সংগ্রামী জীবন ও সোনার বাংলা বিনির্মাণ

শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯


‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’ এ অন্তর্নিহিত ভাবনাই শেখ মুজিবুর রহমানকে এগিয়ে নিয়েছে সামনের দিকে। তাঁকে ভূষিত করেছে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে, তিনি পেয়েছেন জাতির পিতার মর্যাদা।

১৭ মার্চ ১৯২০ থেকে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ মহাকালের ফ্রেমে আবদ্ধ উল্লেখযোগ্য এক স্বর্ণ যুগ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় জীবন এ অধিযুগকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। তাঁর জন্ম, তাঁর বেড়ে ওঠা, তাঁর রাজনৈতিক চেতনা ও সংগ্রামী জীবনবোধের বিকাশ, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় ও মহানায়কের সোনার বাংলা গড়ার কর্মযোগ্য অনুষ্ঠিত হয় এ সময়কালের মধ্যে।

১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ বর্ষপরিক্রমায় খুব যে বেশি সময় তা কিন্তু নয়। এ সময়ের মধ্যে কী করে সম্ভব এমন সব ঘটনার সফল নেতৃত্ব দেয়া, কোন সঞ্জীবনী অফুরন্ত শক্তির উৎস ছিল তাঁর মধ্যে! এটাই আমাদের অনুভব ও অনুধাবনের বিষয়। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশের মাধ্যমে আমাদের সেই অফুরন্ত প্রেরণার উৎসের সন্ধান দিয়েছেন। জাতির পিতা অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের যে বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেছেন তা যেমন সুখপাঠ্য তেমনি শিক্ষণীয়। বইটির নাম ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখ করেছেন, ‘আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জীবনের সব থেকে মূল্যবান সময়গুলো কারাবন্দি হিসেবেই কাটাতে হয়েছে। জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়েই তাঁর জীবনে বারবার এই দুঃসহ নিঃসঙ্গ কারাজীবন নেমে আসে। তবে তিনি কখনো আপস করেন নাই। ফাঁসির দড়িকেও ভয় করেন নাই। তাঁর জীবনে জনগণই ছিল অন্তঃপ্রাণ। মানুষের দুঃখে তাঁর মন কাঁদত। বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবেন, সোনার বাংলা গড়বেন- এটাই ছিল তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য- এই মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের মাধ্যমে মানুষ উন্নত জীবন পাবে, দারিদ্র্যের কশাঘাত থেকে মুক্তি পাবে, সেই চিন্তাই ছিল প্রতিনিয়ত তাঁর মনে। যে কারণে তিনি নিজের জীবনের সব সুখ আরাম আয়েশ ত্যাগ করে জনগণের দাবি আদায়ের জন্য এক আদর্শবাদী ও আত্মত্যাগী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন, বাঙালি জাতিকে দিয়েছেন স্বাধীনতা। বাঙালি জাতিকে বীর হিসেবে বিশ্বে দিয়েছেন অনন্য মর্যাদা, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামে বিশ্বে এক রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছেন। বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন সফল করেছেন। বাংলার মানুষের মুক্তির এই মহানায়ক স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষে যখন জাতীয় পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন নিশ্চিত করছিলেন তখনই ঘাতকের নির্মম বুলেট তাঁকে জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে। স্বাধীন বাংলার সবুজ ঘাস তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয়েছে। বাঙালি জাতির ললাটে চিরদিনের জন্য কলঙ্কের টিকা এঁকে দিয়েছে খুনিরা।’ সদাব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশের মাধ্যমে এই কিংবদন্তির সংগ্রামী চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে বাঙালি জাতিকে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করেছেন।

আশৈশব তিনি ছিলেন প্রজ্ঞাবান, দৃঢ়চেতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর এবং সহানুভূতিশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অসমাপ্ত আত্মজীবন থেকে আমরা জানতে পারি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি জীবনে প্রথম কারাবরণ করেন, যদিও ঘটনাটি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’- এ দর্শনে বিশ্বাসী বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পিতার অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন নৈতিক ও আর্থিক উভয় দিক থেকে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পিতৃভক্ত, তাঁর পিতার উপদেশ ‘ঈরহপবৎরঃু ড়ভ চঁৎঢ়ড়ংব ধহফ ঐড়হবংঃু ড়ভ চঁৎঢ়ড়ংব থাকলে জীবনে পরাজিত হব না’ তিনি তাঁর এ উপদেশ কখনই বিস্মৃত হননি।

তিনি ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা ও অগ্রপথিক। তাঁর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে ঘিরে, তিনি স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির। তাঁর লক্ষ্য ছিল একটাই বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তিনি পূর্ব পাকিস্তান কথাটি তাঁর মুখে উচ্চারণ করতে চাইতেন না, তিনি বলতেন পূর্ববাংলা। ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান গণপরিষদে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘স্যার, আপনি দেখবেন, ওরা পূর্ব বাংলা নামের পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি করেছি, আপনারা এটাকে বাংলা বলে ডাকেন। বাংলা শব্দের একটা নিজস্ব ইতিহাস আছে, আছে ঐতিহ্য।’ ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু দিবসের আলোচনা সভায় তিনি বলেছিলেন, “এক সময় এ দেশের বুক হইতে, মানচিত্র হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোনো কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম হইবে পূর্ব পাকিস্তানের বদলে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।” তিনি আমাদের প্রিয় নেতা, স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজে খচিত পতাকায় সুশোভিত আমাদের প্রিয় স্বদেশ ‘বাংলাদেশ’।

আদিম সাম্যবাদী সমাজব্যবস্থা থেকে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয় আজকের এ শ্রেণিবিভক্ত সমাজ। রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের শুরুতে রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ডের নিরাপত্তা বিধান, প্রজা প্রতিপালন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব রাষ্ট্রনায়কের ওপর অর্পিত হয় সে সম্পর্কে তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ অবগত। যার স্বাক্ষর তিনি রেখে গেছেন স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রে। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ এ চার মূলনীতির ভিত্তিতে প্রণীত শাসনতন্ত্রে, প্রজাতন্ত্রের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধানের উল্লেখ রয়েছে। সমধিকার ও সাম্য প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ে শাসনতন্ত্রে সন্নিবেশিত করা হয়, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রজাতন্ত্রের সকল কাজে সকলের সমঅধিকার থাকবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন, এ দিনে জাতির পিতা স্বাক্ষরদান করেন প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আমানত স্বাধীন বাংলাদেশের শাসনতন্ত্রে। তিনি পরম মমতায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি পুনর্গঠনের কাজে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি বন্ধুপ্রতিম অনেক দেশের আন্তরিক সাড়া ও সহযোগিতা পেয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজে তিনি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতায় নানাবিধ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছিলেন সামনের দিকে। তিনি জানতেন, দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব না হলে কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সে জন্য তিনি দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে তাদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘পৃথিবী আজ দুইভাগে বিভক্ত। একভাগে শোষক শ্রেণি আরেকভাগে শোষিত। আমি শোষিতের দলে’। দুর্ভাগ্য বাঙালি জাতির, দুর্ভাগ্য শোষণ ও বঞ্চনার শিকার শোষিত শ্রেণির, ১৯৭১-এর পরাজিত শক্ররা তাঁকে সোনার বাংলা গড়ার মাঝপথে থামিয়ে দিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেট সপরিবারে তাঁকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিল। সে দিন তারা স্তব্ধ করেছিল বাংলাদেশকে। ষড়যন্ত্রকারীরা সপরিবারে তাঁকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, জেলে বন্দি করল তাঁর বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচর ও মিত্রদের, এমনকি জাতীয় ৪ নেতাকে জেলখানায় বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হলো। শুধু তাই নয়, তারা ইনডেমনিটি বিল এনে আইন পাস করে যাতে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হয়। বিশ্বাসঘাতকরা আবার প্রমাণ করল, বিশ্বাসঘাতকতার কোনো শেষ সীমারেখা নেই।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ফিদেল ক্যাস্ট্রো বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারাল তাদের একজন মহান নেতাকে, আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বন্ধুকে।’ তিনি যথার্থই বলেছিলেন, তাঁর মৃত্যুতে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় তথা বিশ্বব্যাপী শোষিত ও মেহনতি মানুষের নেতৃত্বে এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়। একাধিকবার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। ইয়াহিয়া খান আয়োজিত প্রহসনমূলক মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়। যে ঘরে তিনি আটক ছিলেন তার পাশেই খোঁড়া হয় তাঁর কবর- যাতে তিনি দেখতে পান, ভীত হন। কিন্তু অকুতোভয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মৃত্যু ভয়ে ভীত হননি। তিনি যাদের হাতে বন্দি ছিলেন, তাদের বলেছিলেন, ‘আমার লাশটা যেন বাংলাদেশের মাটিতে শেষ আশ্রয় পায়।’ যে দেশকে ভালোবেসে তিনি মৃত্যুভয়কে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন, সে দেশের কতিপয় বিশ্বাসঘাতকদের হাতে সপরিবারে তাঁকে জীবন দিতে হলো।

এ কথা সত্য, জাতির পিতা ও তাঁর পরিবার পরিজনকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বাঙালি জাতি। স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাদের হীন যড়যন্ত্র বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে বাঙালির কপালে কলঙ্কের দাগ এঁকে দেয়। ইতিহাসের চাকা আবার ঘুরেছে, সে দিন দেশের বাইরে থাকায় ঘাতকের বুলেট নিশানা খুঁজে পায়নি জাতির জনকের দুই কন্যা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে। জাতির পিতার আদর্শের উত্তরসূরি হাজারো জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এ দেশ ঘাতকদের বিচারের ব্যবস্থা করে। যদিও সব ঘাতককে এখন পর্যন্ত বিচারের আওতায় এনে যথোপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা সম্ভব হয়নি তারা দেশের বাইরে থাকায়। তবে খুনিদের দেশে এনে দণ্ড কার্যকর করা হবে, এ বিশ্বাস প্রতিটি দেশপ্রেমিক বাঙালি তার হৃদয়ে ধারণ করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধসহ যে কোনো জঘন্য হত্যাকাণ্ডের শাস্তি প্রদানে বাঙালি জাতি সক্ষম। বিশ্ববাসীর কাছে বাঙালি আজ কৃতজ্ঞ ও বিশ্বাসী জাতি হিসেবে স্বীকৃত। এ জাতি অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সফল হবে।

ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস : প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব), বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj