মুখের টিউমার আলসার ও ক্যান্সার : ডা. মো. ফারুক হোসেন

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯

মুখ ও চোয়ালের অভ্যন্তরে হওয়া টিউমারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমিলোব্লুাস্টোমা। এটি ক্যান্সার না হওয়া সত্ত্বেও খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায়। এ কারণে একে স্থানীয় ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বলা হয়। এটি আশপাশের কোষ ও টিস্যুকে দ্রুত ক্ষয় করে ফেলে। এমিলোব্লুাস্টোমা টিউমার অপারেশন করার পর যদি কোনো কোষ বা টিস্যু অসাবধানতাবশত থেকে যায় তবে সেখান থেকে পুনরায় এমিলোব্লুাস্টোমা সৃষ্টি হয়ে খুব দ্রুত চোয়ালকে ক্ষয় করে ফেলে। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে অপারেশন করার পরও এমিলোব্লুাস্টোমা হওয়ার ইতিহাস রয়েছে। এমনকি ভালোভাবে সার্জারি করার পর এই টিউমার ফিরে আসার প্রবণতা দেখায়।

এমিলোব্লুাস্টোমার কারণে প্রায় পুরো চোয়াল ফেলে দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পা থেকে হাড় নিয়ে চোয়ালের স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয় যা ফিবুলা মাইক্রোভাসকুলার ফ্ল্যাপ নামেই পরিচিত। পেরোনিয়াল আর্টারি বা ধমনীর সঙ্গে ফেসিয়াল আর্টারির সংযোগ স্থাপন করতে হয় যা যাকে মাইক্রোভাসকুলার অ্যানাসটোমোসিস বলা হয়। আমাদের দেশে আগে এসব ক্ষেত্রে হাড় দিয়ে চোয়াল প্রতিস্থাপন করা সম্ভব ছিল না যদিও উন্নত বিশে^ নব্বইয়ের দশক থেকেই এ চিকিৎসা ছিল। ফলে আমাদের দেশের রোগীদের চোয়াল ছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করতে হতো। তবে আশার কথা বর্তমানে আমাদের দেশেও মাইক্রোভাসকুলার সার্জারির মাধ্যমে পায়ের থেকে হাড় মাংস নিয়ে চোয়াল প্রতিস্থাপন সফলভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে। তাই এমিলোব্লুাস্টোমা টিউমার সম্পর্কে সবার সচেতন হওয়া জরুরি। টিউমার ছাড়া আমাদের দেশে মুখের সবচেয়ে বেশি স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সার দেখা যায়। মুখের স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সার বেশি দেখা যায় ঠোঁট ও জিহ্বার পাশে। সাধারণত ফোলাভাব অথবা আলসার হিসেবে দেখা যায় যা দেখতে সাদা, লাল, মিশ্র সাদা লাল। তিন সপ্তাহের বেশি এ ধরনের অবস্থা বিরাজ করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনতে হবে। তাই মুখের ঘা বা আলসারের ক্ষেত্রে আলসার ভেবে বসে থাকলে চলবে না বরং আলসারের সুচিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। মুখের লিউকোপ্লাকিয়া এবং মুখের সাদা সংক্রমণের ক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। লিউকোপ্লাকিয়াকে মুখের ক্যান্সার পূর্ব অবস্থা বলা হয়ে থাকে। তাই এ নিয়ে অবহেলার কোনো অবকাশ নেই। আর আলসারের বেসে শক্তভাব অনুভূত হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তাই আমাদের মুখের আলসার বা টিউমারের ক্ষেত্রে সবার সচেতন হতে হবে এবং মুখের অভ্যন্তরে যে কোনো রোগের সুচিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ

ইমপ্রেস ওরাল কেয়ার-বর্ণমালা সড়ক, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা।

পরামর্শ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj