বৈচিত্র্যে নিজস্বতা…

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এখন সবাই ফ্যাশন-সচেতন। তবে, শহুরে তরুণ-তরুণীরা এখন আরো বেশি সচেতন ফ্যাশন ট্রেন্ড, কালার ফোরকাস্টিং বা প্যাটার্ন বা ফেব্রিক বৈচিত্র্য বিষয়গুলো জানতে। ক্রেতা চাহিদার প্রভাব তাই দেশীয় রেডি টু ওয়ার ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতেও। এসব ব্র্যান্ডের দেশীয় ডিজাইনে স্বভাবতই পাশ্চাত্য কাট অনুসরন এখন বেশ লক্ষণীয়। তবে, উৎসব পরবর্তি সময়টায় ক্যাজুয়াল পোশাক আশাক নির্ভর করবে আপনার রুচি এবং শারীরিক গঠন এবং বয়সের উচ্ছলতার উপর। মূলত: ফ্যাশনের ক্ষেত্রে প্যাটার্ন, বিভিন্ন রঙ ও ফেব্রিক মিলিয়ে আমরা তৈরি করে নেই নিজস্ব কিছু স্টাইল।

ভিন্ন ভিন্ন প্রিন্ট

খুব সহজ উপায়ে বিভিন্ন প্রিন্ট মিক্স করা যেতে পারে। এর একটি হলো দুটি ভিন্ন সাইজ বা স্কেলের ভিন্ন দুটি প্রিন্ট। এখানে আমি ফ্লোরাল প্রিন্টেড লং স্কার্টের সঙ্গে পোলকা ডট প্রিন্টেড অফশোল্ডার টপ মিলিয়েছি। দুটি প্রিন্ট সম্পূর্ণ আলাদা হলেও একটি অপরটিকে কমপ্লিমেন্ট করছে, যেখানে একটিতে রয়েছে মিডিয়াম সাইজের ফ্লোরাল প্রিন্ট আর অপরটিতে সম্পূর্ণ বিপরীত, খুব ছোট ছোট পোলকাডট। সব মিলিয়ে এটি খুবই সুন্দর একটি লুক।

চেকস অ্যান্ড স্ট্রাইপস

প্রিন্টের ক্ষেত্রে স্ট্রাইপ, বিশেষ করে সাদা-কালো স্ট্রাইপ, নিউট্রাল বা নিরপেক্ষ হিসেবে কাজ করে। ফলে স্ট্রাইপ বেশির ভাগ প্রিন্টের সঙ্গেই মানিয়ে যায়।

ডিজাইনারের বয়ান

লা রিভের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মন্নুজান নার্গিস জানান, লা রিভের পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর পোশাকসমূহের মূল উপজীব্য অরিজিন তথা উৎসমূল। প্রতিটি দেশ ও জাতির যেমন রয়েছে নিজস্ব শিল্প ও সংস্কৃতি, সেই সংস্কৃতির উৎসব সন্ধানে কাজ করেছে লা-রিভ। লা রিভ এবারের ঈদ আয়োজনে মসলিনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আরেক উৎসমূল জামদানি মোটিফ নিয়েও থাকছে বহুমাত্রিক কাজ।”

প্রিন্ট সব যুগে, ফ্যাশন তথা পোশাকশিল্পের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর রয়েছে নানা রূপ ও প্যাটার্ন। কোথাও জ্যামিতিক বৃত্ত, উপবৃত্ত, ত্রিভুজ, কোথাও বা ফুল, পাতাই হয়ে ওঠে প্রিন্ট পোশাকের মূল ডিজাইন। এ প্রসঙ্গে ক্যাটস আইয়ের পরিচালক ও ডিজাইনার রুম্মাইলা সিদ্দিকী বলেন, ‘ পোশাক মানে কিছুটা শিল্প আর কিছুটা ডিটেইলিং। ফ্যাশনপ্রেমীরাও চান গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু পরতে। ফলে ডিজিটাল প্রিন্ট নিয়ে এখন বেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে।’

আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজের উদ্যোক্তা ও ডিজাইন কনসাল্ট্যান্ট তাসলিমা মলি জানান, ‘তরুণ প্রজন্মের ঝোঁক এখন ফিউশনধাঁচের ফ্যাশনের দিকে। এ কারণেই ডিজিটাল প্রিন্টের পোশাক এখন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানি করা কাপড়গুলোতে অ্যাজটেক সংস্কৃতির বিভিন্ন মোটিফ ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল প্রিন্টের আদলে।’

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, অ্যাজটেকদের আদি ভূমি ছিল মেক্সিকোতে। মেক্সিকান এই উপজাতির রঙিন ও আনন্দময় সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত এই প্রিন্ট। জেন্টল পার্কের চিফ ডিজাইনার শাহাদাৎ হোসেন বাবু বলেন, ‘প্রিন্টটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সাহসী সব রঙের সমন্বয়, গাঢ় কালো আউটলাইন আর জ্যামিতিক ফর্মের দৃঢ়তা। যেকোনো ধরনের পোশাকে চমৎকারভাবে এই শিল্পকর্মকে ফুটিয়ে তোলা যায়। তাই ডিজাইনাররা ফ্যাশনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রতœ-আবেদনময় মেক্সিকান প্যাটার্ন বেছে নিচ্ছেন।’

তাসলিমা মলি আরো জানালেন, ‘টি-শার্ট থেকে শুরু করে জাম্প স্যুট সব কিছুতেই অ্যাজটেকের জ্যামিতিক প্রিন্টের আয়োজন নজর কাড়বে। আর সরাসরি ছবির প্রতিচিত্রের পাশাপাশি বিমূর্ত, ফ্লোরাল বা জ্যামিতিক মোটিফ সব সময়ই সাজ পোশাকে একটা অন্য রকম মাত্রা যোগ করে।’ রুম্মাইলা সিদ্দিকী জানান, ‘অনেক রঙের সমন্বয়ে কাপড়ে ডিজাইন করতে কম্পিউটারের মাধ্যমে সরাসরি প্রিন্ট ব্যবহার করা হয়। এভাবে নিশ্চিন্তে খুব সাশ্রয়ে কাপড়ে রং করা যায়। এ ছাড়া স্টিল সিলিন্ডারের ওপরের ইলেকট্রোপ্লেটিং পদ্ধতির মাধ্যমে কপারের স্তর তৈরির পর লেজার দিয়েও ডিজাইন করা হয় কাপড়ে। এ ধরনের সিলিন্ডার প্রিন্টও করা হচ্ছে আমাদের দেশে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘গতানুগতিক গ্রাফিকস আর্টের পাশাপাশি লাল, নীল, হলুদ, আকাশি, বেগুনি, গোলাপি কিংবা মেরুনের মতো বর্ণিল রং, গ্রীষ্মের ফুল, পাতা ও প্রজাপতি প্রিন্ট, গ্রাফিকস আর্টস, অ্যাজটেক প্রিন্ট চলতি ফ্যাশন ট্রেন্ড।’

সাইজ ম্যাটার্স

মাপ ঠিক থাকলে যেমন ক্যাজুয়ালি ফিট তেমনি মাপে বেখাপ্পা হলেও দেখতে লাগে হাস্যকর। তাই বলা যায়, তরুণ-তরুণীদের পোলো শার্ট, টিউনিক কুর্তি, বা টপসের ক্ষেত্রে সাইজ ম্যাটার্স।

কালার ট্রেন্ড

পোশাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি রঙেরই রয়েছে একটি স্বতন্ত্র শক্তি এবং অর্থ।

হালকা অথবা উজ্জ্বল রঙ যেটিই হোক না কেন, সবই ব্যবহৃত হবে পোশাকে, অনুষঙ্গে। রঙ, ফেব্রিক্স এবং সেলাই নৈপুণ্যের ছড়াছড়ি থাকবে বছরজুড়েই। লাইম বেøাসম, ক্লোটেড ক্রিম, হেম্প, টরটইসশেল, শ্যাডো, লুপিন, ফলিঅ্যাজ, অ্যাপল, সেজ, ফরমিকা স্মুথি, ওয়েস্টারিয়া, এশিয়ান ব্রোঞ্জ, সাংহাই মিস্ট, আর্থ আনিমন, অক্রিজেন, বেবিডল, বেবিচিক, গ্রেপ, লাপিস, ক্যানারি, ম্যাকারন, কুইন্স পেটাল- এসব কালার কোড থাকবে গরমের ফ্যাশনে।

তবে এসব কালার ট্রেন্ডের রয়েছে বিভিন্ন মুড ও ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ। যেমন টেন্ডার, আর্থি ও ফ্লোরাল।

স্ট্রাইপ, পেইজলি, পোলকাসহ বিভিন্ন ফ্লোরাল প্রিন্ট মোটিফও এবার তুঙ্গে। ফ্যাশন এনালিস্টদের মতে, চড়া রংগুলোই এখন ট্রেন্ডি। কোনো কোনো ড্রেসে আবার ফুলেল প্রিন্টের হালকা রঙের কাপড় ব্যবহার করে প্রাচীন ধাঁচের লুক আনা হয়েছে, আবার কেউ কেউ মিক্স- ম্যাচ কালার কন্ট্রাস্ট করেও নিজেই বেছে নিচ্ছেন নিজের গ্রীষ্মের ট্রেন্ড। এছাড়া ফ্যাশানে এখ ছোট বড় বলতে কিছু নেই এই গরমে সবাই একটু আরামদায়ক পোশাকই চাইবেন বেশি। সাথে তা হতে হবে আধুনিক ট্রেন্ড অনুযায়ী ।

:: শেফালী সোহেল

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj