আমাজন পোড়ার নেপথ্যে…

শনিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৯

কাগজ ডেস্ক : খোলা আকাশের নিচে কাঠের তৈরি একটি খুপরিতে প্ল্যাস্টিকের চেয়ারে বসে আছেন জোসে আন্তনিও। অবৈধ উপায়ে সোনার খনিতে কাজ পরিচালনার জন্য এটিই তার প্রধান কার্যালয়। জোসে আন্তনিওর এই খুপরির অবস্থান ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের প্যারা স্টেটের ট্যাপাজোস নদীর কিনারে। সেখানে আরো শত শত খুপরি রয়েছে। বাইরে বিশাল আকারের কয়লার স্তূপের পাশে পার্ক করে রাখা হয়েছে একটি হাইড্রলিক খনন মেশিন। আমাজনের গভীর জঙ্গলে শত শত বাদামি রংয়ের মেশিন রয়েছে। এই মেশিনটির কিছু যন্ত্রাংশ প্রয়োজন। এ যন্ত্রাংশ আনা হবে কুঁড়েঘর থেকে নদী পেরিয়ে একটি আদিবাসী গ্রামের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেলে ১০ মিনিটের দূরত্ব অবস্থিত গোপন একটি আস্তানা থেকে। সেগুলো আনার পর অল্প কিছু সময়ের মধ্যে খননকাজের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে এ মেশিন। ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয় আইন ও দুর্বল প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া মূল্যের গুঞ্জনে পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজনে এখন অবৈধ উপায়ে নজিরবিহীনভাবে সোনার খনির খোঁজ করছে স্থানীয় বিভিন্ন স¤প্রদায়ের মানুষ। হাজার হাজার অবৈধ খনির সন্ধানকারীরা সোনার খোঁজে খননকাজ পরিচালনা করছেন। এ জন্য তারা আমাজনের গাছ কাটছেন ও নদী দূষণ এবং আদিবাসীদের জমি দখল করছেন। ব্রাজিলের ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো সরকারের সঙ্গে শিল্প কারখানা ও সোনার খনির সন্ধানকারীদের মিত্র সম্পর্ক রয়েছে। তিনি খনি খনন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ আদিবাসীদের ভূমি আইনের মাধ্যমে উন্মুক্ত করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো প্রত্যেক সপ্তাহে ফেসবুক লাইভে এসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। স¤প্রতি এক লাইভে তিনি বলেন, ‘আমি যতদূর উদ্বিগ্ন, তাতে যদি একজন আদিবাসী (ব্যক্তি) তার নিজের ভূমি থেকে খনিজ পদার্থ উত্তোলন করতে চান, তাহলে তিনি তা পারবেন।’

আমাজনের ভূতত্ত্ব ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করে দেশটির সংস্থা আমাজন জিও রেফারেন্সড সোসিও-এনভায়রনমেন্টাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক। সংস্থাটি বলছে, ব্রাজিল ভূখণ্ডে থাকা চিরহরিৎ এই বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সাড়ে চারশ’র বেশি অবৈধ খনি খনন স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু আদিবাসীদের ভূমিতেই রয়েছে কয়েক ডজন।

সংকটের প্রাণকেন্দ্র : ট্যাপাজোস নদীর অববাহিকাই খনি খনন সংকটের প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হালকা একটি বিমানে করে আমাজনের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দেখা সম্ভব হয়েছে। বন সাবাড় হচ্ছে এবং নদীর তীর উপচে বাদামি রংয়ের কাদার স্তূপ জমছে। এ ধরনের কিছু কাজ এই অঞ্চলে আবার বৈধও। প্রত্যেক বছর, এখানে অন্তত ৩০ টন স্বর্ণ অবৈধভাবে কেনাবেচা হয়। গত এপ্রিলে ব্রাজিলের জাতীয় খনি সংস্থা দেশটির কংগ্রেসের কাছে একটি প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈধ উপায়ে আমাজনের জঙ্গলে প্রত্যেক বছর যে পরিমাণ সোনা বেচাকেনা হয়, তার চেয়ে ছয়গুণ (এক দশমিক এক বিলিয়ন ডলার) বেশি হয় অবৈধভাবে।

দূরের জানালা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj