কুটুস কাটুস বাদাম খাও

বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

তোমরা বাদাম খেতে পছন্দ করো? অবশ্যই খাবে। জেনে রাখো, এক কেজি বাদামে এক কেজি গরুর মাংসের চেয়ে বেশি ক্যালরি ও পুষ্টি আছে। প্রচুর আঁশ, ভিটামিন আর খনিজ থাকার জন্য বাদাম মানুষকে দ্রুত শক্তি দিতে পারে। বিশ্বজুড়ে সব বয়েসী মানুষ বাদাম পছন্দ করে।

বেশিরভাগ বাদামের খোসার ভেতরে থাকে দুটো বীজ। কোনো কোনোটিতে পাঁচটাও থাকে। বীজ থেকে গাছ এবং তা থেকে বাদাম জন্মাতে প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগে। বাদামের জন্ম নিয়ে ছোট্ট একটা গল্প আছে। ‘ভোরবেলা ছোট্ট একটি হলদে ফুল ফোটে। দুপুরবেলা পরাগায়ণ হয় আর ফুলটি যায় ঝরে। ফুলটির গোড়া থেকে একটি কাণ্ড জন্মে মাটির নিচে গিয়ে ঢোকে। কাণ্ডটি মাটির নিচে পৌঁছার পর এর ডগায় বাদাম জন্মে।’

৩ হাজার বছরেরও বেশি আগে দক্ষিণ আমেরিকায় প্রথম বাদাম থেকে মাখন প্রস্তুত করা হয়েছিল। আজকের দিনে আমরা বাদাম থেকে তৈরি যে মাখন খাই, সেটি তৈরির উপায়টা প্রথম উদ্ভাবন করেছিলেন সেন্ট লুইসের এক চিকিৎসক, ১৮৯০ সালে। তার রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করতে গিয়ে এটি উদ্ভাবন করেন তিনি। বাদামকে দারুণ জনপ্রিয় আর প্রয়োজনীয় করে তুলতে যে মানুষটি সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন তার নাম জর্জ ওয়াশিংটন কার্ভার। তাকে এক কথায় বলা হয় ‘বাদাম শিল্পের জনক’। বিশ শতকের গোড়ায় টাসকেজি ইনস্টিটিউটে তিনি তার গবেষণা শুরু করেন। বাদামকে ৩০০ ধরনের কাজে ব্যবহারের উপায় আবিষ্কার করেন তিনি। কার্ভার প্রমাণ করেন, শেভিংক্রিম থেকে শুরু করে পালিশ, সাবান, রং, শ্যাম্পু, ওষুধ, কালি, লিনোলিয়াম, রাবার, কসমেটিকস, বিচ, ওয়াল বোর্ড, কাগজ এমনকি বিস্ফোরক পর্যন্ত হরেকরকম দ্রব্য তৈরিতে বাদামের ব্যবহার সম্ভব।

বাদাম আসলে মটরশুঁটি-কড়ইশুঁটির মতো শিমজাতীয় গাছ। শিম গোত্রের এসব গাছের ফলে খোসা থাকে। আর ওই খোসার ভেতর এক বা একাধিক বীজ হয়। বাদাম বীজের অর্ধেকটাই হচ্ছে তেল। পৃথিবীতে প্রধানত চার জাতের বাদাম হয়, ‘রানার, ভার্জিনিয়া, স্প্যানিশ ও ভ্যালেন্সিয়া।’

:: অনন্ত আহমেদ

ইষ্টিকুটুম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj