প্রয়োজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়

বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ভারতসহ অনেক দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের উন্নয়নের জন্য পৃথক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় রয়েছে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও আমাদের দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়নি। ফলে দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সঠিক উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় গঠন করলেই হবে না, এর সঠিকভাবে কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কিছু দপ্তর গঠন করা প্রয়োজন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন দপ্তর গঠন করে ভারতের ন্যায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সব প্রকার চাকরির কোঠা নিশ্চিত করাই হলো এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ। এ দপ্তর বাংলাদেশ সরকারের সামরিক, বেসামরিক, আধা সামরিক, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, কোম্পানি ও এমপিওভুক্তসহ সরকারি সাহায্যপুষ্ট সব প্রকার চাকরিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের কোঠা অনুযায়ী নিয়োগ নিশ্চিত করার কাজ করবে। যেহেতু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বেশিরভাগই ভূমিহীন, তাদের নিজস্ব কোনো বসতবাড়ি নেই, তাই তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করাও রাষ্ট্রের একটা জরুরি কাজ। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি খাসজমি বন্দোবস্তকরণ ও সরকারিভাবে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া সেসব ভূমিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করছেন তাদের বিকল্প স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ না করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া এই দপ্তর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ভূমি সমস্যাসহ সব অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট থাকবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃভাষায় উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য বাংলা একাডেমির মতো তাদের ভাষার উন্নয়নের জন্য পৃথক পৃথক একাডেমি স্থাপন করবে, যেমন- সাঁওতাল একাডেমি, চাকমা একাডেমি, মারমা একাডেমি, ত্রিপুরা একাডেমি, হাজং একাডেমি, খাসিয়া একাডেমি, গারো একাডেমি, রাজবংশী একাডেমি, মনিপুরী একাডেমি, ওঁরাও একাডেমিসহ অন্যান্য একাডেমি স্থাপন করবে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে এর শাখা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত জেলায় স্থাপনকরণ। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে এর শাখা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত জেলায় স্থাপনকরণ। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ললিতকলা একাডেমিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে এর শাখা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত জেলায় স্থাপন করতে হবে।

রিপন কুমার দাস

শিক্ষক ও লেখক, কুষ্টিয়া।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
মযহারুল ইসলাম বাবলা

ক্ষমতার রাজনীতি ও কাশ্মির সংকট

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

কর আদায় নয় আহরণ

আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার

বায়ুদূষণ রোধে করণীয়

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

রাষ্ট্রের স্বভাব ও চরিত্র

মাহফুজা অনন্যা

পেঁয়াজ সংকট কোন পথে?

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

দিল্লিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢাকা

মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

একজন সৃজনশীল সুভাষ দত্ত

মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ধূসর আকাশ, বিষাক্ত বাতাস

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

আসুন, পরিবারকে ডায়াবেটিসমুক্ত রাখি

Bhorerkagoj