যাতন করা হতো না। কয়েক বছর যাওয়ার পর কাজ করতে গিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় তাকে মারধরসহ প্রায়ই হাতে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিত। অনেক সময় তার হাত-পা বেঁধে মারপিট করা হতো। তাকে কখনো বাসার বাইরে যেতে দিত না। এমনকি গৃহকর্ত্রী বাসার বাইরে গেলে তাকে তালাবদ্ধ করে ঘরে রেখে যেত।

সাদিয়া জানায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় কাজের সময় একটি ছুরি ভেঙে গেলে তাকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। তার শরীরে গরম পানি ঢেলে দেয়া হয়। ছুরি দিয়ে কপালে আঘাত করা হয়। গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মেরে ফেলতে চায়। এরপর রাতে গোপনে বাসা থেকে পালিয়ে খালার ভাড়া-বাসায় আশ্রয় নেয় সাদিয়া। মঙ্গলবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. ফেরদৌস হায়দার বলেন, সাদিয়ার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতগুলো গুরুতর বলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

ভৈরব থানার ওসি মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে পুলিশকে বিস্তারিত ঘটনা

জানায় গৃহকর্মী। রাত ১০টার দিকে বাসায় গেলে দরজা খুলতে চাননি গৃহকর্ত্রী। পরে রুমের দরজা ভাঙতে চাইলে গৃহকর্তা সাদলী দরজা খুলে দেন। এরপর স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে সাদিয়া নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও ট্রাইব্যুনাল আইনে মামলা দায়েরের পর আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj