৪ ডিসেম্বর বস্ত্র দিবস : উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় নীতিমালা অনুমোদন

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : প্রতিবছরের ৪ ডিসেম্বরকে ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস’ হিসেবে উদযাপন, এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা বাড়াতে এসএমই নীতিমালা-২০১৯ এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন আইন, ২০১৯-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এ ছাড়া বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নঈম চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে মন্ত্রিসভা।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ৪ ডিসেম্বর বস্ত্র দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রের ‘খ’তে এটি অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উদযাপন মানে মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়া যে, আজকে বস্ত্র দিবস।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা এবং বিজয়কে একসঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। বস্ত্র খাত আমাদের সর্বোচ্চ জোগানদাতা। সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় বস্ত্র খাত থেকেই পাই। এর আগে স্বাধীনতার মাস মার্চে পাট দিবস এবং বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বস্ত্র দিবস পালনের প্রস্তাব করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় নতুন নীতিমালা অনুমোদন : এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থ প্রাপ্তির সুযোগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, ব্যবসায় সহযোগিতা এবং তথ্যের সুযোগ প্রাপ্তি এ ছয়টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে এসএমই নীতিমালা-২০১৯ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই নীতিমালা ২০১৯-২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এসএমই খাতে প্রায় ৭৮ লাখ অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে। জিডিপিতে এই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ। নীতিমালার বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, কৌশলগত অর্থায়ন সুবিধা প্রাপ্তিতে এসএমই খাতের সুযোগ বাড়ানো, এসএমই খাতের ঋণ প্রবাহ বাড়ানো, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা, এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড চালু করা। এই ফান্ড চালু মর্টগেজ ছাড়াই সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া হবে। এ ছাড়া নীতিমালায় ই-কমার্স, অনলাইন সাপোর্ট, আউট সোর্সিং ও আইটি ভিত্তিক এপ্লিকেশনের মাধ্যমে এসএমইদের সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ঋণ দেয়া, তহবিল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, উদ্বুদ্ধকরণ এবং বাজার সংযোগে সুযোগ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। টেকসই করার জন্য ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়।

এ ছাড়া এসএমই তথ্য ভাণ্ডার তৈরি, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠায় এসএমইদের উৎসাহিতকরণ, শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসএমইদের প্রণোদনা দেয়া, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এসব নীতি-কৌশল বাস্তবায়নের জন্য দুই ধরনের পর্ষদ থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩৭ জনের পর্ষদে প্রতিমন্ত্রী সহসভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বেসরকারি খাতের পাঁচজন প্রতিনিধি থাকবেন। আর সচিবের নেতৃত্বে পর্ষদে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৯ জন সদস্য থাকবেন। নীতিমালায় উদ্যোক্তাদের সুযোগ সুবিধার বিস্তারিত নেই। নীতিমালায় শুধু গাইড লাইন বলে দেয়া থাকে বাকিটুকু করবে সরকার।

‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন আইন-২০১৯’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন : মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইনটি অনেক পুরনো, পাকিস্তান আমল থেকে ইস্ট পাকিস্তান ল’ হয়ে শুরু হয়ে এ পর্যন্ত আছে।

১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডার হয় বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন অর্ডার, এরপর দুই অ্যামেন্ডমেন্ট হয় ১৯৭৬ ও ৭৯ অর্ডিন্যান্স আকারে, যেহেতু এগুলো সামরিক আমলে হওয়া তাই এগুলোকে আপডেট করে বাংলায় করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে তা হলো- অনুমোদিত মূলধন আগে ছিল মাত্র ৫ কোটি টাকা, পেইডআপ ক্যাপিটাল সম্পর্কে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক সময় সময় জোগান দেবে। এখন সেই পর্যায়ে এটা বাড়তে বাড়তে ৪৫ কোটিতে এসে ঠেকেছে। এখন বলা হচ্ছে, করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা এবং পেইডআপ ক্যাপিটাল সরকার জোগান দিয়ে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করবে।

পরিচালনা পর্ষদের নিয়োগ আগের মতোই সরকার দেবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পরিষদের গঠন ছিল একজন চেয়ারম্যান চারজন পরিচালক নিয়ে।

এখন প্রস্তাব করা হয়েছে একজন চেয়ারম্যান ও ৪ জন পরিচালকের সঙ্গে আরেকজন খণ্ডকালীন পরিচালক যুক্ত হবেন যিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj