ইসির সার্ভারে রোহিঙ্গাসহ ৫৪টি এনআইডির ঘটনায় তদন্ত শুরু

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

চট্টগ্রাম অফিস : নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে রোহিঙ্গা নাগরিকসহ সন্দেহজনক ৫৪টি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য নির্বাচন কমিশনকে প্রচণ্ডভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় এবং চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দুটি পৃথক তদন্ত টিমের সদস্যরা এর পেছনে কে বা কারা জড়িত এবং কীভাবে এসব তথ্য সার্ভারে নিবন্ধিত হলো তা তদন্ত শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা এ বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ আখ্যায়িত করছেন।

সম্প্রতি লাকি নামের এক রোহিঙ্গা নারী জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নাম-ঠিকানা, জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এনআইডি তৈরি করে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম কার্যালয় দুটি কমিটি গঠন করে। ইসির তদন্ত দলের প্রধান এনআইডি উইংয়ের পরিচালক খোরশেদ আলমের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিটি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে এসে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। কমিটি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়সহ বিভিন্ন উপজেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে ইসির সার্ভার পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি এটি সুরক্ষিত রাখতে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত ২ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন থানা নির্বাচন অফিসার কামরুল আলম। এই কমিটিও সার্ভারে ও ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের একটি সূত্র জানিয়েছে, এনআইডি তথ্য সার্ভারে আরো ৫৪টি অসঙ্গতিপূর্ণ এনআইডির খোঁজ পাওয়া গেছে। কার্যালয়ের নথিপত্রে যেগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে রোহিঙ্গার তথ্য পাওয়ার বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি তদন্তে দুটি দল নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

সন্দেহজনক ভোটারের বিভিন্ন কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মানুযায়ী তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ভোটার করান। কিন্তু রোহিঙ্গারা কীভাবে ভোটার হলো তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত দল কাজ করছে। আশা করি তদন্তে বিস্তারিত উঠে আসবে।

এদিকে রমজান বিবি নামে এক রোহিঙ্গা নারী ‘লাকী’ নামে স্মার্টকার্ড নিতে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে এসে ধরা পড়ে। রমজান বিবির তথ্যানুসারে তার স্বামী নজির আহম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নজির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, ‘নজির আহম্মদ ১৯৯০ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে। প্রথমে সে নগরীর পতেঙ্গায় আশ্রয় নেয়। পরে হাটহাজারী উপজেলায় বসবাস শুরু করে। রমজান বিবি কীভাবে ভোটার হলো, এই চক্রে কে কে জড়িত রয়েছে, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj