ধর্মের দোহাই দিয়ে আজো বাস্তবায়ন হলো না সিডও : সেবিকা দেবনাথ

সোমবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ সনদের (সিডও) দুটি ধারায় এখনো সংরক্ষণ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশের মৌলবাদী ও ধর্মান্ধগোষ্ঠী এ সনদের পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের

ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নারী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নারী-পুরুষের সমতার প্রশ্নে প্রতিবারই ধর্মের দোহাই দেয়া হয়। ধর্মের দোহাই দিয়ে নারীর প্রতি যে বৈষম্য করা হচ্ছে তা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। ধর্মকে আঘাত না করেও নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তারা আরো বলছেন, অনেক মুসলিম রাষ্ট্র সিডওর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রগতিশীল পদক্ষেপ নিয়েছে। তাহলে আমরা কেন এত পিছিয়ে যাচ্ছি? দীর্ঘ ৩২ বছরেও আমরা সিডও সনদের দুটি ধারা থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করতে পারিনি। সরকার দৃঢ় হলে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন; সিডওর যে দুটি ধরায় বাংলাদেশ সংরক্ষণ রেখেছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে, প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এই কথাগুলো আমরা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে শুনছি। তারপর বলা হলো এ বিষয়টি তারা ‘স্ট্রং কনসিডারেশন’ করছে। এসব চাতুর্যপূর্ণ কৌশল এবং শব্দচয়ণ আর ধোপে টিকবে না। সিডও সনদের দুটি ধারা থেকে আপত্তি তুলে নেয়ার ক্ষেত্রে কোরআন-সুন্নাহর যে দোহাই দেয়া হয় তা একটা উছিলা মাত্র।

এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন; নারীর অধিকারের ক্ষেত্রেই আমরা ধর্মের দোহাই দেই। এটা ‘হিপোক্রেসি’ ধাপ্পাবাজি। অন্যান্য আইনে ধর্মের বিচ্যুতি যদি আমরা দেড় থেকে দুইশ বছর ধরে মেনে নেই তাহলে সিডও সনদের ব্যাপারে কেন ধর্মের দোহাই দেই?

মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট সালমা আলী বলেন; দীর্ঘ বছর পেরিয়ে গেলেও সিডও সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন হলো না। উপরন্তু মৌলবাদীদের দ্বারা আমরা প্রতিনিয়ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। যা সিডও সনদের সংরক্ষিত দুটি ধারা প্রত্যাহারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। অথচ অনেক মুসলিম রাষ্ট্র সনদটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রগতিশীল পদক্ষেপ নিয়েছে, তাহলে আমরা কেন এত পিছিয়ে যাচ্ছি?

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন; ধর্ম থেকে বিচ্যুতি না ঘটিয়েও নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক একটি সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি। কিন্তু দুটি ধরায় এখনো আপত্তি অব্যাহত রয়েছে। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও এই সনদ আমরা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছি। সিডও সনদের ২ ধারাটি হচ্ছে সনদের প্রাণ। কিন্তু আমরা সনদের মূল উপজীব্য থেকে দূরে আছি। আর সে কারণে ওই সনদের আইনে কোনো মূল্য আছে বলে আমি মনে করি না। সিডও সনদের দুটি ধারা থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন; ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান এবং জাতির জনকের স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে সমতার বাংলাদেশ গড়তে হবে। এবং এই সংরক্ষণ তুলতে হবে।

অন্যপক্ষ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj