বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতার চেষ্টা : গ্রেপ্তার জামায়াতের ৩৬ জনের মধ্যে ১৮ জন রিমান্ডে

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল : জেলার গোপালপুরে নাশকতার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৩৬ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করা হলে ১৮ জনের ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। অপর ১৮ জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এদের গত মঙ্গলবার দুপুরে গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজারে যমুনা নদীর ঘাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এরা বঙ্গবন্ধু সেতু কেন্দ্রিক বিভিন্ন স্থাপনায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল মালেক খান বাদী হয়ে ৩৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেছেন। গতকাল বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রেপ্তারকৃতদের হাজির করে ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট শামসুল আলম ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। যে ১৮ জনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে তারা হলেন- উপজেলা জামায়াতের আমির গোলাম মোস্তফা রঞ্জু (৫৪), বেতবাড়ী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মহিউদ্দিন (২২), দক্ষিণ গোপালপুরের আছর আলীর ছেলে ফারুক হোসেন (৩০), বিষ্ণুপুর গ্রামের মেছের আলীর ছেলে আব্দুল আলিম (৩২), হাজেরা বাড়ির গ্রামের মৃত মুনসুছ আলীর ছেলে ইউনুস আলী (৩৫), খানপাড়ার মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (৪২), চরপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মো. সোহাগ (১৯), চাতুটিয়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মাসুদ করিম (৪০), মির্জাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে নাসির উদ্দিন (২৪), ফলাদা চরপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আব্দুল আলিম (৩২), পাকুটিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে ছানোয়ার হোসেন (২৭), কোনাবাড়ী গ্রামের হেকমত আলীর ছেলে ফরমান আলী (২৮) ও লাল মাহমুদের ছেলে হেকমত আলী (২৮), জোত বাগদ গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে বিজয় হোসেন (৩০) ও নিজাম উদ্দিনের

ছেলে রাসেল রানা (২০), সোনামুই গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে ফরহাদ হোসেন (৩০), মধুপুর ভট্ট গ্রামের মৃত জোবেদ আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফা (৪৫), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের মৃত মনছের আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৫)।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৮ জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এরা হলেন- গোপলপুরের গাড়ালিয়া গ্রামের মৃত তৈয়ম শেখের ছেলে হাসেন আলী (৫৫), গাংগাপাড়ার মৃত মনছব আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ (৪৮), উত্তর গোপালপুরের বাহার আলীর ছেলে ইনসান আলী (২০), কোনাবাড়ীর আব্দুস ছামাদের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৪৮), নবগ্রামের মৃত মোছাবালীর ছেলে আব্দুল মালেক (৬০), কোনাবাড়ী বাজারের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে নূর মোহাম্মদ (৬৪), লক্ষীপুরের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে হেলাল উদ্দিন (৬০), সোনামুই মধ্যপাড়ার মৃত দুদু শেখের ছেলে শিব্বীর আহমেদ (৫৯), গাংগাপাড়ার মৃত ছাদের আলীর ছেলে বাদশা মিয়া (৫৪), ভুটিয়া গ্রামের মৃত সবর উদ্দিনের ছেলে আলাউদ্দিন (৫৫), বাখুরিয়া বাড়ির মৃত জাবেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৬০), বেড়া ডাকুরির আব্দুস ছোবাহানের ছেলে আব্দুস ছবুর (৭০), মধ্য মান্দিয়ার শাহেব আলীর ছেলে আশরাফ আলী (৪৪), ঝাওয়াইলের মৃত পাচু মাহমুদের ছেলে আব্দুল হাকিম (৭৭), পলশিয়ার মৃত পাষাণ আলীর ছেলে জুলহাস উদ্দিন (৫৬), মোহনপুরের মৃত শুক্কুর মাহমুদের ছেলে নাইম খন্দকার (৪৪), কোনাবাড়ী গ্রামের পাষাণ আলীর ছেলে আশরাফ আলী (৬৭) ও গাইবান্ধা জেলার মফিজুল হকের ছেলে শাহজাহান (৬২)।

গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতা কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ছিল গ্রেপ্তার হওয়া জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের। নৌ-ভ্রমণের নামে এই নাশকতার পরিকল্পনা করে তারা। বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার জন্য তারা একত্রিত হয়েছিল। এ সময় তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই এবং লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj