নরসিংদীতে বিয়ের আশ্বাসে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ২ : যশোরে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আটক

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : নরসিংদীর রায়পুরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ডেকে নিয়ে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিকসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যশোরে পুত্রবধূকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ। সিলেটের ওসমানীনগরে মাদ্রাসাছাত্রী কিশোরী মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জয়পুরহাটে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক ছাত্র অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ওই শিক্ষক পালিয়ে যায়। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় স্কুলছাত্রী রীমাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার হোমনায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কলেজছাত্রকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে জনতা। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নরসিংদী : জেলার রায়পুরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ডেকে নিয়ে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিকসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা ওই নারী গোপালগঞ্জ জেলার বাসিন্দা ও গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসের শ্রমিক। রবিবার রাত ১২টার দিকে রায়পুরা উপজেলার গৌরিপুরা তালুককান্দি গ্রামের সূর্যের মোড় এলাকার একটি গ্যারেজে এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- নির্যাতিতার প্রেমিক রায়পুরা উপজেলার বেগমাবাদ হুগলাকান্দি গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া (২০) ও তার সহযোগী একই উপজেলার ঘাগটিয়া আলগী এলাকার হুছন উদ্দিনের ছেলে শামীম মিয়া (১৯)। এ ঘটনায় অপর অভিযুক্ত একই উপজেলার বেগমাবাদ পল্টন এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ২ আসামিকে সোমবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, স্বামী পরিত্যক্তা ও এক সন্তানের জননী গাজীপুরের ওই গার্মেন্টস কর্মীর সঙ্গে দেড় বছর আগে রায়পুরার শিপন মিয়ার মোবাইল ফোনে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে শিপন তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে রায়পুরায় যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। শিপনের কথামতো রবিবার রাতে গাজীপুরের বোর্ড বাজার থেকে রায়পুরায় যান ওই নারী। রায়পুরার নীলকুঠি বাসস্ট্যান্ডে নামার পর শিপন ও তার দুই সহযোগী শামীম এবং রুবেল ওই নারীকে খাবার খাওয়ার কথা বলে একটি গ্যারেজে নিয়ে বসিয়ে রাখে। পরে সেখানে প্রেমিক শিপন একাধিকবার ও তার দুই সহযোগী ধর্ষণ করে। এ সময় চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। রাতের একপর্যায়ে ওই নারী গ্যারেজ থেকে পালিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে থানায় জানানো হলে পুলিশ অভিযুক্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করে। নির্যাতিতা ওই নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় নির্যাতিতা ওই নারী বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেন।

যশোর : জেলায় কিশোরী পুত্রবধূকে (১৪) ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর আমির মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযোগ দিয়েছেন ঘটনার শিকার পুত্রবধূ। আমির মিয়া জেলার সদর উপজেলার সাড়াপোল এলাকার লেদু মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানায়, পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আমির মিয়া নামে একজনকে আটক এবং পুত্রবধূকে থানায় পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

পুত্রবধূ জানিয়েছেন, তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্য জায়গায় থাকেন। তিনি তার খালার বাড়ি শেখহাটি থাকতেন। মাস তিনেক আগে (৩ রমজান) সাড়াপোল এলাকার আমির মিয়ার ছেলে ইব্রাহিমকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। ইব্রাহিম দিনমজুর। ভালোবেসে নিজে বিয়ে করায় পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই তার। বিয়ের এক সপ্তাহ পর শ্বশুর একদিন মোবাইল ফোন নিয়ে এসে বলেন, মোবাইল ফোনে গান হচ্ছে না, ঠিক করে দেও বৌমা। তিনি মোবাইল হাতে নিয়ে ভিডিও ওপেন করে দেখেন খারাপ ছবি (নীল ছবি)। তিনি বিষয়টি শাশুড়িকে জানালেও কোনো গুরুত্ব দেননি। এরপর একদিন শ্বশুর তাকে জোর করে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে। বিষয়টি ছেলেকে জানালে ছেলের কাছে কোনো দিন থাকতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয় শ্বশুর। বাড়ির কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ না থাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ভয়ে তিনি প্রথমে কাউকে কিছু বলেননি। এরপর আরো কয়েক দিন রাতে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধর্ষণ করে।

বিষয়টি স্বামী ইব্রাহিম ও শাশুড়িকে জানালে তারা এ বিষয়ে কোনো গুরুত্ব দেননি। এভাবে ১৪ দিন তাকে ধর্ষণ করা হয়। গত ৩১ আগস্ট তিনি তার খালার বাড়ি শেখহাটি চলে যান। গত শনিবার শ্বশুর খালার বাড়িতে আসে। শ্বশুর তার সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে কুপ্রস্তাব দিলে খালা শুনে ফেলেন। তখনই খালার কথায় শ্বশুরকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়।

গৃহবধূ বলেন, দিনের পর দিন নির্যাতনের শিকার হলেও ভয়ে কাউকে জানাতে পারিনি, স্বামীকে বলেও কোনো প্রতিকার পাইনি।

ওসমানীনগর (সিলেট) : উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রী কিশোরী মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার দয়ামীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের রাইকদারা (নোয়াগাঁও) গ্রামের মাসুক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তারই চতুর্দশী মেয়েকে যৌন নির্যাতন করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার মেয়ে তার চাচিকে ঘটনাটি জানায়। এরপর তার চাচি এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অবগত করলে বিষয়টি টের পেয়ে লম্পট মাসুক মিয়া পালিয়ে যায়। রবিবার দুপুরে ভিকটিমকে নিয়ে তার চাচি থানায় গিয়ে মাসুক মিয়াকে একমাত্র আসামি করে ওসমানীনগর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠায়। এরপর অভিযান চালিয়ে রাত ৩টার দিকে পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তার করে।

ওসমানীনগর থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এম আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মাসুক মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

জয়পুরহাট : জেলা শহরের আরামনগর হাফেজিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার এক ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে আইয়ুব আলী নামে ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আইয়ুব আলী নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার কামিয়াডাঙ্গা গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে।

কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, ওই মাদ্রাসায় ১৪-১৫ জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। তারা জেলা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের সন্তান। এই আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষক আইয়ুব রাতে আরবি শেখাত। প্রায় প্রতি রাতে একজন শিশুকে শোয়ার ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করত। রবিবার একটি শিশু অসুস্থ হলে তার পরিবার ঘটনা জানতে পারে।

জয়পুরহাট সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মুবিনুল ইসলাম মুবিন বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদিকে এ ঘটনায় এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

জয়পুরহাট থানার ওসি (তদন্ত) রায়হান হোসেন বলেন, অসুস্থ শিশুর পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ বিষয়টি দ্রুত আমলে নিয়ে তদন্ত করবে। আসামি পলাতক থাকায় তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কিশোরগঞ্জ : জেলার পাকুন্দিয়ায় স্কুলছাত্রী স্মৃতি আক্তার রীমাকে (১৫) ধর্ষণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের জেলা স্মরণি মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জাহিদ মিয়া পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফরাদী গ্রামের খুরশিদ মিয়ার ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানার ওসি (তদন্ত) এস এম শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, থানা হেফাজতে রেখে গ্রেপ্তার জাহিদ মিয়াকে স্কুলছাত্রী রীমা ধর্ষণ ও হত্যার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই বিকেলে মায়ের সঙ্গে অসুস্থ নানিকে দেখতে পাকুন্দিয়া উপজেলার গাংধোয়ারচর গ্রামে নানার বাড়িতে যায় রীমা। ১৮ জুলাই নানার বাড়ির পশ্চিম পাশে পুকুর পাড়ে একটি বরই গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় রীমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রীমার মা আঙ্গুরা খাতুন ১৯ জুলাই রাতে বাদী হয়ে চরফরাদী গ্রামের খুরশিদ মিয়ার ছেলে জাহিদ মিয়া, রুবেল মিয়ার ছেলে পিয়াস মিয়া, ফারুক মিয়ার ছেলে রুমান মিয়া ও কফুল উদ্দিনের ছেলে রাজু মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। নিহত স্মৃতি আক্তার রীমা পার্শ্ববর্তী হোসেনপুর উপজেলার জামাইল গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে। সে হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

হোমনা (কুমিল্লা) : উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রবিবার রাতে শামীম (২০) নামে এক কলেজছাত্রকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন জনতা। শামীম উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের নিজপাড়ার আবদুল লতিফের ছেলে।

ছাত্রীর স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নবম শ্রেণিতে পড়–য়া ওই ছাত্রীটি স্কুলে যাওয়া-আসার পথে শামীম দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানাভাবে যৌন হয়রানিসহ প্রেমের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু মেয়েটি বরাবরই তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বিষয়টি বার বার শামীমের পরিবারের সদস্যদের জানালেও এতে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। রবিবার রাতে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে একটি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করার সময় স্থানীয় জনতা তা দেখে ফেলেন। পরে শামীমকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে থানায় খবর দেয়া হয়।

হোমনা থানার ওসি সৈয়দ মো. ফজলে রাব্বি বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে সোমবার জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj