মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কথাসাহিত্যে ইমদাদুল হক মিলনের অবদান

শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

এমরান কবির

আমাদের প্রকাশনা শিল্পকে একটি শক্ত অবস্থানে দাঁড় করবার পেছনে ইমদাদুল হক মিলনের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। কিন্তু এই ভূমিকা পালন করতে গিয়ে এবং নিজের জীবিকার তাগিদে তিনি লিখে ফেলেছেন কিছু হালকা চালের রচনা। যা লেখককে এখন বিদ্ধ করে। লেখক অনুশোচনায় দগ্ধ হন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি তা সখেদে প্রকাশও করেন। এও বলেন, এ ছাড়া তার উপায়ও ছিল না ওই সময়। নিয়তি হয়তোবা এটাই চেয়েছিল। কিন্তু গৌরবের কথা হলো তাঁর হাত দিয়েই বের হয়ে এসেছে পরাধীনতার মতো উপন্যাস, বের হয়েছে ভূমিপুত্র। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন কালোঘোড়া, যা গভীর প্রতীকী ব্যঞ্জনায় উজ্জ্বল। লিখেছেন সাড়ে তিন হাত ভূমির মতো উপন্যাস, যেখানে রয়েছে এমন এক চরিত্র যাকে বলা যেতে পারে মুক্তিযোদ্ধার যথার্থ প্রতিনিধি। লিখেছেন নিজের জীবনের ছায়া অবলম্বনে কেমন আছ, সবুজপাতা, জিন্দাবাহার, মায়ানগর। আর নূরজাহানের কথা তো বলাই বাহুল্য। বাংলা সহিত্যের বৃহত্তম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত এই মহাকাব্যিক রচনাটির একটি বাক্যও বাহুল্য নয়। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম একটি লেখায় বলেছেন, ‘এই উপন্যাস থেকে একটি শব্দও বাদ দেয়া যাবে না। এর গঠনটি এমন যে, এই রচনার কোনো বাক্য থেকে যদি একটি শব্দ বাদ দেয়া হয় তবে সেটা হবে এর অঙ্গহানি। ’

ইমদাদুল হক মিলন এত লিখেছেন, ভালো-মন্দ মিলিয়ে- তা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে লক্ষ লক্ষ শব্দ ব্যবহার করতে হবে। এমনকি তাঁর প্রধানতম কর্ম-অবদান- ছোটগল্প ও উপন্যাস নিয়ে আলোচনা করতে গেলেও এই কথা প্রযোজ্য। আমরা এখানে মোটাদাগে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা তাঁর কথাসাহিত্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত কথা বলতে চাই।

আগেই বলা হয়েছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর কালোত্তীর্ণ উপন্যাস কালোঘোড়ার কথা। কালোঘোড়া স্বাধীনতার বহুমাত্রিক প্রতীকী উপন্যাস হিসেবে বিবেচ্য।

একটি নিবিড় গ্রাম যুদ্ধের দামামায় কী রূপ পরিগ্রহ করে, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ কীভাবে এটাকে গ্রহণ-বর্জন করে, বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মানুষের ভূমিকা কেমন হয়- স্বাধীনতা সংগ্রাম কীভাবে মানুষকে আত্মত্যাগী করে তোলে, পাশাপাশি স্বার্থপর ও কৌশলী হয়ে ওঠার এক মর্মন্তুদ কাহিনী কালোঘোড়া উপন্যাসখানি।

উপন্যাসের শুরু ‘বৃষ্টিটা আছেই’ এই ছোট্ট একটি বাক্য দিয়ে। ছোট্ট এ বাক্যটিই যেন এক বিশাল প্রতীক এই উপন্যাসের। আমরা জানি বৃষ্টি এমন এক নিয়ামক যা সব কিছুকেই জড়িত করে ফেলে। ভিজিয়ে দেয়। বিভ্রান্ত করে। আমরা এও জানি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বৃষ্টি আমাদের জন্য যেমন আশীর্বাদস্বরূপ ছিল তেমনি পাকিস্তানিদের জন্য ছিল বিভীষিকা। লেখক যেন এই প্রতীকী বাক্যের মাধ্যমে প্রথমেই জানিয়ে দিলেন অনেক কথা।

এ রকম অনেক কথাই তিনি জানান তাঁর এই উপন্যাসের মাধ্যমে। হাড়কিপটে রতনলালের কথা দিয়েই শুরু। তার দোকানের বেচাকেনা, কর্মচারীদের কথা, গঞ্জের লোকজন, গ্রাহক সবকিছু উঠে এসেছে। আর নিবিড়ভাবে উঠে এসেছে রতনলালের মা মরা একমাত্র বোবা মেয়ে কালীর কথা।

কিন্তু রতনলালের আকাক্সক্ষা-স্বপ্ন-পরিকল্পনা সবকিছু ধ্বংস হয়ে যায়। স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের এক হোতা স্থানীয় চেয়ারম্যান বৃষ্টিবহুল এক দুপুরে কালীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। অনেকক্ষণ পর কালীর জ্ঞান ফিরলে সে বিবস্ত্র হয়ে স্থানীয় পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। রাতে রতনলাল ঘরে ফিরে না পেয়ে প্রায় পাগল হয়ে যায়। তার হাহাকার ভরা ডাক আর অন্ধকারে বৃষ্টির ভেতরে ছুটে চলা এক মর্মন্তুদ দৃশ্যের জন্ম দেয়।

এরপর থেকে রতনলাল আর রতনলাল থাকে না। সে অন্য মানুষ হয়ে যায়।

রতনলালের দোকানের কর্মচারী বালক নয়নার আকাক্সক্ষা-স্বপ্ন-পরিকল্পনাও ধ্বংস হয়ে যায়। আরেক কর্মচারী বারেকের দ্বারা সে বারবার নিগৃহীত হয়। একটা পুরো বিড়ি খাওয়ার আকাক্সক্ষা তার সারাজীবনের। কিন্তু বারেকের জন্য সেটা সম্ভব হয় না। এদিকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। চেয়ারম্যানের গোমস্তা বারেকের কাছে খবর পাঠিয়েছে দেখা করতে। বারেক প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত। দোদুল্যমান। তারপর স্থির। যে দিন দেখা করতে যাবে তার আগের রাতে নয়নাকে সব খুলে বলে। বলে, চেয়ারম্যানের সাথে মিলিটারিদের খুব ভালো সম্পর্ক। চেয়ারম্যানের সাথে থাকলে আমার তোর কারো কোনো ক্ষতি হবে না।

এভাবেই চলছিল। এক রাতে দোকানের দরজায় টুকটুক শব্দ। অনেক দ্বিধা, ভয়, শঙ্কা আর সতর্কতার মধ্যেই সে হঠাৎ জিজ্ঞেস করে, কেডা? বাইরের অন্ধকার, বৃষ্টি আর হাওয়া সরিয়ে ফিসফিসে গলায় তখন ভেসে আসে একটি কণ্ঠ ‘আমি খোকা’।

জয় বাংলা শুরু হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই খোকাসহ অনেকেই কইলকাত্তা চলে গেছে। মানুষে বলে ওরা মুক্তিবাহিনী হয়ে গেছে। খোকাসহ আরো তিনজন হুড়মুড় করে দোকানে ঢুকে পড়ে।

এভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের ভেতরে ঢুকে পড়ে রতনলালের এক সাধারণ কর্মচারী নয়না। রতনলালের দোকানের মিষ্টির হাঁড়ি থেকে খুব সাবধানে একটা একটা করে মিষ্টি এনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়ায়। থাকার জায়গা দেয় গোপনে। এলাকার তথ্য দেয়।

একদিন সকালে বারেক এসে নয়নাকে নিয়ে যায় চেয়ারম্যানের কাছে। চেয়ারম্যানের বাসায় ঢোকার সাথে সাথেই তাকে বেঁধে ফেলে চেয়ারম্যানের গোমস্তা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে, রাতে তোর ডেরায় কে কে আসে? স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, সে জানে না। তারপর তাকে কঠিন এবং নির্মমভাবে পেটানো হয়। তবুও সে স্বীকার করে না মুক্তিযোদ্ধাদের কথা। এক পর্যায়ে যে মারা যায়।

খোকার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার এই ক্ষুদ্র দল তাঁদের পরিকল্পনা আঁকে। চেয়ারম্যানের ছোট বউও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী খুব সফলভাবে মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতাবিরোধী চেয়ারম্যানকে দুই সহযোগীসহ ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। চেয়ারম্যানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে জয় বংলা জয় বাংলা।

একাত্তরে জেগে ওঠার সেই সব দিনের কথা, একটি শান্তশিষ্ট গ্রামের পরিবর্তিত চেহারা, মুক্তিযুদ্ধের প্রভাবে বদলে যাওয়া মানুষের চরিত্র, এক সাধারণ বালকের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় প্রাপ্তি, বোবা যুবতীর প্রাণ বিসর্জন, মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে স্বাধীনতাবিরোধীদের হোতা চেয়ারম্যানের দুই সহযোগীসহ মৃত্যু, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দাতা বালকের নিজের অজান্তেই মুক্তিযোদ্ধা হয়ে ওঠার কথা- এগুলো বয়ান করেন কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন। কিন্তু এগুলোর পাশাপাশি আরেকটি প্রতীকী চরিত্র এঁকেছেন তিনি। সেটা হলো চেয়ারম্যানের ব্যবহার করা একটি কালোঘোড়া। স্বাধীনতার পর একদিন ঘোড়াটাকে ধরে মুক্তিযোদ্ধারা তার পেছনে ‘স্বাধীনতা’ লিখে দিল। তারপর দেখা গেল ঘোড়াটার সব বাঁধন খুলে দিচ্ছে আলম। খোকা চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলছে, আজ থেকে এই ঘোড়াটাকে কেউ ধরতে পারবে না। এটার পিঠে কেউ চড়তে পারবে না। এটা যেখানে-সেখানে যাবে, যেখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াবে। কেউ ধরলে-মারলে তাকে গুলি করে মারব।

‘তারপর ঘোড়াটার পিঠে থাপ্পর মারে খোকা। যা তুই আইজ থনে স্বাধীন।’

মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-অঙ্গীকার যেটাই বলি না কেন এই কালোঘোড়া এবং কলোঘোড়া নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ড আমাদের সমগ্র ইতিহাসের একক প্রতীক, যা আজও বহমান। ইমদাদুল হক মিলন সেই অগ্রগণ্য সাহিত্য-চিন্তক যার হাত দিয়ে কয়েক যুগ আগেই বেরিয়ে এসেছে এই প্রতীকী চরিত্র, যা ভাবলে শিহরিত হতে হয়। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ রকম প্রতীকী এবং প্রয়োগিক কোনো চরিত্র বাংলা সাহিত্যে এক, অনন্য। বিরল তো বটেই। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর আরেকটি মহামূল্যবান কাজ সাড়ে তিন হাত ভূমি। জনপ্রিয় লেখক ইমদাদুল হক মিলন এই আখ্যানের মাধ্যমে কয়েকটি কাজ করেছেন। বিষয়ের দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় এ রকম বিষয় নিয়ে ইতোপূর্বে কোনো গল্প-উপন্যাস লেখা হয়নি। এমনকি জানবার চেষ্টাও করা হয়নি একাত্তর নিয়ে পাকিস্তানের বর্তমান প্রজন্মের ধারণা কী। কিংবা তাদের ধারণা পাল্টে দেয়ার জন্য প্রকৃত ইতিহাস তাদের সামনে তুলে ধরা যায় কিনা। প্রতীকী অর্থে হলেও ইমদাদুল হক মিলন প্রথম এ কাজটি করলেন। লেখক তেরো বছরের এক কিশোরীর জবানিতে পুরো আখ্যান বিধৃত করেছেন। তার ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও প্রতীকী। পাকিস্তান সরকার, সেনাবাহিনী কিংবা তাদের জনগণ এখন পর্যন্ত একাত্তরের নৃশংস ঘটনার জন্য ক্ষমা চায়নি। এ প্রজন্মের একজন কিশোরীর ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে সে বিষয়টির দিকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, কিশোরীকে একাত্তরের ঘটনা বলতে গিয়ে লেখক আরেকবার একাত্তরের প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরেছেন। তাতে পাঠক আরেকবার গল্প-উপনাসের মোড়কে প্রকৃত ইতিহাস পাঠের সুযোগ পান। জানার সুযোগ পান আরো কতিপয় মর্মন্তুদ ঘটনার।

ইমদাদুল হক মিলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস একাত্তর ও একজন মা। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে উনিশশত একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বহুমাত্রিক। একাত্তর ও একজন মা উপন্যাসের মাধ্যমে আমাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কথাসাহিত্যে সংযোজিত হলো আরেকটি পালক। এ পালক মুক্তিযুদ্ধের মতোই বহুমাত্রিক। বহুমাত্রিক এর প্রকরণে, বহুমাত্রিক এর বয়ানে, বহুমাত্রিক এর ভাষায়, বহুমাত্রিক এর উপস্থাপনে, বহুমাত্রিক এর কাহিনীতে।

এত সব বহুমাত্রিকতার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে যেতে হলে প্রথমে যেতে হবে এর টেক্সটে। শুরুতেই দেখা যাচ্ছে আনোয়ারা বেগম তার নিজস্ব বয়ানে বলে যাচ্ছেন কথাগুচ্ছসকল। তিনি বারান্দার দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে বলে যাচ্ছেন তার অনুভূতির কথা। বিবরণ দিচ্ছেন কে কোথায় কী করছে তার কথা। দশ ছেলেমেয়ে নিয়ে বিশাল সংসার তার। মুক্তিযুদ্ধ চলছে। এরই ভেতর তার স্বামী মারা গেলেন। ঠিক সরাসরি মিলিটারির হাতে গুলি খেয়ে নয়। মিলিটারিরা তাঁকে মারল অন্যভাবে। বাবাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। সেখানে এসএসসি পরীক্ষার্থী মিলুর হাতে বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। দশ ছেলেমেয়ের সংসার নিয়ে আনোয়ারা বেগম অথৈ সাগরে পড়লেন। শুরু হলো আরেক যুদ্ধ। যুদ্ধের ভেতরে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের কথাই উপন্যাসজুড়ে। জীবনযুদ্ধটা বাদ যাচ্ছে না সেখান থেকে। বয়ানের এই বহুমাত্রিকতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। প্রকরণ ও বয়ানের দিক থেকে বের হয়ে এসে আমরা যদি কাহিনীর দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে মুক্তিযুদ্ধের ভেতরেই ওই সংসারে আরেক যুদ্ধ শুরু হয়। ঘরে দশটি টাকা নেই। খাবার নেই। নিরাপত্তা নেই। এভাবে শুরু হয় বেঁচে থাকার যুদ্ধ। নিরাপত্তার যুদ্ধ। মিলু নিজে সে যুদ্ধের অংশীজন। তার তরুণ চোখ দিয়ে সে যুদ্ধে অবতীর্ণ হচ্ছেন তিনি। তার মায়ের যুদ্ধটাও তিনি দেখছেন আঁচল-দূরত্ব থেকে। যখন দেশটাকে কল্পনা করছেন মা হিসেবে। তখন তিনি দেখছেন দুই মায়ের সমান যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার কথা। দুই মায়ের অসহায়ত্বের কথা। আর পরিণত বয়সে তা বয়ান করছেন পরিণত হƒদয়ে, পরিণত ভাষায়।

দেশ-মা আর নিজের মায়ের যুদ্ধ মিলু বলে যাচ্ছেন। পাঠকের চোখ জলে ভরে উঠছে। কারণ ওই ওই মা যে সবার মা। কারণ দেশ-মাও যে সবার মা। আর মিলু! মিলু যে স্বয়ং লেখক! আত্মজৈবনিক লেখা তো অনেক হয়। সেখানে হাসি-ঠাট্টা আর মশকরাই যেন প্রাধান্য পায়। যুদ্ধের ভেতরে থেকে এ রকম আত্মজৈবনিক লেখা কজন লিখতে পারে! কনফুসিয়াস বলেছেন, যেখানেই যাও হƒদয়টা নিয়ে যাও। কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন উপন্যাস লিখতে বসে খাঁটি হƒদয় নিয়ে লেখা শুরু করেছিলেন। তবেই না বাংলা সাহিত্যে এ রকম এক বহুমাত্রিক উপন্যাস যুক্ত হলো।

একই সাথে জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ লেখক হবার বিরল কৃতিত্ব খুব কম সংখ্যক লেখকেরই হয়ে থাকে। ইমদাদুল হক মিলন সেই বিরলতমদের একজন, যিনি একই সাথে এই দুই সত্তা ধারণ করেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর এই মহান কথাসাহিত্যিকের জন্মদিন। জন্মদিনে তাঁকে প্রণতি জানাই।

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj