কিশোর অপরাধ রোধে করণীয়

রবিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেশে কিশোর অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। ভয়ঙ্কর সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে উঠতি বয়সের কিশোররা। সামান্য কারণে এক কিশোর খুন করছে তার নিকটাত্মীয় বা বন্ধুকে। অতি সম্প্রতি গাজীপুরে কিশোর গ্যাং চক্রের হাতে নুরুল ইসলাম নামে এক কিশোর খুন হয়েছে। এ ছাড়া বরগুনার একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে ছয়জন কিশোর জড়িত থাকায় ব্যাপারটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের পরিচালনায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে।

সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের অশুভ তৎপরতায় সমাজসচেতন প্রতিটি মানুষ চিন্তিত। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদকসেবন ও বিক্রি এমনকি অস্ত্র বহনসহ নানা অপরাধমূলক কাজে কিশোরদের লিপ্ত থাকার উদ্বেগজনক তথ্য মিলছে। এসব অপরাধের পেছনে কাজ করে এক শ্রেণির শক্তিশালী সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্র। কখনোবা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়ও কিশোররা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এক সময় সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা শুধু দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে নি¤œবিত্ত, ছিন্নমূল পরিবারের কিশোরদের নিজেদের দলে টানত। এখন নি¤œবিত্তের বাইরেও মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের কিশোররাও অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

ঢাকাসহ দেশের ছোট-বড় শহরে দরিদ্র পরিবারের লাখ লাখ কিশোর বড় হয় অযতœ, অবহেলার মধ্য দিয়ে। শিশুকাল থেকে মা-বাবার স্নেহ-মমতা বঞ্চিত হয়ে ওরা পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিক‚ল পরিবেশে অবহেলা, বঞ্চনা এবং নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে এক সময় অপরাধ জগতের অন্ধকারের দিকে পা বাড়ায়। বাবা-মায়ের ¯েœহ-আদরের অভাব ও উপযুক্ত পরিচর্যাবঞ্চিত শিশু-কিশোররা ভোগে একাকিত্বে। এ সুযোগে তাদের মনে স্থান করে নেয় বাইরের বন্ধু-বান্ধব। আর সেই সঙ্গীরা অনেক সময় তাদের বিপথে ঠেলে দেয়। নেশাদ্রব্য গ্রহণ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে নানা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হতে থাকে।

আকাশ সংস্কৃতির অবাধ প্রবাহের এ যুগে অশ্লীল ভিডিও, ফেসবুক, ইন্টারনেটের অপব্যবহার তাদের বিপথগামী করে তোলে। মোবাইল ফোন আর কম্পিউটার ব্যবহারে ব্যস্ত কিশোর সময় কাটায় এক পরিবার বিচ্ছিন্ন জগতে। এ ছাড়া শরীর চর্চা, খেলাধুলার সুযোগও বর্তমান কিশোররা পায় না। সামাজিক-সাংস্কৃতির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ওদের সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ কম। মনোজগতের বিকাশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ থেকে বঞ্চিত হয়ে এরা চলে যাচ্ছে অন্ধকার জগতে। পারিবারিক বন্ধন ক্রমশ শিথিল হয়ে যাওয়া, সামাজিক অবক্ষয় ও অস্থিরতাকে আজ কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদন সুবিধা দিতে হবে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত মা-বাবারা সন্তানের প্রতি যথেষ্ট সচেতন হবেন। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে, সে বিষয়ে মা-বাবাকে খেয়াল রাখতে হবে। অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়লে তাকে কাউন্সিলিং করাতে হবে। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক ভালো করতে হবে। শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে উন্নত চিন্তা-চেতনা নিয়ে ওদের বেড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাহলেই এ দেশের কোনো কিশোর আর অপরাধের দিকে না ঝুঁকে বরং আলোর পথে হাঁটতে শুরু করবে। দেশের একটি কিশোরও যেন অপরাধী হয়ে না ওঠে সে দায়-দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ
লেখক ও প্রকৌশলী, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মোস্তাফা জব্বার

ফাইভ-জি চালু কতটা অবাস্তব

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

কিশোর অপরাধ রোধে করণীয়

Bhorerkagoj