একান্ত অনুভূতি

শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

দেবাঞ্জন শিপলু

তিতলির ভালোবাসায় গৃহবন্দি ছুটির দিনগুলো কাটছে ভালোই। ভালোই লাগছে জানালার গ্রিল ধরে আনমনে দাঁড়িয়ে যৌবনা বৃষ্টিতে সিক্ত গাছের বৃদ্ধ পাতা দেখতে। যৌবনবতী মেঘকন্যার ছোঁয়ায় বৃদ্ধ পাতায় ভালোই লেগেছে তারুণ্যের ছোঁয়া। হয়তো বা এও ভালোবাসার আরেক ভিন্নতা। ভালোবাসাযুক্ত ভাবনাগুলো মনে হলেই কেন যেন নভোনীলের মুখটা নিজের অজান্তে ভেসে ওঠে। মনে পড়ে যায় মেঘহীন তার পাগলাটে দিনগুলোর কথা। মেঘের সঙ্গে দূরত্বের দিনগুলোতে আমি প্রশ্ন করেছিলাম নভোনীলকে, ‘কেন এই অনুভবহীনতা’? উত্তরে নভোনীল উদাসী কণ্ঠে বলেছিল, ‘দাদা, ভালোবাসাকে ছোট্ট শিশুর মতো যতœ করতে হয়। দিনে দিনে জমে ওঠা ভালো লাগার অনুভূতিরা স্তরীভূত হয়ে সৃষ্টি করে ভালোবাসার অনুভবের। আর এই অনুভব হলো কোমলতা মাখা। তাই তীক্ষè আর তীর্যক বাক্যবাণ ভালোবাসার অনুভূতির রঙকে ফিকে করে দেয়। এরই সঙ্গে যদি থাকে বিপরীতের প্রতি উদাসীনতা আর আমিত্ব ভাব তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। এই ভাবেই একসময় ভাবনার আকাশে স্থান করে শ্রাবণের কালো মেঘ। এই মেঘই দিন কয়েক পর জন্ম দেয় একান্তে থাকা দুই হৃদয়ের মাঝে দূরত্বের। অন্য দিকে সময় ঐ দূরত্বে দিনে দিনে জমা করতে থাকে ভুলে থাকতে পারার রসদের আস্তরণ। এক সময় অন্তহীন প্রতিজ্ঞাসম্পন্ন ভালোবাসা অন্তিম পথে হাঁটে। চাইলেও সেই সম্পর্কে নতুন করে জন্ম দেয়া যায় না প্রাণের স্পন্দন। এভাবেই জন্ম নেয়া অনুভূতিহীনতা থেকে মৃত্যু হয় এক অন্তহীন প্রতিজ্ঞাযুক্ত ভালোবাসার।’

কথাগুলো মনে হতেই অসময়ের বৃষ্টির ধারার মতো চোখটা ভিজে উঠল। গাছের সেই সজীব হওয়া বৃদ্ধ পাতার দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলাম- তাই তো, চৈত্র আর গ্রীষ্মের তাপদহনে দগ্ধ প্রকৃতি কন্যার জীর্ণরূপে বড্ড ব্যথিত হয় পরা। প্রকৃতির সজীবতা ফিরিয়ে আনতে শুরু করে ভালোবাসার বৃষ্টি। পরার অমোঘ ভালোবাসার অঝর ধারায় স্নাত হয়ে প্রকৃতি ফিরে পায় তার সেই হারানো যৌবনকে। কথাটা সত্যিই বলেছিল নভোনীল, ‘ভালোবাসলে যতœ করতে হয়…’

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj