প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতার স্বীকৃতি প্রয়োজন

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

জসীম উদ্দীন

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১ জন শ্রমিকের লাশ আসছে। এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে এসেছে ২ হাজার ৬১১টি লাশ। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশই মারা গেছেন স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে। এর পর দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় ১৮ শতাংশ। আর স্বাভাবিক মৃত্যু ৫ শতাংশ।’ ৭ সেপ্টেম্বরের প্রথম আলোর এ প্রতিবেদনটি দেখে থমকে গেলাম। অভিবাসন খাতসংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি বিশেষজ্ঞরা উচ্চ অভিবাসন ব্যয়কে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন, সেটি যথার্থ। ঋণ নিয়ে বিদেশে গিয়ে টাকা শোধ করার চাপের কারণে অতিরিক্ত কাজ করার প্রবণতা রয়েছে শ্রমিকদের মধ্যে। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করার কারণে নিয়মিত ঘুমানোর সুযোগ পান না শ্রমিকরা। এসব কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। এগুলোর পেছনে রয়ে আরো কিছু কারণ, যা আমরা বুঝার চেষ্টা করি না। গত মাসে (আগস্ট) ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিক্স এন্ড ডেভেলপমেন্টের (আইআইডি) আয়োজনে সিলেটের ‘পলিসি ক্যাম্প ২০১৯’-এ অংশ নিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিল্ড ভিজিটে গিয়েছিলাম সিলেট টেকনিকাল ট্রেইনিং সেন্টারে (টিটিসি)। বিদেশগামী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি বিদেশগামী শ্রমিকদের গল্প। দালাল চক্রের জটিলতা আর কিছু বেসরকারি খাতের জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের লাগামহীনতা এগুলোর পেছনে বড় ভূমিকা পালন করছে। আবার বিদেশ গমণকারী শ্রমিকদের অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত সঠিক তথ্যের অপ্রাপ্তি এবং অজ্ঞতার কারণেই এটা সম্ভব হচ্ছে। তাই সহজেই তারা দালাল চক্র এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বশে চলে আসে। তারা বিদেশে গিয়ে কী কাজ করবেন তা তারা আগে থেকে জানতে পারেন না। এমনকি সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে যারা বিদেশ যাওয়ার পূর্বে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তারাও যানেন না বিদেশে গিয়ে কি কাজ করবেন। আবার অনেক সময় তাদের জানানো হলেও গন্তব্য দেশে গিয়ে পেশার মিল থাকে না। বাধ্য হয়ে তখন ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। যেটি তাদের জন্য অনেক বড় মানসিক চাপের কারণ। আবার শ্রমিকের নিজ দক্ষতার স্বীকৃতি বা সার্টিফিকেট না থাকাও তাদের ভালো কাজ পাওয়ার পথে বড় একটি অন্তরায়। প্রবাসী শ্রমিকরা যে যে কাজে দক্ষ সে দক্ষতার স্বীকৃতি থাকলে ভালো কাজ পেতে সহায়ক হয়। যেটি বাংলাদেশের শ্রমিকরা পান না। প্রবাসীদের কর্মপরিবেশকে নিরাপদ করতে হলে উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রবাস গমন সম্পর্কিত সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ এই তথ্যের অপ্রাপ্তির কারণেই তারা নানাবিধ হয়রানির শিকার হন। আর মানসিক চাপের বীজ বপিত হয় দেশের মাটিতেই। বিদেশগামী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে তাদের দক্ষতার স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে।

:: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj