শিষ্যদের সতর্ক করলেন ডমিঙ্গো

বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : আফগানিস্তান মানেই স্পিননির্ভর বোলিং আক্রমণ। যে দলে রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবির মতো বিশ্বসেরা স্পিনার আছেন তাদের বোলিং আক্রমণ স্পিননির্ভর হবে সেটাই তো স্বাভাবিক। আফগান অধিনায়ক রশিদ খান নিঃসন্দেহে বর্তমানে বিশ্বসেরা লেগ স্পিনারদের একজন। আর মোহাম্মদ নবি বেশ অভিজ্ঞ। নিজেদের স্পিন ঘূর্ণি দিয়ে বিশ্বের যে কোনো দলকেই বিপাকে ফেলার সামর্থ্য রাখেন তারা। এবার তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন চায়নাম্যান বোলার জহির খান। তরুণ এই স্পিনারও ঘরোয়া লিগে নিজের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন। আফগান স্পিনাররা কতটা ভয়ানক হতে পারে তার প্রমাণ এর মধ্যেই পেয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। গত রবি ও সোমবার চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের ব্যাটসম্যানদের বেশ ভুগিয়েছেন তারা। তাদের স্পিন ঘূর্ণিতে বিসিবি একাদশের ১ম ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৩ রানেই। প্রস্তুতি ম্যাচে আফগানদের এমন স্পিন ঘূর্ণি টাইগার হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে বেশ ভাবাচ্ছে। আর তাই তো আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া আসন্ন চট্টগ্রাম টেস্টে রশিদ, নবি ও জহিরদের টাইগার ব্যাটসম্যানের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন তিনি। এ কারণে শিষ্যদের সতর্ক করে দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচ। বিসিবি একাদশের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি ম্যাচে ৮ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান খান। মোহাম্মদ নবি উইকেট না পেলেও তার অফস্পিন খেলতে হিমশিম খেতে হয়েছে বিসিবি একাদশের ব্যাটসম্যানদের। তবে নুরুল হাসান সোহানের দলকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন তরুণ আফগান চায়নাম্যান বোলার জহির খান। এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি তার। চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে সাদা পোশাকে যাত্রা শুরু করার অপেক্ষায় থাকা জহির এর মধ্যেই দিয়ে রেখেছেন ভালো কিছুর ইঙ্গিত। প্রস্তুতি ম্যাচে ১১.৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে একাই ৫ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি।

বিসিবি একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে আফগান স্পিনারদের এমন দুর্দান্ত পারফরমেন্স যেন দুঃস্বপ্নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কাছে। গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন তিনি। সাকিবদের নতুন কোচের ভাষায়, আফগান স্পিনাররা আমাদের জন্য মারাত্মক হুমকি। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে আমরা দেখেছি ওদের বোলিং আক্রমণ কতটা ভয়ঙ্কর। টেস্ট রঙিন পোশাকের ক্রিকেটের চেয়ে অনেক ভিন্ন। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, তাদের বোলিং আমাদের জন্য সত্যিই বড় ধরনের হুমকি। টেস্টে আফগানিস্তান এখনো নবীন। অন্যদিকে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট খেলছে গত প্রায় দুই দশক ধরে। তাই স্বাভাবিকভাবেই অভিজ্ঞতার বিচারে এগিয়ে আছে টাইগাররা। এ ছাড়া গেল চার বছরে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ দলের পারফরমেন্স দুর্দান্ত। এই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। আর উইন্ডিজকে করেছে হোয়াইটওয়াশ।

এসব বিষয় পর্যালোচনা করলে চট্টগ্রাম টেস্টে সাকিবের দলই ফেভারিট। কিন্তু নিজেদের ফেভারিট মানলেও আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে নির্ভার থাকতে নারাজ রাসেল ডমিঙ্গো। তিনি বলেন, এটা ঠিক যে অভিজ্ঞতার বিচারে আমার শিষ্যরা আফগানদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। দল হিসেবেও আমরা ভালো। তাই বলে ছেলেরা মোটেই নির্ভার হয়ে বসে নেই। গত দুই সপ্তাহ আমরা সেই প্রস্তুতিটাই নিয়েছি যেটা একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নামার আগে নিতে হয়। আমি জানি, আফগানিস্তানকে হারাতে হলে আমাদের দলের ক্রিকেটারদের নিজেদের সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।

গতকাল টাইগারদের অনুশীলন দেখেও বুঝা গেছে যে, রশিদ খানের দলকে মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছে না তারা। টিম মিটিং শেষ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন ডমিঙ্গো। এরপরই শিষ্যদের নিয়ে নেমে পড়েন অনুশীলনে। এ দিন শিষ্যদের কয়েক ভাগে বিভক্ত করে অনুশীলন করান তিনি। প্রতিটি বোলার ও ব্যাটসম্যানকে পরোক্ষ করেছেন আলাদা আলাদাভাবে। সবার আগে ব্যাটিংয়ে আসেন মুশফিকুর রহিম ও সৌম্য সরকার। পাশাপাশি দুই নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করেন তারা। মুশফিক-সৌম্যর পর ব্যাটিংয়ে আসেন মুমিনুল-সাদমান। এই দুজনের দিকে বাড়তি নজর দিতে দেখা গিয়েছে কোচকে। এ ছাড়া লিটন দাশ ও মোসাদ্দেক হোসেনের ব্যাটিং অনুশীলনও বেশ গুরুত্ব দিয়েই পর্যবেক্ষণ করেন ডমিঙ্গো। লিটন-মোসাদ্দেকের পর নেটে ব্যাটিং অনুশীলন করতে আসেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। এবাদত হোসেনের পেস ও তাইজুল ইসলামের স্পিনে বেশ কিছুক্ষণ ব্যাটিং অনুশীলন করেন তিনি। পাশাপাশি খেলেন নেট বোলারদেরও। ব্যাটিংয়ের আগেই অবশ্য বোলিং অনুশীলন সেরে ফেলেন সাকিব।

অপরদিকে পেসারদের দুই দফা বোলিং করিয়েছেন পেস বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট। আবু জায়েদ রাহী ও তাসকিন আহমেদ শুরুতে বোলিং করেন নতুন বলে। পরে তাদের পুরনো বলেও অনুশীলন করান পেস বোলিং কোচ।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj