বাংলা ইন্ডাস্ট্রি যেন ভালো থাকে সে দায়িত্ব আমার

শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেবের আগামী ছবি ‘পাসওয়ার্ড’। পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় আর নায়িকা দেবেরই গার্লফ্রেন্ড রু´িণী। ভারতীয় গণমাধ্যমের খোলামেলা আড্ডায় দেব জানালেন বিস্তারিত। তারই চুম্বকাংশ তুলে ধরা হলো মেলার পাঠকদের জন্য-

যে কাজটাই করেন খুব জাঁকজমকের সঙ্গে সিনসিয়ারলি করেন। ‘পাসওয়ার্ড’ও কি তাই?

দেব : একেবারেই তাই। ইন্ডাস্ট্রি আর দর্শকের ভালোবাসা দিয়ে দেব তৈরি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি যে ইন্ডাস্ট্রি আমায় তৈরি করল তাকে আমারও কিছু ফেরত দেয়ার আছে। সেই ফেরত দেয়ার জায়গা থেকে আমি বারবার আমার ছবিতে নতুন কনটেন্টের দিকে ঝুঁকছি। এখানে এমন অনেকেই আছেন যারা সেফ খেলেন। ঘরের মধ্যেই ছবি তৈরি করে ব্যবসা আনেন। তারা তাদের দিক দিয়ে নিশ্চয়ই ঠিক। কিন্তু আমি বারবার নিজেকে ভাঙছি। হতে পারে আমার কোনো কোনো ছবি সুপারহিট নয়। ঠিক আছে। লোকে অন্তত আমার পরিশ্রম, অন্যরকম কাজ করার ঝুঁকিটা তো দেখুক। বুঝুক।

‘পাসওয়ার্ড’-এর ঝুঁকি কতটা?

দেব : আমার ছবির কনসেপ্টেই ঝুঁকি আছে। ছবির ক্ষেত্রে আমি সহজ পথ বাছব না। আপনি যদি ‘ককপিট’-এর কথা ভাবেন ফ্লাইট ল্যান্ডিং নিয়ে কোনো ছবি ভারতেই তো নেই! আমি করেছি। ‘চ্যাম্প’ আবার একেবারেই আলাদা, বক্সারকে নিয়ে ছবি। আর ‘পাসওয়ার্ড’-এর টিজার দেখে তো অনেকে আমায় বলেছে এটা হলিউডের ছবি মনে হচ্ছে। যেরকম লুক, সেট। এটাই তো পাওয়া। ‘ওয়ার’-এর টিজার দেখুন আর আমাদের ‘পাসওয়ার্ড’-এর টিজার রাখুন পাশাপাশি। মারাত্মক ফারাক কিন্তু নেই। আর যদি ফারাক দেখতেই হয় সেটা বাজেটে। আমরা চেষ্টা করছি বাংলা ছবিকে গ্লোবালি নিয়ে যেতে। মুম্বাই যেমন কনসেপ্টে চলছে। ‘আন্ধা ধুন’ হোক বা ‘গালি বয়’ হোক। সেই কনসেপ্ট নির্ভর ছবি করতে চাই।

আবার দেব-কমলেশ্বর জুটি!

দেব : কমলদা মহিলা হলে আমি ওর প্রেমে পড়তাম। একসঙ্গে কত যে সময় কাটাই আমরা! তবে এটা ঠিক, এই ধরনের গ্রাফিক্সের ছবি করার জন্য, গবেষণার জন্য কমলদার মতো পরিচালক পশ্চিমবঙ্গে আর নেই। অন্য পরিচালকদের সম্মান রেখেই বলছি এ কথা। বেশ কিছু সময় ধরে গবেষণা হয়েছে এই ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়ে। আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে সাইবার ক্রাইমের সম্মুখীন হয়েছি। কেউ বলি। কেউ বলি না। হঠাৎ কারো অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চলে যাচ্ছে। কারো আধার কার্ড ব্যাংকের সঙ্গে লিঙ্ক হয়ে আছে। আমরা সারাক্ষণ স্ট্যাটাস দিচ্ছি কে কোথায় যাচ্ছি? আমি হয়তো লন্ডনে। আমার ব্যাংকের সঙ্গে দ্রুত আমি ফিজিক্যালি কানেক্ট করতে পারব না। সেই বুঝে ব্যাংক থেকে টাকা তোলা হয়ে যাচ্ছে। কারণ ফেসবুকে আমার জন্মতারিখ থেকে ফোন নম্বর, সব আছে। এটাই তো ব্যাংক ভেরিফিকেশনে চায়। কাজটা সহজ হচ্ছে। সর্বোপরি সরকার উঠছে পড়ছে সাইবাল ক্রাইমে। ট্রাম্পের যা হলো! টিএমআই- টু মাচ ইনফরমেশন যে কতটা মারাত্মক সেই বিষয় মানুষকে সচেতন করতেই ‘পাসওয়ার্ড’। ছবিতে একদল তথ্য তুলে মানুষকে ঠকাচ্ছে, অন্য দল সেটার বিরোধিতা করছে। এই ভয়ঙ্কর সময়টাকেই তুলে ধরছি আমরা।

দুর্গাপূজায় এবার চারটে ছবি। এত কম ছবি কি ইন্ডাস্ট্রির দুর্বল অর্থনীতিকে চিহ্নিত করে?

দেব : যারা ভেবেছিলেন পূজাতে ছবি আসবে, কিন্তু পরে আনছেন না তাদের আমি সাধুবাদ জানাই। আমি অনেক আগেই পূজার ছবি ঘোষণা করে দিয়েছিলাম। তাই আমায় আনতে হলো।

সে কী! পূজাতে বাংলা ছবি মুক্তি পাওয়া তো চিরাচরিত বিষয়?

দেব : হল পাওয়া যায় না। এত ছবি আসবে কোথায়? এটা খুব বড় সমস্যা। তবে বারো বছর ধরে আমার পূজায় বারোটা ছবি রিলিজ হয়েছে। টাচউড, সবক’টাই ব্লুকব্লুাস্টার ছিল। পূজায় লোকে সপরিবার অনেক স্টারকে একটা ছবির মধ্যেই দেখে নিতে চায়। আমি মাল্টিস্টারার ছবির কথা বলছি। এখনো লোকে চায় পূজাতে দেবের ছবি আসুক। দেবের কমার্শিয়াল ছবি আসুক। পূজার সঙ্গে আমার ছবি আসার একটা সম্পর্ক আছে।

কিন্তু এবারের পূজাতে কম ছবি আসার ঘটনায় কি বলা যায়, টলি ইন্ডাস্ট্রি পড়তির দিকে?

দেব : নাহ, এটা আমি বলতে পারব না। আমি তো আমার প্রডাকশন হাউস থেকে একের পর এক চেষ্টা করে যাচ্ছি। গত দশ বছরে ‘হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রী’র মতো পিরিয়ড ফিল্ম কী এসেছে? তবে কম ছবি আসা ভালো। আমিও পরের বার পূজাতে ছবি আনব কি না সেটা ভাববো। আমাদের ছবি দেখানোর জায়গা নেই। একটা হাউস একটা ছবি আনলেই ভালো। খামোখা হাউসের ক্ষমতা দেখিয়ে ছবি এনে লাভ নেই। গ্রামেগঞ্জে নতুন হল দরকার।

নতুন হল তৈরির ক্ষেত্রে সাংসদ দেবের কোনো ভূমিকা আছে?

দেব : নাহ, সাংসদ দেব নয়। হিরো দেব এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি সজাগ। বাংলা ইন্ডাস্ট্রি যেন ভালো থাকে সে দায়িত্ব আমার! ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত যে কেউ আমার টেকনিশিয়ান থেকে ডিওপি, তাদের ভালো রাখার দায়িত্ব আমার। ইন্ডাস্ট্রিতে বলাও হয় দেবের প্রডাকশন হাউস সবাইকে যথাসময়ে তাদের সাম্মানিক দেয়। আমাদের সেটাই চেষ্টা। দেবকে ‘কিডন্যাপ’-এর মতো কমার্শিয়াল ছবিও করতে হবে। ‘সাঁঝবাতি’র মতো ইমোশনাল ছবিও করতে হবে। আরে, আমিই তো ‘আরশিনগর’ করেছি। অপর্ণা সেনের মতো পরিচালক। ওই রকম প্যাটার্নের ছবি করার মধ্যে যথেষ্ট ঝুঁকি ছিল। সব সময় আমি চেষ্টা তো করছি। সেটা আমার দর্শক জানে।

‘কমার্শিয়াল ছবি’, ‘স্টার’ এই শব্দগুলো আজকের ইন্ডাস্ট্রিতে গুরুত্বহীন হয়ে যাচ্ছে না?

দেব : আমি মনে করি না। স্টার সবসময় মিনিমাম একটা স্টার প্রেজেন্স নিয়ে আসে। অমিতাভ বচ্চন বরাবর সুপারস্টারই!

লোকে তো বলে, দেবের ঘরের ছবি মানেই তাতে রু´িণী থাকবে?

দেব : রু´িণী আর পাওলিকে কমলদা কাস্ট করেছে। আমি না। কমলদা তো পাশেই আছে, আপনি জিজ্ঞাসা করতে পারেন। বিষয়টা লোকে বলে। ‘হইচই আনলিমিটেড’-এ রু´িণী কোথায় ছিল? ‘পাসওয়ার্ড’-এ অভীক মুখোপাধ্যায় আর পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের কথা শুধু আমি বলেছি। বাকিটা সব কমলদা।

আপনার বিয়ের আর কতদিন বাকি?

দেব : আমার এখনো বিয়ের বয়স হয়নি।

মেলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj