নেতৃত্বে অনীহা সাকিবের

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : হারটা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানের জয়। তবে শেষ দিনে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু টাইগার ব্যাটসম্যানরা সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ফল যা হওয়ার তাই। ২২৪ রানের লজ্জাজনক ব্যবধানের হার। আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচ হারের পর প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে টাইগার দলপতি সাকিব আল হাসান এমন কিছু কথা বলেছেন যাতে আছে নেতৃত্বের প্রতি তার অনীহার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।

টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি সব ফরম্যাটের ক্রিকেটেই বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব। তার পারফরমেন্সের ওপরই নির্ভর করে টাইগারদের জয়-পরাজয়। কারণ তিনি ব্যাটিংয়ে যেমন দলের অন্যতম আস্থার প্রতীক, তেমনি বোলিংয়েও প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ভাবনার কারণ।

২০০৭ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া সাকিবকে অভিজ্ঞতার বিচারেও পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যেই খেলে ফেলেছেন ৫৬ টেস্ট। সাদা পোশাকে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি তিনি। যেখানে তার ধারেকাছেও নেই অন্যরা। টেস্টে সাকিবের নামের পাশে আছে ২১০ উইকেট। অন্যদিকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী টাইগার ব্যাটসম্যানদের তালিকায় তিনি আছেন তিন নম্বরে। টেস্টে সাকিবের রান ৩৮৬২।

দ্বাদশ বিশ^কাপে ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করা সাকিব শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে খেলেননি। দীর্ঘদিনের ছুটি কাটিয়ে আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে আবারো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরেন তিনি। ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস বিশ^কাপে ব্যাট হাতে ৬০৬ ও বোলিংয়ে ১১ উইকেট নেয়া সাকিবের কাছে চট্টগ্রাম টেস্টে প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু অধিনায়ক সাকিব সেই প্রত্যাশা খুব একটা পূরণ করতে পারেননি। ১ম ইনিংসে দলের চরম বিপর্যয়ে তিনি আউট হন মাত্র ১১ রানে। আর ২য় ইনিংসে ৪৪ রান করলেও যেভাবে আউট হয়েছেন তা রীতিমতো উইকেট বিলিয়ে দেয়ারই নামান্তর। অন্যদিকে বল হাতে উভয় ইনিংস মিলিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। ব্যাটিংয়ে সাকিবের প্রত্যাশানুযায়ী পারফর্ম করতে না পারার পেছনে অনেকেই নেতৃত্বের চাপকে দায়ী করছেন। গতকাল চট্টগ্রাম টেস্ট শেষে প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে সাকিবের বলা কথাতেও এমন কিছুরই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তার ভাষায়, ভবিষ্যতে দলকে নেতৃত্ব দিতে হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব। আর যতি নেতৃত্ব দিতে না হয় তাহলে সেটা আমার ক্যারিয়ারের জন্যই ভালো। সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল এ পর্যন্ত ১৪টি টেস্ট খেলেছে। এরমধ্যে ৩ জয়ের বিপরীতে আছে ১০ হার।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj