প্রথম লক্ষ্য থাই মেয়েদের হারানো

বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা জয় দিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ। সে লক্ষ্যে আজ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিতে থাইল্যান্ড যাচ্ছে বাংলাদেশের মেয়েরা। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে কিশোরী ফুটবলাররা ব্যাংককের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। ১৫-২৮ সেপ্টেম্বর দেশটির রাজধানী ব্যাংককের চনবুড়িতে অনুষ্ঠিত হবে ৮ জাতির এ টুর্নামেন্ট। বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে খেলবে জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে থাকা দলগুলো হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও চীন।

যে ৮ দলের টুর্নামেন্ট সেখান থেকে সেরা দুই হয়ে বিশ^কাপের টিকেট পাওয়া বাংলাদেশের জন্য কঠিন। তারপরও মারিয়া-আঁখিরা শুরুর আগেই হাল ছেড়ে দিতে নারাজ। তারা প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে ভালো শুরু করতে চান। তারপর ম্যাচ বাই ম্যাচ নিজেদের সেরাটা খেলার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে লাল-সবুজ জার্সিধারী কিশোরীরা। তাই টুর্নামেন্ট শুরুর ১০ দিন আগে মেয়েরা থাইল্যান্ড যাচ্ছে সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে। পাশাপাশি স্থানীয় বয়সভিত্তিক তিনটি দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের ঝালাই করে নেবেন গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। এ টুর্নামেন্টটি শুধু এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বই নয়, আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৭ নারী বিশ^কাপের বাছাই পর্বও। যেখান থেকে শীর্ষ দুটি দল পাবে ভারতের টিকেট। আপাতত বিশ^কাপ খেলার আশা না করলেও টুর্নামেন্টে অন্তত দুটি জয় চাইছেন ছোটন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। ১৮ সেপ্টেম্বর জাপান ও ২১ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে মারিয়া-তহুরারা।

টুর্নামেন্টে ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হলেও বাংলাদেশ দল থাইল্যান্ড যাচ্ছে আজ। সেখানে আগামী ৬ ও ৯ সেপ্টেম্বর চনবুড়ি এফসি ওমেন্স দল এবং ১১ সেপ্টেম্বর কেসেসার্ট বিশ^বিদ্যালয় নারী দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ছোটনের শিষ্যরা। মূল আসরের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ তিনটি অনেক কাজে আসবে বলে জানিয়েছেন ছোটন।

অধিনায়কের কণ্ঠেও কোচের কথার প্রতিধ্বনি। প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড নিয়ে দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা বলেছেন, থাইল্যান্ডের বিপক্ষে আমাদের প্রথম ম্যাচ। আরেকটা ব্যাপার হলো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমরা তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছি, যেটা হচ্ছে প্রথমবারের মতো। যা আমাদের প্রথম ম্যাচে ভালো খেলতে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, ঢাকায় প্রথম বাছাই পর্বের পর দ্বিতীয় বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হয় মিয়ানমারে। সেখানে প্রথম পর্বের সব চ্যাম্পিয়ন, রানার্সআপ দলগুলো অংশ নেয়। ওই আসরেও চীন, মিয়ানমার, ফিলিপাইনের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায় বাংলাদেশ। এখানেই মেয়েদের উন্নতি দেখছেন নারী দলের সফল এই কোচ।

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বের গত আসরে উত্তর কোরিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপে ছিল বাংলাদেশ। এবার উত্তর কোরিয়া ছাড়া বাকি দুই প্রতিপক্ষই আছে বাংলাদেশের সঙ্গে এবং নতুন যুক্ত হয়েছে থাইল্যান্ড। পুরনো দুই প্রতিপক্ষ থাকার পরও বেশ আত্মবিশ^াসী দলের কোচ। তাকে আত্মবিশ^াসী করে তুলেছে মেয়েদের অভিজ্ঞতা। ২০১৭ সালের চূড়ান্ত পর্বে খেলার অভিজ্ঞতা আছে মাহমুদা আক্তার, আঁখি খাতুন, আনাই মগিনি, নিলুফা ইয়াসমিন নিলা, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, মোসাম্মত সুলতানা, আনুচিং মোগিনি, শামসুন্নাহার সিনিয়র এবং তহুরা খাতুনের। বাকি যে ১২ জন আছে, তারা সাম্প্রতিক সময়ে ৩-৪টা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলেছে। সব মিলিয়ে ভালো কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশের বাঘিনীরা।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj