সংসদে রেলমন্ত্রী : ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ সরকারের

মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ প্রতিবেদক : রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে এ তথ্য জানান। এর আগে বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গত এক দশকে রেলওয়েকে ঢেলে সাজানো ও একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, রেলওয়েকে জনগণের নিকট নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর ওই প্রকল্পের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন (ওভারহেড ক্যাটিনারী ও সাবস্টেশন) প্রবর্তনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৫ সালের ৮ ডিসেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। উক্ত সমীক্ষা প্রকল্পের ওপর পরিকল্পনা কমিশনে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সমীক্ষা প্রস্তাব পুনর্গঠন করে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, ২০১৬ সালের ১৩ মার্চে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পর্যায়ক্রমে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর অংশ হিসেবে গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জ বৈদ্যুতিক ট্রেন প্রথম চালু করতে হবে।

তিনি সংসদকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, ভৌত অবকাঠামো বিভাগ, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পের যৌক্তিকতা পর্যালোচনা বিষয়ে সভা হয়। সভায় নারায়ণগঞ্জ হতে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পরিবর্তে নারায়ণগঞ্জ হতে ঢাকা হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্ত ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যেতে পারে বলে সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ, চলতি বছরের ৭ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্পের ওপর পরিকল্পনা কমিশনে পুনরায় পিইসির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে নারায়ণগঞ্জ হতে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ট্রেন সার্ভিস চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে।

বিএনপিদলীয় সাংসদ রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রেলওয়ে সবচেয়ে বড় গণপরিবহন। সরকারি সংস্থা হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে পরিকল্পনা প্রণয়নের চেয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে সেবা দেয়ার বিষয় বিবেচনায় পরিকল্পনা নেয়া হয়ে থাকে। সে জন্য ১৯৯২ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ২০ বছরে রেলওয়ের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেলওয়ের ব্যয় ছিল ৩১১৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে আয় ছিল ১৬১৮ কোটি টাকা। শুধু যাত্রী ভ্রমণই নয়, রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, স্কুল, হাসপাতালের মাধ্যমেও দেশের জনগণ সামাজিক ও নিরাপত্তামূলক সেবা পেয়ে আসছে, যার ব্যয় রেলওয়ে থেকে নির্বাহ করা হচ্ছে। এতে রেলওয়ের ব্যয় বাড়ছে। অন্যদিকে ২৬ বছরে মাত্র ?দুবার ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। ফলে আয়-ব্যয়ের পার্থক্য পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj