ভারতীয় সেনাদের তাণ্ডব : কাশ্মিরের বাসিন্দারা সংকটে

শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : ৩৭০ ধারা বাতিলের পর সংকটে রয়েছেন কাশ্মিরের বাসিন্দারা। স¤প্রতি নামমাত্র জরুরি অবস্থা তুলে নেয়া হলেও রাজ্যটিতে অবস্থান করছে ৮ লাখের বেশি ভারতীয় সেনা। তারা গোটা অঞ্চলের বাসিন্দাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। এবার তেমনই এক সেনা নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেছে খোদ এক ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম। স্থানীয় ওই সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, বুধবার দক্ষিণ কাশ্মিরের শোপিয়ান জেলার ৪০ জন গ্রামবাসীর ওপর নির্মম নিপীড়ন চালিয়েছে সেনারা।

শোপিয়ানের পারিগাম ও ওমপোরা গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, ওই গ্রামগুলোর কাছে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ করেছিলেন তারা।

বুধবার রাস্তা সাফ গাড়ি নিয়ে গ্রামে ঢুকে সেনারা। সে রাতেই ওই গ্রাম দুটি প্রবেশ করে তল্লাসীর নামে নিরীহ গ্রামবাসীদের ওপর জুলুম চালায় ভারতীয় জওয়ানরা। তারা গ্রামের ঘরবাড়ি তছনছ করে, গাড়িও ভাঙচুর চালায়। তার পরে শুরু হয় গ্রামবাসীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন। তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি নারীরাও। নারীসহ ৪০ জনের মতো বাসিন্দাকে নিষ্ঠুরভাবে পেটায় সেনারা। মারধরের পরে দুই গ্রামের ২০ জন যুবককে তুলে নিয়ে যায় সেনারা। তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ওই এলাকার রাস্তাটি কাঁটাতার দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে সেনারা।

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর গত এক মাসে উপত্যকায় হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

ভারত সরকার অবশ্যই ৪ হাজার ১০০ জনকে আটকের খবর স্বীকার করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, আটককৃতদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার মানুষকে উপত্যকার বাইরের জেলে রাখা হয়েছে।

মোবাইল ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় কাশ্মিরের বাইরে থাকা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না পরিবারগুলো। এমনকি ঈদের শুভেচ্ছাটুকুও জানাতে পারেননি অনেকে। এম ইউসুফ খানের ছেলে ইকবাল জার্মানিতে ডক্টরেট করছেন। ইউসুফ বললেন, প্রায় এক মাস কথা হয়নি। ও কেমন আছে জানি না।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj