অসময়ে সেন্টমার্টিন

রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সজীব দাশ

সাগরের বিশাল ঢেউয়ে মনে হতেই পারে রোলার কোস্টারে চড়ে উঁচু নিচু পথ পাড়ি দিচ্ছেন। এধরনের রোমাঞ্চকর ভ্রমণে যেতে চাইলে অফ সিজনে সেন্টমার্টিন হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। অসময়ে সেন্টমার্টিনে থাকে না কোন পর্যটক কোলাহল। হুটহাট বৃষ্টিস্নাত রাতে দাঁড়িয়ে মাঝে মাঝে মনে হতে পারে আপনি দারুচিনি দ্বীপের রাজা! আর তিনদিনের রাজা হবার লোভ সামলাতে না পেরে জুনের শেষে ঘুরে এলাম সেন্টমার্টিন থেকে। তবে যদি যান সবদিক বিবেচনা করে যাবেন। মনে রাখবেন আপনার জীবন শুধুই আপনার। কারণ অপর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনে বেড়ানো সাশ্রয়ী হলেও খুবই বিপজ্জনক।

দারুচিনির দ্বীপখ্যাত সেন্টমার্টিনে ঘুরতে গিয়ে অফ সিজন আর পর্যটন মৌসুমের ভেতর খুব বেশি অমিল খুঁজে পাবেন না। সিজনে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত ভ্রমণ হবে নিরাপদ ও আরামদায়ক। মনে রাখতে হবে, অফ সিজনে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত ভ্রমণ কষ্টকর ও অনিরাপদ। তবে অফ সিজনে আপনি কোলাহল মুক্ত দ্বীপ, নির্জন সৈকত এবং থাকার হোটেল সবই পাবেন সাশ্রয়ী দামে। তাই বাজেট ট্যুরের জন্য অফ সিজনই সেরা। অফ সিজনে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত যাতায়াতের একমাত্র উপায় হচ্ছে ট্রলার। একটু অনিরাপদ হলেও সাগর পাড়ি দিতে ভাড়া গুনতে হবে ২৩০ টাকা। সময় লাগবে সাড়ে তিন ঘন্টার মতো। তবে ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই আবহাওয়া দেখে নিবেন কারণ ভ্রমণের থেকে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। টেকনাফ থেকে ট্রলার ছাড়ে জোয়ারের উপর নির্ভর করে। আমরা যখন যাই তখন জোয়ার আসতে আসতে প্রায় তিনটা বেজে গিয়েছিল। আর পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় অন্ধকার ছুঁই ছুঁই। (প্রয়োজনে ট্রলার লাইনম্যানের ০১৭৩০৬৬৮৮৬২ নম্বরটি টুকে রাখতে পারেন সাহায্য হবে এতে)

সিজন অপেক্ষা অনেক কমে থাকার জন্য রিসোর্ট পেয়ে যাবেন। তবে অফ সিজনে সব রিসোর্ট খোলা থাকে না। যারা একটু বেশি নির্জন ও নিস্তব্ধতা পছন্দ করেন তাদের জন্য সেরা হবে সাগর পারের রিসোর্টগুলো। আমরা বাজার থেকে মোটামুটি দূরত্বের ‘নিসর্গ কুটির’ রিসোর্টের (কোরাল) এ উঠেছিলাম। দুই বেড অনেক বড় রুম, ভাড়া ছয়শ’ টাকা মাত্র। যা সিজনে মোটামুটি প্রায় তিন হাজার টাকায় ভাড়া হয়। রিসোর্টের লোকদের সঙ্গে কথা বলে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপার ঠিক করে নেয়াই ভালো। এতে খাবার খরচ অনেক কম পরবে। যা বাইরের কোন হোটেলে খেতে গেলে অনেক বেশি পরবে। ট্যুরে আমাদের মেন্যু ছিল টুনা মাছ ভর্তা, ডাল, রুপচাঁদা ফ্রাই, আর কোরাল মাছ দিয়ে দুপুর ও রাতের খাবার। এধরনের মজার খাবার খেতে জনপ্রতি প্রতিবেলায় খরচ হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা। সেন্টমার্টিনের মূল দ্বীপ থেকে ছেড়া দ্বীপ যেতে চাইলে আপনি হেটে কিংবা সাইকেল প্যাডেল করতে করতে ও চলে যেতে পারেন, যাওয়ার আগে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিয়ে যাবেন, সাইকেল ভাড়া ঘন্টা প্রতি ৩০ টাকা নিয়েছিল।

সেন্টমার্টিন গেলে অবশ্যই কয়েক দিন সময় হাতে নিয়ে যাবেন। কারণ সেন্টমার্টিন গেলে দুই একদিন না থাকলে রাতের সেন্টমার্টিন উপভোগ করতে পারবেন না। রাতের সেন্টমার্টিন সত্যি মনোমুগ্ধকর। সেন্টমার্টিন গেলে অবশ্যই ডাবের টেষ্ট নিতে ভুল করবেন না। না হলে আপনার মনে হতেই পারে অসম্পূর্ণ ট্যুর। বাজারে জেটির কাছেই ২০/২৫ টাকায় পেয়ে যাবেন বড় মিষ্টি ডাব। তবে আমাদের মতো ভাগ্যে ভালো থাকলে আর গ্রুপ মেম্বার কেউ গাছে উঠতে জানলে গাছ থেকে ডাব পেরে খাওয়ার অভিজ্ঞতাও পেয়ে যেতে পারেন।

ভ্রমণকালীন কিছু সতর্কতা

>> অপর্যটন মৌসুমে ট্রলারে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ অনিরাপদ, তাই আপনার মনোবল শক্ত হওয়া প্রয়োজন, তা না হলে অফপিক সময়ে বেড়ানো আনজন্য নয়।

>> সেন্টমার্টিন যাওয়ার আগে অবশ্যই আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে যেনে বের হন।

>> সেন্টমার্টিন যাওয়ার আগে আপনার জন্মনিবন্ধন, পরিচয় পত্র অথবা পার্সপোর্টের ফটোকপি সঙ্গে রাখুন, চেকিংয়ের সময় প্রয়োজন হতে পারে।

>> সঙ্গে টুপি কিংবা ছাতা অবশ্যই রাখবেন, ট্রলারে প্রচন্ড রোদে এর প্রয়োজন ঠিক তখনই বুঝতে পারবেন।

>> যারা সী-সিকনেসে ভুগেন তারা অবশ্যই ভরাপেটে ট্রলার ভ্রমণ পরিহার করুন।

>> ছেড়া দ্বীপে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঙ্গে অবশ্যই পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে যাবেন।

>> অফ সিজনে সেন্টমার্টিন তুলনামূলক নির্জন থাকে, তাই রুম থেকে বের হবার সময় দরজার সঙ্গে সঙ্গে জানালাগুলো বন্ধ করতে ভুল করবেন না।

>> সেন্টমার্টিনের স্থানীয়রা খুব বন্ধু সুলভ তাই তাদের সঙ্গেও বন্ধু সুলভ আচরণ করুন।

>> সেন্টমার্টিনে মিষ্টিপানির পরিমান খুব কম, তাই মিষ্টিপানির অপব্যবহার পরিহার করুন।

>> নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা আবর্জনা ফেলবেন। সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষা করুন এবং সমুদ্রে পলিথিন বা প্লাস্টিক কিছু ফেলে আসবেন না।

>> কম খরচে সেন্টমার্টিন যেতে অবশ্যই সরকারি ছুটির দিনগুলো এড়িয়ে ঘুরতে যান।

কৃতজ্ঞতা : ট্র্যাভেলার্স অব বাংলাদেশ

ফ্যাশন (ট্যাবলয়েড)'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj