দোহারের ছদ্মবেশ

শুক্রবার, ৩০ আগস্ট ২০১৯

প্রশান্ত মৃধা

ধারাবাহিক উপন্যাস : পর্ব ২

এই মেয়ের (বউর) তো কৌশলের অভাব নেই, কানপাতা কিংবা অন্যের কাছ থেকে ফুসমন্তর দিয়ে কথা বের করার কায়দা কানুন সে শিখে গেল নাকি। একপলকে পার্বতীর চোখ থেকে মুখ সরিয়ে তারপরই খুদি ভাবে সেদিন যখন তার সঙ্গে রসিকের নিচু গলায় ওই ঝগড়াটা হলো, সেই সময়ে ধারে কাছে কেউ ছিল নাকি যে তাদের কথা শুনেছে? না, তেমন কেউ ছিল না। দোকানের ঝাপ ফেলানো ছিল, কিন্তু পাশের পশ্চিমমুখী ছোট দরজাটা তো খোলা ছিল। তখন কেউ এসে দাঁড়ালে নিশ্চয়ই সে দেখতে পেত। ওই দরজার দিকেই ছিল খুদির মুখ! কিন্তু সেই নিশ্চল দুপুরের দৃশ্য ভেবে নিয়েও খুদি আবার তাকায় পার্বতীর দিক। হাতে ঝাটা নিয়ে দোকানের নিচের দিকে ঝাড়– দেওয়ার তৎপরতাও সে দেখায়। আর পার্বতীর কথা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে সেই উলটো জানতে চায়, ‘ও নাতিবউ, সুমন কই? সকালে এদিক দেকচেলাম, গেছে নাকি ওর ভাই (ঠাকুরদা) সাথে খালের ওপার।’

পার্বতী বিষয়টা ধরতে পারে। সে হাসে। হাসতে হাসতে বলে, ‘না সুমন আছে ঘরে। এই তো দেইখে আসলাম। হু, পার্বতী ছোট ছেলে রাজকে ঘুম পাড়িয়ে সুমনকে বলে এসে যেন খেয়াল রাখে। সে এখনই আসবে।

‘ওহ্-’ খুদি নিজের কথার পক্ষে বাতাস দেয়, ‘না, আমার মনে হলো, মনে হয় ওপার গেছে।’

‘না,’ পার্বতী বলে, ‘ওদি, তোমার ধারে কী জানত চালাম?’

খুদি বোঝে, এবার আর ফাঁসানো গেল না। সে হাসে তারপর উলটো পার্বতীর কাছে জানতে চায়, ‘কী জানতি চাইলি?’

‘শোনোনি আমার কতা?’ পার্বতীর গলায় কপট ঝাঁজ, ‘জানতি চালাম, আইজকাল তোমারে এইরাম মনমরা দোহায় কেন?’

হাতের ঝাড়– দোকানের নিচে রাখে খুদি। তারপর গোটা বিষয়টা লুকানোর জন্যে একটু খেঁকিয়ে বলে, ‘কোয়ানে আমার মন খারাপ দেহো, মুখ কালো দোহা। তোর যত কতা!’

‘দেহি তো, তুমিই জানো কী জন্যি এইরাম!’

‘কী জন্যি?’

পার্বতী বাড়ির ভিতরের দিকে ঢুকে যাবে। যদি ছোট ছেলেটা উঠে যায়, কিংবা সুমন ওর কাছ থেকে খেলতে খেলতে সরে যায়? কিন্তু উঠানের পশ্চিম কোনায় তাদের ঘরের সামনে সুমনে দেখা যাচ্ছে না। তার মানে এখনও ঘরে আছে। তাহলে খুদিকে তার যা মনে হয়েছে, সে কথাটা বলা যায়। তাই পার্বতী বলে, ‘ওদি, খুড়োর সাথে কিছু হইচে তোমার?’

খুদি আবার চট করে পার্বতীর দিকে তাকায়। সত্যি বড়ো ঝানু মেয়ে এই নাতিবউ। কথা মাটিতে পড়তে দেয় না, সে-কথা গ্রামের প্রায় সবাই জানে। কিন্তু এ যে পেটের কথাও টেনে বের করে নিয়ে আসতে পারে, জানা ছিল না খুদির। আবার একেবারেই যে জানা ছিল না, তাই-বা বলা যায় কী করে। আগে দুই-একবার ছবি কি গীতা কিংবা গুণধরের (নতুন) বউ বিন্দুর সঙ্গে এমন করেনি? করতে পারে। হয়তো খুদিকে এসে বলেছেও, সে শুনেছে কিন্তু বুঝতে পারেনি এমন নাছোড়বান্দার মতো লেগে থাকে। এ দরদ না অন্য কিছু। এত দরদ তো পার্বতীর থাকার কথা নয়। যে বউর হাতের ভাত তার শ্বশুর একদিনও খেতে পারেনি, তার আবার দরদ!

না, অত দরদ টরদ নেই পার্বতীর। তবু, এখন খুদিকে দেখে জানতে তো চেয়েছে। তাই খুদি যেন পার্বতীর কাছে ধরা পড়ে গেল। দোকানের সামনের দিকে পার্বতীর কাছে এগিয়ে এল সে। তারপর পার্বতীকে বলল সেই কথা। যে-কথা দিন কয়েক আগের দুপুর বেলা রসিকের সঙ্গে তার হয়েছিল।

রসিক অবশ্য তারও কয়েকদিন আগে থেকে একটু উদাসী। সব কাজে অমনোযোগী। এই-যে দোকান চালায়, তাও নামের নাম- দোকান একটা আছে তাই খোলার জন্যে খোলা। তাছাড়া রসিকের পুুঁজি-পাট্টাই-বা কত? মুদি দোকানের মালপত্র এনে রাখলে, তাই-বা তেমন চলবে কেন? তেমন দরকারি জিনিস সবাই হাট থেকেই কেনে। এই দোকানে আসে একেবারে ঠেকা-বাধায়। একটু হলুদ যদি লাগে কারো, পোয়াটেক লবণ কিংবা দুটো চিনাবাদাম, একটু নীল কিংবা বাচ্চাদের ল্যাবেনচুস। আর আজকাল কারও কারও বাড়িতে চা খাওয়ার চল হয়েছে তাই নাবিস্কো বিস্কুট অথবা বোয়ামে রাখে বেকারি বিস্কুট। রসিকের দোকানে চলার ভিতরে চলে বিড়ি, সিগারেট খায় খুবই কম। স্টার বা নেভিই বেশি চলো। গোল্ডলিফ সে কখনও রাখেনি। গ্রামের কোনো কোনো বাড়িতে এখন হুঁকোয় তামাক খাওয়ার চল আছে। পাতার বিড়ি ছেড়ে কাগজের বিড়ি খাওয়া ধরেছে অনেকে, সেখানে গোল্ডলিফের মতন সিগারেট কে টানে? এদিকে এ রাস্তায়ই একটু সামনে নিজেদের মণ্ডলবাড়ির সীমানায় অমল দোকান দেয়ার পরে রসিকের দোকানের বিক্রি আরও কমেছে, ওই পশ্চিম দিকের মানুষজন রসিকের দোকানে সওদাপাতির জন্য প্রায় আসেই না।

এ জন্যে উদাসীন রসিক? না, তা কোনোভাবেই নয়। সপ্তাহ মাত্র দিন দুয়েক মাছ খাওয়া, প্রায় নিরামিষাশী রসিক আয় রোজগার নিয়ে কোনোকালেই তৎপর ছিল না। আজও সে নিয়ে তার কোনো উৎসাহ নেই। জীবন চলছে, বেঁচে আছে তাই সে খুশি। আনন্দে কি নিরানন্দে তার দিন কাটে। এই নিয়ে কেউ তার চোখে মুখে কোনো দিন কোন উদ্বেগ দেখেনি। বরং খুদি আসার পরে যেন শুরু হয়েছে রসিকের এই উদাসীন। তা একটু হতেও পারে। খুদি রসিকের তুলনায় তৎপর, দোকানের জন্যে হাট কি বাজার থেকে সওদাপাতি রসিক কিনে আনে ঠিকই দোকান চালায় বলতে গেলে খুদি। সে বাবদ রসিক তাকে ভাবগৎ পাঠ করে শোনায়, আর তার সঙ্গে সেই ভাগবৎ পাঠের রস নিয়ে ঘুমায় রসিক। জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার এমন সম্মিলন কে দেখেছে কোন কালে?- এ কথা পরিতোষ হরষিত শ্রীধর কিংবা সুনীলের মতন কেউ কেউ পিছনে বলেও।

সেই রসিক সেদিন দুপুরে, এই দোকনের ভিতরে আধশোয়া হয়ে গড়াগড়ি দিতে দিতে খুদির কাছে মেয়েকে দেখতে যাওয়ার প্রস্তাব দিলে, খুদি নিজেও জানে না তার কেন অমন মন খারাপ হয়?

সেখানে, পিছনে এমন কোনো গল্প নেই যে খুদি রসিককে ভারতে যেতে দিতে কোনো আপত্তি আছে। সে নিজেও তো কতকাল এই বোনঝির মুখটা দেখে না। জানে না সেই বিদেশ বিভুঁয়ে মেয়েটা কেমন আছে। তার দিদি মারা যাওয়ার সময়ে মেয়েটাকে বলতে গেলে ছোটই রেখে গিয়েছিল। আর রসিকও তখন এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে, আশেপাশে এই জ্ঞাতিগুষ্টির লোকজন না থাকলে ওই খালে জলে নেমে দুই চোখের জল ছেড়ে দিয়ে কান্না ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। ওদিকে রণজয়ের মা, এদিকে কেষ্টর প্রথম বউ আশালতা- এই দুইজনই যা বল ভরসা দিয়েছে। পাশের হালদারবাড়ি অবিনাশের বাবা অবনীন্দ্রনাথ হালদার ফকিরহাটের এক পাত্রের খোঁজ আনে। গেরস্তকুলের আয়রোজগার ভালো, লকপুরের দিকে মাছের ঘের আর গাছের কলমের ব্যবসা আছে ছেলেদের। শুধু সে ছেলে ডান পাশটা একটু খাটো। খুদি সে নিয়ে এর চেয়ে ভালো জানেও না। তবে ওই সময়ে রসিকের মেয়েটাকে বিয়ে দেয়া ছাড়া অর কোনো উপায়ও ছিল না। রসিকের মেয়ে রতœা। দেখতে সত্যিই সুন্দর। গায়ের রং আর গড়নের উচ্চতা পেয়েছে বাপের। পাত্রপক্ষের অপছন্দ হওয়ার কোনো কারণ ছিল না।

কিন্তু ভাগ্য বলে তো একটা জিনিস আছে। খুদির ভাষায়, কপাল! কপালে ফের না হলে এমন ঘটবেই-বা কেন? ওই কপালের ফেরেও খুদির সব থাকতেও প্রায় কেউ নেই। আজ এই ভগ্নিপতির সঙ্গে থাকা লাগে? আবার কাল কে কোথায় থাকবে তাই-বা কে জানে। সবই তার অপার লীলা। রাধামাধবের লীলা বোঝে সাধ্য কার?

হয়তো সেই কপালের ফেরে কি রাধামাধবের অপার লীলায় মেয়েটার বিয়ে হওয়ার পর জামাই কী কেসে পড়ে? কী নিয়ে কেস, কী অপরাধ কোনোকিছুই আজ আর মনে নেই খুদির। শুধু এইটুকু মনে করতে পারে সে, যা শুনেছিল রসিকের কাছে, মেয়েটাকে নিয়ে জামাই প্রায় এককাপড়ে ব্লু্যাকে ইন্ডিয়ায় চলে যায়। রসিক সে সবই জেনেছিল রতœা ইন্ডিয়ায় যাওয়ার পরে পাঠানো চিঠিতে। তখন ব্লু্যাকে ওপার যাওয়ার মেয়ে, রসিকের মনে হতো, তার পাঠানো চিঠিও ডাকঘরের লোকজন খুলে পড়ে। সে সময়ে এই এলাকায় পোষ্টাপিস ভাসার হাটখোলায়। পরে মঘিয়ায়ও ডাকঘর বসেছে।

কিন্তু রতœার শ্বশুরমশাইয়ের চেয়ে তার কাকাশ্বশুর অনেক হিসেবি, তার জন্যেই ওরা এখন ভালো আছে। রতœার ছেলেমেয়ে বড়ো হয়েছে। জামাইর দোকান আছে ঠাকুরনগরে। স্টেশনের কাছে সেই দোকান। গ্রামের কেউ কেউ ওপার গেলে, বেনাপোল পার হয়ে রতœার বাড়িতে একবেলা খেয়ে তারপর নিজের গন্তব্যে গেছে। এইসব সংবাদ রসিকের কাছে এসে পৌঁছায়। রসিক শুনে কল্পনা করে। মেয়েটা দেখতে এখন কেমন? নাতি-নাতনিরা কলেজ পড়ে। তারা দেখতে কেমন হয়েছে? কিংবা জামাই নির্মল নাকি বেশ মোটা হয়েছে দোকানে বসে থাকতে থাকতে। ওই যে হালদারবাড়ির সুনীলের সেজভাই টুলু থাকে বহররমপুরে, ওর কাছে সুনীল স্বপন কেউ না কেউ গেছে গত বছর দশকে এক আধবার, তারা এসেছে বলেছে। ওই যে খালের ওপারে ঘরামিবাড়ির অপর্ণার বাপ নিরুদ্দেশ, সেও তো নাকি এখন বনগাঁও না মসলন্দপুরে থাকে। তার খবর বলার সময়ে কেউ কেউ এসে রতœার খবর বলে। রসিক তখন এই এত দূর থেকে মেয়ের মুখখানা কল্পনা করে। আর ভাবে, এই জীবনে আর একবারের জন্যে কি তার রতœাকে দেখা হবে না? এত লোক এসে বলে ভালো আছে তার মেয়ে সুখে আছে শান্তিতে আছে!

হয়তো সেই কল্পনায় ওই দুপুরের অমন কুলকুলানো হাওয়ায় দোকানের ভিতরে গড়াগড়ি দিতে দিতে রসিক খুদিকে বলেছে, ‘যাই, একবার মাইয়েডারে দেইখে আসি।’

‘কোথায় যাও?’

‘কেন ঠাকুরপুকুর!’

‘হাঁটা দেচো নাকি?’

‘না, এমনি ক’লাম।’

‘যেভাবে কইলা, মনে হইল, এহোনই হাঁটা দেচো!’

‘আরে না। কইলেই যাওয়া যায়?’

এই পর্যন্ত কথায় অবশ্য খুদির মনে হতেই পারে রসিক বলার জন্যে বলেছে। যদিও এমন রহস্য করে কথা রসিক খুব একটা বলে না। আগে খুদির যখন প্রকৃত পরিচয়ে রসিকের শালিই ছিল অর্থাৎ রসিকের বউ বেঁচে, খুদি নদীর ওপারে মাটিভাঙায় বিয়ে হয়েছে কি হয়নি- সেই সময়েও ভগ্নিপতি হিসেবে রসিক খুদির সঙ্গে তেমন ইয়ার্কি তেমন করত না। কিংবা কখনওই রহস্য করে কোনো কথা বলেনি। যদি বলেও থাকে, তাহলে আজ তার তা মনে পড়ে না। অনেককিছুই মানুষের স্মৃতিতে ঢুকে থাকে। কিন্তু কোনো কোনো ঘটনা অনেক সময়েই উলটে যায়, এমনভাবে উলটে যায় যে সে স্মৃতি মধুর হলেও তা আর কোনোভাবেই মনে পড়ে না। পরে যখন এখানে রসিকের কাছে এসে হাজির হয়েছে খুদি, দুজনে দুজনের অবলম্বন, তখন পুরনো সম্পর্কের কায়দাটাই যেন উলটে গেছে। এখন তো রসিকের আর রহস্য করার যেন সুযোগই আর নেই। সবই যেন উলটে পালটে গেছে। ফলে এই যে কথাগুলো বলেছে রসিক- এ সবই হেঁয়ালি। খুদি যাকে বলে, কথার ধাঁধা। শাস্ত্র পড়তে পড়তে লোকটা এইসব পারেও। এমনকি যুধিষ্ঠিরের কাছে ধর্ম নাকি কী সব প্রশ্ন করেছিল, সেই প্রশ্নের কোনোটা যদি খুদির মতন মানুষকে করে সে তার উত্তর দেয় কী করে? এখন যদিও তেমন কিছু বলেনি। শুধু বলেছে, রতœাকে দেখতে ইচ্ছে করে। দেখতে যেতেই পারে। কিন্তু এই যে বলল যাবে কখনও সুযোগ হলে, তারপর যদি বলে, ‘ভাবছি সামনের হাটবার ভাসা গেলে রঘুরে কব!’

রঘু কে খুদি জানে। জানে এই আশেপাশে প্রায় সব গ্রামের অনেকেই। ব্লু্যাকে ইন্ডিয়া যেতে হলে আশেপাশে দুই-এক ইউনিয়নের মানুষ তার শরণাপন্ন হয়। যদিও সে কীভাবে কাকে কখনও ইন্ডিয়ায় নেয় অথবা আনে সে খবর জানে না খুদি, সেই কায়দা কানুন তার অজানা থাকারই কথা। তবে এটা জানে, তাকে ঘরামিবাড়ির বুড়ি বলেছে, বলেছে হরষিতের কাকা যতীনও যে, বর্ডারের অবস্থা খারাপ ইলেকশন হওয়ার আগে এসব ঠিক হবে না। এই দোকানে বসার এটাই একটা সুবিধা রাজ্যের খবর জানা যায়। ফলে এই সময়ে রঘুকে খোঁজ আর ইন্ডিয়ায় যাওয়ার কথা বলায় খুদি তার প্রতিক্রিয়া জানায়, ‘সবাই দেহি কয় বর্ডারের অবস্থা খারাপ। এয়ার মদ্যি তুমি রঘুরে খোঁজো?’

ওই গড়াগড়ি দেওয়ার অবস্থা থেকে রসিক ঘাড় ঘুরিয়ে দাঁড়ানো খুদির দিকে তাকায়, ‘তোরে রঘু আইসে কইয়ে গেইচে?’

‘না, যতীনদা ক’ল ইলেকশনের আগে বর্ডারের অবস্থা ভালো হবে না, সে তো নানান পদের খোঁজ রাখা লোক।’

‘ওরে ব্লু্যাকে বর্ডার কহোনওই ভালো না, আবার কহোনোই মন্দ না। আমি হাটখোলায় কতদিন রঘুরে সেই গল্প ক’তি শুনিচি। বর্ডারের অবস্থা খারাপ হ’লি বেনাপোল যাইয়ে কয়দিন থাহে, কায়দা কানুন সব বোঝে, তারপর ওপার নিয়ে যায়। আসার সমায়ও ওইরাম কায়দা আছে। সেহানেও রঘুর লোক আছে। তাগে সব বুজোইয়ে দেয়া আছে। সেইমতো করতি হয়।’

খুদি দাঁড়ানো অবস্থায় মুখ নিচু করে অপলক চোখে রসিকের দিকে তাকিয়ে থাকে। রসিক প্রায় মুখস্ত বলে যাচ্ছে ইন্ডিয়ায় যাওয়ার কৌশল। এর ভিতরে এই ব্যাপারটা আছে, অনেকদিন সে রতœাকে দেখে না, দেখতে পাবে তার মায়ের মুখ। রসিকের মুখের সে ভাষা পড়ে নিয়েও খুদি বলে, ‘হইচে। এই সময়, এই শরীর নিয়া তোমার ওই ব্লু্যাকে যাওয়ার মন্তর কইতে হবে না।’

খুদি কথাটা যেন একটু ঝাঁজের। যদিও সে রসিকের প্রতি আন্তরিকতায় এ কথা বলেছে, কিন্তু তার কথাটা এমন শোনায় যেন রসিককে সে তার মেয়ের কাছে যেতে দিতে চায় না। নাকি রসিক তা-ই ভেবে নেয়। রসিক উঠে বসে। গায়ে জামা বা গেঞ্জি নেই। ধুতিখানাও হাঁটুর উপরে। ডাইন হাত ডাইন হাঁটুতে। চলবে

সাময়িকী'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj