সুকুমার রায়

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সুকুমার রায় (জন্ম ৩০ অক্টোবর, ১৮৮৭; মৃত্যু ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯২৩) একজন বিখ্যাত বাঙালি শিশুসাহিত্যিক। তার জন্ম কলকাতায়। তিনি একাধারে লেখক, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, রম্যরচনাকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সম্পাদক। বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তার পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তার পুত্র। সুকুমার রায় সিটি স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাস করে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে রসায়নে অনার্সসহ বিএসসি পাস করেন। পরে ফটোগ্রাফি ও প্রিন্টিং টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গুরুপ্রসন্ন ঘোষ স্কলারশিপ’ নিয়ে তিনি বিলেত যান। সেখানে তিনি প্রথমে লন্ডন এবং পরে ম্যানচেস্টারে স্কুল অফ টেকনোলজিতে লেখাপড়া করেন। ম্যানচেস্টারে স্কুল অফ টেকনোলজিতে ভর্তি হয়ে তিনি পিতার উদ্ভাবিত হাফটোন পদ্ধতি প্রদর্শন করে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায় সুকুমার রায় বিভিন্ন বিষয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯১৩ সালে দেশে ফিরে তিনি পিতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘ইউ রায় এন্ড সন্স’-এ যোগ দেন। সুকুমার রায় একাধিক গুণের অধিকারী ছিলেন। অল্প বয়স থেকেই তিনি পিতার অনুপ্রেরণায় মুখে মুখে ছড়া রচনা ও ছবি আঁকার সঙ্গে ফটোগ্রাফিরও চর্চা করতেন। কলেজ জীবনে তিনি ছোটদের হাসির নাটক রচনা এবং তাতে অভিনয় করতেন। তিনি শান্তিনিকেতনে একবার রবীন্দ্রনাথ ও অবনীন্দ্রনাথের সঙ্গে গোড়ায় গলদ নাটকে অভিনয় করেছিলেন। স্বদেশি আন্দোলনের সময় তিনি বেশ কিছু গান রচনা করেন এবং নিজে সেগুলো গেয়েছেনও। পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতৃপ্রতিষ্ঠিত সন্দেশ পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি এ পত্রিকার জন্য নিয়মিত গল্প, কবিতা ও নিজের আঁকা ছবি পাঠাতেন। সুকুমার রায়ের প্রধান অবদান শিশু-কিশোর উপযোগী বিচিত্র সাহিত্যকর্ম। কবিতা, নাটক, গল্প, ছবি সবকিছুতেই তিনি সূ² ব্যঙ্গ ও কৌতুকরস সঞ্চার করতে পারতেন। তার কাব্যে হাস্যরসের সঙ্গে সমাজচেতনাও প্রতিফলিত হয়েছে। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: আবোল-তাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, বহুরূপী, খাইখাই, অবাক জলপান, শব্দকল্পদ্রুম, ঝালাপালা ইত্যাদি। এ ছাড়া বাংলা ও ইংরেজিতে রচিত তার কিছু গুরুগম্ভীর প্রবন্ধও রয়েছে। ডায়েরির আকারে রচিত হেসোরামের ডায়েরি নামে তার একটি অপ্রকাশিত রম্যরচনা আছে।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj