কবে শিখবে টাইগাররা?

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : ক্রিকেটে বাংলাদেশের পাওয়া প্রথম বড় সাফল্য কোনটি- এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরে যেতে হবে ১৯৯৭ সালে। ওই বছর আইসিসি ট্রফির ফাইনালে কেনিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জেতে আকরাম খানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ১৯৯৯ সালের বিশ^কাপে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় টাইগাররা। ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত ওই বিশ^কাপে চমক দেখায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এসব সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পায় টাইগাররা। ক্রিকেটের সবচেয়ে অভিজাত সংস্করণে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ম্যাচটি খেলে ২০০০ সালের নভেম্বরে। ওই ম্যাচে টাইগারদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছিল ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে। এরপর কেটে গেছে প্রায় দুই দশক। কিন্তু এখনো যেন টেস্ট খেলাটা ঠিকঠাকভাবে শিখতে পারেনি টাইগার বাহিনী। আফগানিস্তানের মতো নবীন দলের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে অসহায় আত্মসমপর্ণ তো সেটারই ইঙ্গিত দেয়।

আফগানদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের আগে গত প্রায় ২০ বছরে সাদা পোশাকে মোট ১১৪টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এরমধ্যে জয় আছে মাত্র ১৩টি। যেখানে অধিকাংশ জয়ই এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। যারা শক্তির বিচারে বাংলাদেশের তুলনায় বেশ দুর্বল। এমনকি ২০০০ সালের পর থেকে টেস্টে রোডেশিয়ানদের উল্লেখযোগ্য কোনো সফলতাও নেই। এই সময়ে বড় কোনো দলকে হারাতে পারেনি আফ্রিকা মহাদেশের দেশটি। টেস্টে টাইগারদের ১৩ জয়ের ৬টিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০০৯ সালের পর থেকে উইন্ডিজ ক্রিকেটে বড় দুঃসময় চলছে। আর এই সময়ে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৪টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ দল। টেস্টে টাইগারদের অবশিষ্ট ৩টি জয় এসেছে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এখনো টেস্ট জিততে পারেনি বাংলাদেশ। যা সাদা পোশাকে টাইগারদের চরম ব্যর্থতার দিকটিকেই ফুটিয়ে তোলে।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির তুলনায় টেস্টের উইকেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। রঙিন পোশাকে রান তোলার তাড়া থাকে, আর উইকেট থাকে অনেকটাই ব্যাটিং সহায়ক। সেদিক থেকে টেস্ট ক্রিকেট পুরোই ব্যতিক্রম। এখানে রান তোলার তাড়া থাকে না। আর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উইকেটে ফাটল ধরতে শুরু করে। ফলে সময় যত পার হয় উইকেট থেকে ততই সহায়তা পেতে থাকেন বোলাররা। তাই সাদা পোশাকে ব্যাটসম্যানদের দিতে হয় চরম ধৈর্যের পরীক্ষা। আর এই জায়গাটিতেই অধিকাংশ সময় ব্যর্থ হন টাইগার ব্যাটসম্যানরা। আফগানদের বিপক্ষেও দেখা গেছে এমন চিত্র। আফগান ব্যাটসম্যানরা চেষ্টা করেছেন যতক্ষণ সম্ভব ক্রিজে থাকার। আর এর ফলও পেয়েছেন তারা। ১ম ইনিংসের দিকেই তাকানো যাক, মাত্র ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন রহমত শাহ ও আসগর আফগান। সেট ব্যাটসম্যানদের যে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করতে হয় সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন তারা। আসগর-রহমত জুটি যোগ করে ১২০ রান। অন্যদিকে ১ম ইনিংসে বাংলাদেশের মুমিনুল হক ও লিটন দাস ক্রিজে সেট হয়েও দলের জন্য কিছুই করতে পারেননি। মুমিনুল আউট হয়েছেন অপ্রয়োজনীয় বিগ শট খেলতে গিয়ে। আর লিটন যেভাবে আউট হয়েছেন সেটাকে তো রীতিমতো উইকেট বিলিয়ে দেয়াই বলা যায়। টেস্টে মানসিক চাপকে জয় করতে হয়। চরম চাপের মুহূর্তেও ভেঙে না পড়ে খেলে যেতে হয় নিজের স্বাভাবিক খেলাটা। এই জায়গাটিতেও বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। ৩৯৮ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতাটা সত্যিই কঠিন চ্যালেঞ্জ। আর এই পাহাড়সম লক্ষ্য দেখেই যেন ভয় ঢুকে যায় টাইগার ব্যাটসম্যানদের মনে। নয়তো এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং করে উইকেট বিলিয়ে দেয়ার আর কি মানে থাকতে পারে! অথচ নিজেদের ২য় ইনিংসে মাত্র ২৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পরেও ২৬০ রান সংগ্রহ করেছে আফগানরা।

মুশফিক ও সাকিব দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে টেস্ট খেলছেন। মাহমুদউল্লাহর টেস্ট ক্যারিয়ারের বয়স এক দশক পূর্ণ হয়েছে। মুমিনুল, মোসাদ্দেক, সৌম্যরাও দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। এমন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ক্রিকেটার থাকা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের মতো নবীন দলের বিপক্ষে টেস্টে অসহায় আত্মসমপর্ণ করাটা সত্যিই লজ্জার। আফগানদের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে সাকিবদের অসহায় আত্মসমপর্ণ দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে- গত দুই দশকে টেস্ট খেলা শিখতে পারেনি টাইগাররা, তাহলে শিখবে কখন?

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj