৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন : নির্বাচন কমিশন ভবনের অগ্নিকাণ্ড রংপুর নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত রবিবার রাতে ইসির বেজমেন্টের ইভিএম গোডাউনে যে আগুন লাগে তাতে হাজারের কিছু কম ইভিএম নষ্ট হয়েছে।

তবে এসব ইভিএম যতটানা আগুনে নষ্ট হয়েছে তার চেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে পানির কারণে। গতকাল সোমবার ইসির মূল ভবনের বেজমেন্ট পরিদর্শন করে তিনি এসব কথা বলেন। সাইদুল ইসলাম বলেন, বেজমেন্টে মোট সাড়ে চার হাজারের মতো ইভিএম মেশিন ছিল। সেগুলো বিভিন্ন কক্ষে রাখা হয়। তবে যে কক্ষে আগুন লাগে সেখানে এক হাজার ইভিএম (মনিটর) রাখা ছিল। তার দুই মিটার দূরে থাকা ব্যালট ইফনিটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পয়েন্ট অব ফায়ার যেটা দেখলাম মেইনলি কেবলের দিকে ফায়ারটা ছড়িয়েছে।

যার জন্য উপরের কেবলগুলো পুড়েছে। এসি ও ক্যাবলের বক্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের ব্যালট ইউনিট, মনিটর, কন্ট্রোল ইউনিট যেভাবে আশঙ্কা করেছিলাম সে তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ খুবই নগণ্য। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপ এবং টিমওয়ার্কের জন্য এত বড় একটা ক্ষতির হাত থেকে আমরা বেঁচে গিয়েছি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে এই অগ্নিকাণ্ডের কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে তদন্তের পর আমরা দেখব। এনআইডি উইংয়ের পক্ষ থেকে আমরা সেখানে ইভিএম ব্যবহার করার চেষ্টা করব। আমরা সেই ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, যে টুকু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সে টুকু পানি দিয়ে নেভানোর কারণে, পানি যেহেতু স্প্রে করা হয়েছে, স্প্রে করার কারণে অতিরিক্ত পানিগুলো যাতে ব্যালট ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত না করে সে ব্যবস্থা নিচ্ছি। সব ইউনিট দোতলায় রাখা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ওখানে যেহেতু কেউ বসবাস করে না, সেখানে কোনো হিটার নেই, কাজেই বিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কিছু তো কারণ দেখছি না।

তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি : এদিকে নির্বাচন ভবনে আগুনের ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ইসি।

কমিটির সদস্যরা হলেন- ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান সভাপতি, সহকারী সচিব (সেবা-২) খ ম আরিফুল ইসলাম সদস্য সচিব। এ ছাড়া চারজন সদস্যের মধ্যে রয়েছেন- জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম, গণপূর্তের ই/এম বিভাগ-৮ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিম, গণপূর্ত বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ ইয়ামিন-উল-ইসলাম ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্ততের প্রতিনিধি (পরিচালকের নিম্নে নয়)।

গতকাল সোমবার সকালে ইসির উপসচিব (সাধারণ সেবা) রাশেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ এ ভবনের বেজমেন্টে আগুন লাগে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ১০-১২টি ইউনিট আগুন নেভাতে সমর্থ হয়। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিনটি বিষয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

এগুলো হলো- অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কারণ ও উৎস নির্ণয়, অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ (আর্থিক মূল্যসহ) এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অগ্নিকাণ্ড যাতে না ঘটে সে সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন। এর আগে গত রবিবার রাতে ফায়ার ব্রিগেডের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যাদের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার কথা।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj