নিজের সঙ্গে নিজের কথা বলা

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আমরা অনেকেই নিজের সঙ্গে কথা বলি। বেশির ভাগ সময়ই এই ব্যাপারটি সাধারণত আমরা অবচেতন মন থেকে করি। নিজের সঙ্গে কথা বলার জন্য সবাই ভাবতে পারে আপনি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন অথবা আপনার সঙ্গে হয়তো খারাপ কিছু ঘটেছে এরকম নানান কুসংস্কারের জন্য নিজের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস ধীরে ধীরে পরিবর্তন করে ফেলেন অনেকেই। কিন্তু বিজ্ঞান ইতিমধ্যেই আবিষ্কার করেছেন নিজের সঙ্গে কথোপকথনের কিছু ভালো দিক।

একাকীত্ব দূর করে

নিজের সঙ্গে কথা বললে একাকীত্ব দূর হয়। এই অভ্যাসটি একটি স্বান্তনাকারী প্রতিষেধক। অর্থাৎ একটি শান্ত পরিবেশে বসে যখন আপনি নিজের সঙ্গে নিজেই কথা বলবেন তখন এটি আপনার মনে একটি প্রশান্তি এনে দিবে। একজন বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেছেন, কী নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন যখন নিজের সঙ্গে চাইলে বিতর্ক করতে পারছেন? এই অভ্যাসটি অস্বাভাবিক আচরণের প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করবে।

বাচ্চাকে শেখাতে সাহায্য করবে

যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে তাদের উপস্থিতিতে নিজের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারটি বাচ্চার ভাষা শিখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। স্বাভাবিক ভাবেই ছোট বাচ্চাদের মধ্যে স্পঞ্জের মতো তথ্য শোষণ করার ক্ষমতা থাকে এবং তারা তাই পুনরাবৃত্তি করে যা তারা বার বার শোনে। বাচ্চারা আপনার বাক্য গঠনের পদ্ধতি, শব্দভাণ্ডার সহজেই রপ্ত করতে পারবে। নিজের সঙ্গে কথোপকথন হতে পারে আপনার বাচ্চার জন্য শিক্ষণীয় পদ্ধতি। কাজেই যখন যা করছেন, নিজের সঙ্গে কথা বলুন মন খুলে। থালা বাসন ধোয়ার সময় থেকে শুরু করে সাজসজ্জার সময় যখন যে কাজেই থাকুন, কথা বলুন নিজের সঙ্গে। যেভাবে যত সুন্দরভাবে বাচ্চার সামনে কথা বলবেন বাচ্চা সেভাবে কথা বলার শৈলী অনুকরণ করবেন।

তাড়াতাড়ি খুঁজে বের করতে সহায়ক

গবেষণায় জানা গিয়েছে, নিজের সঙ্গে কথোপকথন যে কোনো কিছু সহজেই খুঁজে বের করতে সাহায্য করে।

কোনো কিছু হারিয়ে গেলে, সেই জিনিসটির নাম যদি বার বার উচ্চারণ করেন। তাহলে হারানো জিনিস খুঁজে বের করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। যারা এই পদ্ধতি অবলম্বন করেন না তাদের চেয়ে যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন তাদের হারানো জিনিস খুঁজে বের করার ক্ষমতা অনেক বেশি হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আপনার মোবাইল হারিয়ে গিয়েছে আর আপনি যদি নিজে নিজেই বলেন, মোবাইল, আমার মোবাইলটা কই? এরকম অভ্যাসগুলো সত্যিকার অর্থেই কার্যকরী।

আপনাকে রাখবে সংঘটিত

এত মনোবিজ্ঞানী বলেন, যদিও আমরা একসঙ্গে অনেক কিছু ভাবি তবুও আমাদের মন যে কোনো একটি কাজকে এক সময়ে সঠিকভাবে করতে পারে।

আপনার প্রতিদিনের কাজগুলোর সময় যদি নিজেকেই বলেন, এরপর আপনার এই কাজ আছে, তাহলে আপনার মস্তিষ্ক পরবর্তী কাজ সম্পর্কে সতর্ক হয়ে যাবে। আর আপনি প্রাকৃতিকভাবে সব কাজ সঠিক সময়ে শেষ করতে পারবেন যা আপনাকে রাখবে সংঘটিত সবসময়।

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj