সংসার : হাসান মাসুদ

শনিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৯

স্কুলের ডিউটি শেষ করে ক্ষুধার্ত এবং ক্লান্ত শরীরে বাসায় ঢুকে হাসান দেখে স্ত্রী গম্ভীর মুখ করে দেয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আছে।

– কি হয়েছে? বিছানায় বসে শার্ট খুলতে খুলতে স্ত্রীর কাছে জানতে চায় হাসান।

– কি আর হবে। সব আমার কপালে ছিল।

– কপালে কী ঘটেছে?

– ঘটবে কী? ঘটার কী আছে? তোমার সংসারে আসার পর থেকে বলো তুমি আমায় কী দিয়েছো?

– মানে? লুঙ্গি পরতে পরতে খানিকটা বিস্ময়ে স্ত্রীর চোখে তাকায় হাসান সাহেব।

সেই কবে বিয়ের সময় কানের একজোড়া দুল দিয়েছিল। তারপর দুগাছি চুড়ি। আর কোনো কিছুই তাকে দেয়নি কিংবা দিতে পারেনি হাসান। অর্থাৎ স্বামীর কাছে এ ব্যাপারে একটা বলিষ্ঠ দাবি সে তুলতেই পারে। তা হলোও বটে। হাসানের স্ত্রী মিতা সহাস্যে বলল- আমাকে গয়না কিনে দেবে? আজ টিভিতে একটা বিজ্ঞাপনে দেখেছি। অনেক সুন্দর গয়না। আমাকে বেশ মানাবে ওতে।

– না। এখন হাত খাটো। জবাব দেয় হাসান।

এ কথা শুনেই মিতা মুখ গোমড়া করে ও দিকের বেলকনিতে গিয়ে

বসল। এভাবেই ঘণ্টাখানেক চুপচাপ বসে রইলো। এ যেন স্থির প্রতিজ্ঞা- গয়না না পেলে উঠবে না সে।

এটা দেখে ভীষণ রকম রেগে যায় হাসান। এ কোন জ্বালা! সংসারে অনেক দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, তাই বলে হুতুম পেঁচার মতো মুখ বানিয়ে কেউ বসে থাকে নাকি? রাত অনেক হয়েছে। দুচোখ জুড়ে ঘুম আসছে। স্কুলে খুব ধকল গেছে আজ। প্রতিদিনের মতোই আবার আগামীকাল হাজির হতে হবে। এ অবস্থায় মিতার এমন আচরণ মোটেও ঠিক হচ্ছে না। হাসান এখন কি করবে? কোথায় যাবে?

আরো কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর হাসান স্ত্রীর অভিমান ভাঙাতে নরম কণ্ঠে স্ত্রী মিতাকে ডাকে- জানু?

ও জানু?

মিতা স্বামীর ডাকে জবাব দেয় না। বসেই থাকে। এদিকে হাসান ভাবে, এক আশ্চর্য নারী মিতা। ইন্টার পাস বৌয়ের কাছে এমন ব্যবহার আশা করা যায়! অন্তত স্বাভাবিক বুদ্ধির বিকাশে সংসার জীবন বুঝা উচিত। এত ন্যাকামি আর ভালো লাগছে না।

যাই হোক, নিজেকে ছোট করে উঠে এসে স্ত্রী মিতার হাত ধরে বলে- আসো, বিছানায় আসো।

– না। কেন? তোমার সঙ্গে থাকতে আমার ঘৃণা হয়। নিজেকে ছোট লাগে।

– কি বলছো এসব? বেশ ধরা গলায় জিগ্যেস করে হাসান সাহেব।

– হ্যাঁ ঠিক বলছি। আজ দুপুরের পর তোমার চাচাতো বোন রোজিনা এসেছিল। ওর গলায় মোটা সোনার হার। একটা গাড়ি ড্রাইভারের বৌ যদি সোনার হার গলায় তুলতে পারে আমি কি দোষ করেছি? আমি কেন পারব না?

– পারবে, অবশ্যই পারবে। অভয় দেয় হাসান।

– মুখেই বড় বড় কথা। দিয়েছো সোনার একটা বিন্দু?

নাকে ফোচর ফোচর পানি নিয়ে পুরনো রেকর্ড বাজাতে থাকে মিতা।

– দেব, জানু দেব। কয়েকটা মাস সবুর করো, দেব।

– সত্যিই দেবে?

ও-উ-উ-ম। স্ত্রীকে বুকের মধ্যে শক্তি দিয়ে ঠেসে ধরে হাসান।

মিতা স্বামীর বুকে গিয়ে বেশ শান্ত এবার। সকল চাওয়া পাওয়ার ঊর্ধ্বে যে স্বামী স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক মিতা একটু উপলব্ধি করতে পারল।

অতঃপর হাসানের বাহুপাশে গিয়ে মিতা লজ্জায় লাল হয়ে বলল- আমাকে ক্ষমা করো।

পাঠক ফোরাম'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj