শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে মৃত্যু : আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি শ্রমিক সংগঠনের

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় শ্রমিক মৃত্যুতে এই শিল্পের মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়াসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ‘জাহাজভাঙা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন। শ্রমিকের প্রাণহানি রোধে কারখানাগুলোতে নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি নিশ্চিত করতে এসব দাবি ৭ দিনের মধ্যে মেনে না নিলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুমকি দেয়া হয়। ‘শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনায় বার বার শ্রমিক হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মু. শফর আলী বলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বঙ্গোপসাগর

উপক‚লে ১৫০টির বেশি শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের নিবন্ধন থাকলেও কাজ চলছে ৫০ থেকে ৬০টি ইয়ার্ডে। এসব কারখানায় সরাসরি কাজ করেন প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক। আর পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ না থাকায় প্রতিনিয়ত শ্রমিকরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গত সাড়ে তিন বছরে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৬৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন।

ফোরামের আহ্বায়ক তপন দত্ত বলেন, প্রতিটি দুর্ঘটনায় শিপ ইয়ার্ডে নিহত ও আহত শ্রমিকদের সংখ্যা এবং আহতদের অবস্থা নিয়ে লুকোচুরি খেলা চলে। বছরের পর বছর ধরে জাহাজ ভাঙা শিল্প খাতে দুর্ঘটনা এবং শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পেলেও দায়ী মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এ যাবত কোনো মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এমনটা আমাদের জানা নেই। অস্থায়ী ভিত্তিতে ঠিকাদারের অধীনে কাজ করার ফলে শ্রমিকরা আহত বা নিহত হলে অনেক ইয়ার্ড মালিক শ্রমিকদের দায় নেয় না।

তিনি বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মস্থলে নিহত শ্রমিকদের দুই লাখ এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত ক্রাইসিস কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আরো পাঁচ লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও নিহত শ্রমিকের পরিবার তা পাচ্ছে কিনা তার কোনো তদারকি ব্যবস্থা নেই। এ খাতের শ্রমিকদের কোনো নিয়োগপত্র নেই। আত্মরক্ষামূলক সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয় না। শ্রম আইনে মজুরি বোর্ডের রোয়েদাদ কার্যকর বাধ্যতামূলক করা হলেও মালিকরা তা মানছেন না। অনেক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্সও নেয়নি।

যুগ্ম আহ্বায়ক এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, হংকং কনভেনশন অনুসারে প্রতিটি পুরনো জাহাজ বর্জ্যমুক্ত করে রিসাইক্লিং করার বিধান থাকলেও অতি মুনাফার লোভে জাহাজ বিক্রেতা বা ক্রেতা কেউ তা আমলে নিচ্ছেন না। ফলে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ পরিবেষ্টিত পরিবেশে শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। ফলে তাদের জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj