নিউমোনিয়া কী?

শুক্রবার, ৩০ আগস্ট ২০১৯

ডা. স্বপ্নীল প্রহলাদ

নিউমোনিয়া ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের একটি রোগ। সংক্রমণ এবং এর পরবর্তী প্রদাহ এ রোগের প্রধান কারণ। এই সংক্রমণ হয় ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ইত্যাদি দিয়ে। তবে সব সর্দি-কাশিই কিন্তু নিউমোনিয়া নয়। জ্বর এবং এর সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট

থাকলে তবেই শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ হয়েছে বলে ধরা হয়।

শিশুর শ্বাসকষ্ট বুঝবেন কী করে?

২ মাসের নিচের শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের হার মিনিটে ৬০ বা তার বেশি, ২ মাস থেকে ১ বছরের নিচের শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের হার মিনিটে ৫০ বা তার বেশি এবং ১ বছর থেকে ৫ বছরের শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাসের হার মিনিটে ৪০ বা তার বেশি হলে তাকে শ্বাসকষ্ট বলা

হয়। তাই জ্বর-কাশিতে আক্রান্ত শিশু এ রকম ঘনঘন শ্বাস নিলে অথবা শ্বাসের সঙ্গে বুকের নিচের অংশ ভেতরের দিকে ঢুকে গেলে শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে বলে ধরা হয়।

নিউমোনিয়ার চিকিৎসা কী?

সাধারণ নিউমোনিয়ার চিকিৎসা বাড়িতেই সম্ভব। তবে শিশুকে এ সময় ওষুধের পাশাপাশি প্রচুর তরল খাবার ও পুরোপুরি বিশ্রামে থাকতে হবে।

কুসুম গরম পানি, লবণ পানি ও লাল চা দেয়া যেতে পারে।

নাক বন্ধ থাকলে নরমাল স্যালাইন ড্রপ (নরসল/সলো ড্রপ) দিতে হবে। তবে অন্য কোনো ওষুধজাতীয় ড্রপ দেয়া যাবে না।

বুকে তেল অথবা বামজাতীয় কোনো কিছু ব্যবহার করা যাবে না।

প্রয়োজন না থাকলে সাকশন যন্ত্র ব্যবহার করে কফ পরিষ্কার করা বা সামান্য কাশিতেই নেবুলাইজেশন করা সমীচীন নয়।

২ বছরের নিচের শিশুদের মায়ের বুকের দুধ বন্ধ করা যাবে না।

নিউমোনিয়া ভালো হতে ২-৩ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

তবে অবস্থা সংকটাপন্ন হলে শিশুকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

শিশুকে হাসপাতালে নিবেন কখন?

খুব বেশি শ্বাস-কষ্ট হলে

সব কিছুই বমি করে ফেললে

শিশু অজ্ঞান হয়ে গেলে অথবা

শিশুর খিঁচুনি হলে

নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করবেন কীভাবে?

নিউমোনিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। তাই ভয়ের কিছু নেই। যেটা প্রয়োজন সেটা হলো সচেতনতা।

নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিনসহ নিতে হবে অন্যান্য রোগের ভ্যাকসিন। বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।

শিশুর যেন ঠাণ্ডা না লাগে সে দিকে নজর রাখতে হবে।

শিশুর জন্য সুষম খাবার ও পরিমিত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে।

মশার কয়েল, চুলার ধোঁয়া ও সিগারেটের ধোঁয়া থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে।

শিশুর জন্মের পর থেকেই ইপিআই শিডিউল অনুযায়ী সবগুলো টীকা নিশ্চিত করতে হবে।

শিশু বিভাগ

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj