সমুদ্র অর্থনীতিতে দেশের সম্ভাবনা

সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

স¤প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ভারত মহাসাগরের উপক‚লে অবস্থিত ৩০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ইন্ডিয়ান ওশান রিম এসোসিয়েশনসের (আইওআরএ) তৃতীয় শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নে সমুদ্র অর্থনীতির গুরুত্ব। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত মোকাবেলায় অভিযোজন সক্ষমতা অর্জনে করণীয়, তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টিও ছিল আলোচ্য বিষয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে সমুদ্রের সুস্থ পরিবেশ বজায় রেখে সমুদ্র সম্পদ আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বর্তমান বিশ্বে ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতির বিষয়টি বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আসলে সমুদ্র সম্পদনির্ভর পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেই বলে ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতি। ১৯৯৪ সালে অধ্যাপক গুন্টার পাউলি ভবিষ্যতের অর্থনীতির রূপরেখা প্রণয়নের জন্য একটি টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব মডেল হিসেবে ব্লু-ইকোনমির ধারণা প্রদান করেন। মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ খাদ্য ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিশ্বের নজর এখন সমুদ্র তলদেশে সঞ্চিত সম্পদের ওপর। সমুদ্রকে ঘিরেই বিশ্ববাণিজ্যে প্রতি বছর প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য সংঘটিত হয়।

সমুদ্র বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ পেয়েছে ভূখণ্ডের প্রায় সমআয়তনের সমুদ্রসীমা। উন্নয়ন কৌশলের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে। সম্ভাবনাময় এই খাত দেশের জিডিপি-জিএনপি প্রবৃদ্ধিতে যেমন রাখবে অনবদ্য অবদান তেমনি সমুদ্র অর্থনীতিনির্ভর ব্যাপক কর্মকাণ্ড বেকারত্ব বিমোচনের ক্ষেত্রেও রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সরকারের উচিত সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রযুক্তি দক্ষতা বাড়াতে গবেষণা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদান ও প্রয়োজনে উন্নত প্রযুক্তির দেশগুলোর সহায়তা নেয়া। বাংলাদেশকে বার্ষিক জ্বালানি চাহিদা মেটাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। যদি উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে সমুদ্র তলদেশে অনুসন্ধান চালানো যায়, তবে তেল-গ্যাস, খনিজ বালু, ইউরেনিয়াম, টারটারিয়ামসহ অনেক সম্পদের সন্ধান মিলতে পারে। এতে একদিকে যেমন দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। অপরদিকে বিরাট অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রারও সাশ্রয় হবে। সম্প্রতি খনিজসম্পদ অনুসন্ধানে নিয়োজিত সরকারি সংস্থার তথ্য দুঃখজনক। পুরো সমুদ্রকে তারা ২৬টি অর্থনৈতিক ব্লুকে ভাগ করেছে। এর মধ্যে শুধু ৪টি ব্লুকে পুরোদমে কার্যক্রম চলছে। বাকিগুলো শুধু আয়তন আর সীমা নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। সেগুলোতে কী পরিমাণ সম্পদ সঞ্চিত আছে তা অনুসন্ধানের কাজ তিমিরেই রয়ে গেছে। চীন-জাপান যৌথ বিনিয়োগে আগ্রহ দেখালেও বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসন্ধান কাজটি সম্পন্ন না হলে তারা চুক্তিবদ্ধ হবে না নিশ্চিত। তাই সঞ্চিত সম্পদের পরিমাণ নির্ণয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রমে জোর দিতে হবে বাংলাদেশকে। গুরুত্ব অনুধাবন করে টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে আত্মনির্ভরশীল হওয়া যায় সেদিকে মনোনিবেশ করতে হবে সরকারকে। প্রয়োজনে সমুদ্র অর্থনীতি মন্ত্রণালয় গঠন করে কাজের গতিশীলতা আনতে হবে।

আব্দুর রহমান লাবু
শিক্ষক ও লেখক।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj