আলোচনার কেন্দ্রে উইকেট

বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। এই ম্যাচটিকে ঘিরে এর মধ্যেই চারদিকে শুরু হয়েছে নানান আলোচনা। অভিজ্ঞতার বিচারে টাইগাররা ঢের এগিয়ে থাকলেও শক্তিমত্তার বিষয়টি বিবেচনা করলে রশিদ খানের নেতৃত্বাধীন আফগানদের খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। সাকিবের বাংলাদেশ কিংবা রশিদের আফগানিস্তান- যে কোনো দলই জিততে পারে ম্যাচটি। এই ম্যাচে ৩২২ রান করতে পারলেই সর্বোচ্চ রান শিকারি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন মুশফিকুর রহিম। ম্যাচটিতে সেঞ্চুরি করতে পারলে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির ক্ষেত্রে তামিমের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন মুমিনুল হক। আর ম্যাচটিতে মাত্র ১টি উইকেট পেলেই দ্রুততম টাইগার বোলার হিসেবে টেস্টে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁবেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তা ছাড়া এই ম্যাচটি বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার প্রথম টেস্ট। তবে এসবকে ছাপিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টের আগে আলোচিত হচ্ছে উইকেটের বিষয়টি। কেমন হবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি কৌত‚হল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে।

ঘরের মাঠে বাংলাদেশ স্পিনবান্ধব উইকেটেই টেস্ট খেলে। অতীতে সব সময় এমনটিই দেখা গেছে। স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে সফলতাও পেয়েছে টাইগাররা। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে স্পিনবান্ধব উইকেটের ভূমিকাকে তুচ্ছ করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এবার বিষয়টি আলাদা। কারণ আসন্ন টেস্টে সাকিব আল হাসানের দলের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। উইকেট যদি স্পিন সহায়ক হয় তবে আফগানরাও এর সুবিধা পাবে। এমনকি সেটা হতে পারে টাইগার স্পিনারদের চেয়ে বেশিই। কেননা, দলটিতে আছেন রশিদ খানের মতো বিশ^মানের লেগ স্পিনার। এ ছাড়া মোহাম্মদ নবির মতো অভিজ্ঞ অফ স্পিনারের কথা বিশেষভাবে বলতেই হয়। রশিদ-নবির সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে আরেকটি নাম। তিনি হলেন তরুণ চায়নাম্যান স্পিনার জহির খান। বিসিবি একাদশের বিপক্ষে দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তিনি। একাই নিয়েছেন ৫ উইকেট। তাই জহিরের স্পিন ঘূর্ণিও বেশ ভাবাচ্ছে টাইগার ব্যাটসম্যানদের।

স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় যে, উইকেট স্পিন সহায়ক হলে সেটা স্বাগতিক বাংলাদেশের জন্য হিতে বিপরীত ফলও নিয়ে আসতে পারে। অপরদিকে ম্যাচের ভেনু জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট এমনিতেই একটু ¯েøা। তাই পেসবান্ধব উইকেট বানালেই যে পেসাররা গতির ঝড় তুলতে পারবেন এমনটি আশা করাটাও আকাশ-কুসুম কল্পনার মতো হবে। এমন অবস্থায় স্পোর্টিং উইকেটেই প্রত্যাশা সবার।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম ডিমেরিট পয়েন্ট পায় অতিরিক্ত স্পিন সহায়ক উইকেট বানানোর কারণে। এ ছাড়া ম্যাচের প্রথম দিনেই উইকেট ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি তো আছেই। অন্যদিকে গত বছর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছিল অতিরিক্ত ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হওয়ায়। তাই বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট ম্যাচের উইকেট বানানোর ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলোতে নজরে রাখতে হবে কিউরেটরদের।

এদিকে উইকেট নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে নারাজ টাইগার দলপতি সাকিব আল হাসান। গতকাল সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উইকেট সম্পর্কে আগে থেকে কিছু বলা মুশকিল। অনেক সময় দেখা যায়, বাইরে থেকে দেখে সবার মনে যেমন ধারণা জন্মায় উইকেট তেমনটি আচরণ করে না। তাই আমরা উইকেট নিয়ে ওপেন মাইন্ডে আছি। উইকেট যেমনই হোক, আমাদের চেষ্টা থাকবে দ্রুততম সময়ে সেটার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া। প্রতিপক্ষের তুলনায় ভালোভাবে উইকেট বুঝতে পারাটা খুব জরুরি। আমরা যদি এই কাজটা যথাযথভাবে করতে পারি, তাহলে ম্যাচেও ভালো করতে পারব।

তবে উইকেট যেমনই হোক স্পিনাররাই নিয়ন্ত্রণ করবেন ম্যাচ। দুদলের স্পিনারদের পারফরমেন্সের ওপই নির্ভর করবে জয়-পরাজয়ের ভাগ্য। বাংলাদেশের সাকিব, তাইজুল, মিরাজ, নাঈমরা যেমন অফ স্পিন বিষে আফগান ব্যাটসম্যানদের নীল করতে চাইবেন, তেমনি স্পিন ঘূর্ণিতেই টাইগার বধের উৎসব করতে চাইবেন রশিদ, নবি, জহিররা। কিন্তু দিন শেষে যে দলের ব্যাটসম্যানরা বেশি ধৈর্যশীলতার পরিচয় দেবেন সে দলই ম্যাচ জিতবে।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj