বিউটি : সুন্দর ঠোঁট

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সুমাইয়া আহমেদ

ফ্যাশন ম্যাগাজিন বা বিলবোর্ডের সুন্দরীদের দিকে তাকিয়ে অনেক সময় আপনার মন খারাপ হয়ে যায়। জুস হাতে মেয়েটার কী চমৎকার ঠোঁট। ইশ! আমার যদি এমন বড় ও ফোলা ঠোঁট হতো, কতই না আকর্ষণীয় দেখাতো! আসলে সৌন্দর্য নিয়ে আফসোসের কোনো মানে নেই। যদি আপনি হাসি-খুশি, উৎফুল্ল মুডে থাকেন, তবে আপনার মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। তবুও নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ঠোঁটের যতœ নেয়া অপরিহার্য। আসুন দেখে নিন কীভাবে আকর্ষণীয়ভাবে ঠোঁট সাজানো যায়

১. ঠোঁট সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজাবার প্রথম শর্ত হচ্ছে কখনো অন্যের ঠোঁট বা ঠোঁটে লিপস্টিকের কালার দেখে নিজে ওইভাবে সাজতে যাবেন না। কারণ আমরা প্রতিটা মানুষ আলাদা। আমাদের গায়ের রঙ, ঠোঁটের রঙ, ঠোঁটের শেপ সব আলাদা।

তবে ডার্ক কালারের লিপস্টিক বা গøস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এর কারণে ঠোঁট ছোট মনে হবে। এর চেয়ে বরং লাইট শেড ব্যবহার করুন। একটু শাইনি ফিনিশিং দিন। এতে আলো প্রতিফলিত হবে, যা বিভ্রম তৈরি করবে। ঠোঁটকে আরেকটু বড় ও ফোলা ফোলা মনে হবে।

২. আকর্ষণীয় যে কোনো কিছুর ক্ষেত্রে ঘষা-মাজার সম্পর্ক রয়েছে। ঠোঁটের সৌন্দর্যে লাগবে ভালোমানের টুথব্রাশ। প্রতিদিন হালকাভাবে বৃত্তাকারে ঠোঁটে ঘষুন, যা রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দেয়। ঠোঁটকে দেখাবে আরেকটু বড়। মনে রাখুন, বেশি প্রেশার দিয়ে ব্রাশ ব্যবহার করবেন না।

৩. বেশি বেশি গøস এড়িয়ে চলুন। এর শাইনি ইফেক্টে ঠোঁট ছোট দেখায়। তার বদলে ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করুন। ভালো করে ছড়িয়ে দিতে ব্যবহার করুন লিপব্রাশ।

৪. যখন মুখে ফাউন্ডেশন লাগাবেন তখন মুখের সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁটের বর্ডার লাইনসহ ফাউন্ডেশন লাগান। এতে ঠোঁট ছোট-বড় করে আঁকতে সুবিধা হবে।

৫. শুধু পছন্দের কালার বাছলেই হবে না। আপনি যে পোশাক বাছাই করেছেন তার সঙ্গে যেন আপনার লিপস্টিক মানিয়ে যায় সেটা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। ক্রস ম্যাচিং অথবা ম্যাচ ম্যাচিং যেটাই করুন না কেন অবশ্যই তা যেন আপনার সঙ্গে মানায়।

পার্টি দিনে না রাতে তার ওপর নির্ভর করে লিপস্টিকের রঙ বাছাই করুন। অবশ্যই আপনার বয়সের ব্যাপারটা মাথায় রাখবেন।

৬. মুখে বলিরেখা থাকলে কখনই খুব ডার্ক কালারের লিপস্টিক যেমন ডার্ক রেড, মেরুন, ডার্ক কপার, চকোলেট কালার ব্যবহার করবেন না। এতে বলিরেখা বেশি বোঝা যাবে। আর চেহারা বেশি রুক্ষ দেখাবে।

যদি আপনার গায়ের রঙ চাপা হয় তাহলে কখনই ব্রাইট ও ফ্লোরেন্স কালার ব্যবহার করবেন না।

এতে ঠোঁট আলগা লাগবে। আর আপনাকে দেখতে মোটেও ভালো লাগবে না।

৭. ঠোঁট চিকন মোটা অথবা বড়-ছোট করতে চাইলে যে কালারের লিপস্টিক ব্যবহার করবেন তার চেয়ে এক শেড ডার্ক কালার লিপ লাইনার নিন। অনেক সময় নিয়ে আস্তে আস্তে আপনার পছন্দ অনুযায়ী ঠোঁটের আউট লাইন করুন। তারপর আউট লাইনের ভেতর থেকে লিপস্টিক লাগান। বর্ডার লাইনের সঙ্গে লিপস্টিক ভালোভাবে বেøন্ড করুন। যদি লাইন আঁকাবাঁকা হয় বা লিপস্টিক ছড়িয়ে যায় তাহলে মোছার জন্য বা ঠিক করার জন্য ফেইস পাউডার অথবা পেনকেকের পাফ ব্যবহার করুন।

৮. ওয়াটার প্রæফ লিপস্টিক ঠোঁটের জন্য ভালো না। তাই ওয়াটার প্রæফ লিপস্টিক বেশি সময় ঠোঁটে না রাখাই ভালো। লিপস্টিক তোলার সময়ও যতœ নিয়ে তুলুন। জোরে ঘষাঘষি না করে কটন বলে ক্লিঞ্জার নিয়ে আস্তে আস্তে লিপস্টিক তুলন। তারপর স্বাভাবিক নিয়মে পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার করার পর অবশ্যই ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা লিপবাম ব্যবহার করুন। ক্লিঞ্জার না থাকলে বডি লোশন অথবা নারিকেল তেল দিয়ে ঠোঁট পরিষ্কার করুন।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj