বিপিএল নিয়ে অনিশ্চয়তা

বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

খেলা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সপ্তম আসর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছে নানা নাটকীয়তা। যে কারণে চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ক্রিকেট লিগটির পরবর্তী আসরের খেলা মাঠে গড়ানো নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কিন্তু বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য জালাল ইউনুস জানিয়েছেন যথাসময়েই পর্দা উঠবে আসন্ন বিপিএলের। তিনি একটি তারিখও উল্লেখ করেছেন। আর সেটা হলো আগামী ৫ ডিসেম্বর। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিপিএলের ষষ্ঠ আসর মাঠে গড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে আয়োজন পিছিয়ে যায়। পরে নির্বাচনের পর জানুয়ারি মাসে শুরু হয় বিপিএলের ষষ্ঠ আসর। গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বিসিবির সঙ্গে বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের চুক্তি অনুযায়ী এক বছরে দুইবার বিপিএল আয়োজন সম্ভব নয়। বিসিবি অবশ্য এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। ডিসেম্বরে শুরু হওয়ার কথা বিপিএলের সপ্তম আসর।

ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ বিপিএল এক বছরে দুইবার আয়োজন অসম্ভব এমন মন্তব্য অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি সভা শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমকে এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বিসিবির সাবেক সভাপতি। বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের উপদেষ্টা তিনি। এ বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে আয়োজিত বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের চ্যাম্পিয়ন দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এক বছরে কেন দুইবার বিপিএল আয়োজন করা যাবে না- এর পক্ষে মুস্তফা কামালের যুক্তি, বিপিএল আমার সময়ে তৈরি করা। আইনে আছে এক বছরে দুই বার বিপিএল হবে না। সে হিসেবে এ বছর বিপিএল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

তবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া কমিটির প্রধান জালাল ইউনুস। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে বিসিবি সভাপতি দেশের বাইরে আছেন।

তিনি না ফেরা পর্যন্ত বোর্ড এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করবে না।

অন্যদিকে গভর্নিং কমিটির ওপর চেপে আছে অনেকগুলো কাজের বোঝা। প্রথমত এখনো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। চুক্তি নবায়নের পর করতে হবে নতুন আইন প্রণয়ন। আর নতুন আইন অনুযায়ীই সামনের চার বছর টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে মানতে হবে এসব নিয়মকানুন। এদিকে এখনো চিটাগং ভাইকিংসের মালিকানা খুঁজে পায়নি বিপিএল আয়োজক কমিটি। এ ছাড়া ৮টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের যে পরিকল্পনা সেটারও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। সেটাই স্বাভাবিক।

বিপিএল গভর্নিং কমিটি চাইছে নতুন নিয়মকানুন প্রণয়নের মাধ্যমে বড়সড় পরিবর্তন আনতে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নতুন নিয়মের মাধ্যমে টুর্নামেন্ট ঢেলে সাজানোর বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে গভর্নিং কাউন্সিল এরইমধ্যে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছে। এই আলোচনায় নিজেদের চাওয়া ও সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। অধিকাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিই ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরির স্থানীয় একজন খেলোয়াড়কে সরাসরি দলে রাখতে আগ্রহী। পাশাপাশি দুই বিদেশি খেলোয়াড়কেও একইভাবে সরাসরি দলে ভেড়ানোর পক্ষে তারা। গভর্নিং কমিটি অবশ্য এখনো নিজেদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছু বলেনি।

খেলা-ধূলা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj