অটুট হোক ক্যাম্পাসে বন্ধুত্বের বাঁধন

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯

একদিন শেষ হয় ক্যাম্পাস জীবন। চলে যেতে হয় সবাইকে। অশ্রæজলে ভাসিয়ে প্রত্যেকে বিদায় জানায় তার প্রিয় ক্যাম্পাসকে। নতুনরা আসে। তারাও গড়ে তোলে এরকমই নতুন বন্ধুত্ব। হাসি-আড্ডায় কাটায় দিন। দিনশেষে তারাও চলে যায়।

বন্ধুত্ব সে তো বিরান মরুভূমিতে চাতকের চোখে বৃষ্টির ন্যায়। সে তো বর্ষামুখর দিনে এক ছাতার নিচে কয়েকজন। বন্ধুত্ব। পরীক্ষার হলে আশার একমাত্র অবলম্বন। আর পরীক্ষায় খারাপ করলে সহানুভূতির হাত। বন্ধু শব্দটির মাঝে মিশে আছে নির্ভরতা ও বিশ্বাস।

একজন ভাল বন্ধু শুধু একজন ভাল বন্ধুই নয়, ভাল অভিভাবকও বটে। ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে আপনজন তো এরাই। সময়-সুযোগ পেলেই যাদের সঙ্গে জমে ওঠে গল্প, আড্ডা, গান। ক্যাম্পাস জীবনের বন্ধুত্ব একটু অন্যরকম। আলাদাভাবেই অন্যরকম। সারাদিনের হাজারো ব্যস্ততা সত্ত্বেও এক ডাকেই কাছে পাওয়া যায় সবাইকে। যেন কারোরই কোন ক্লান্তি নেই, ব্যস্ততা নেই।

প্রতিদিনই জমে ওঠে গল্প-আড্ডা-গান। নিত্য নতুন অভিজ্ঞতা, রাজনীতি-অর্থনীতি, প্রেম-ভালবাসা, ক্লাস-পরীক্ষা সবই উঠে আসে এই আড্ডাবাজিতে। গল্পে আর আড্ডায় কাটে সময়। কাকে কিভাবে পচানো যায়, চলতে থাকে আরো কতকিছু। আর ঘুরতে যাওয়ার ব্যাপার তো আছেই।

ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে বিরক্তিকর ব্যাপারটা হলো ক্লাস করা। সঙ্গে আবার বিভিন্ন অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন আরো কতকিছু! কিন্তু এতকিছুর পরও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় কোন কমতি থাকে না। ক্লাসের ফাঁকে একটু সময় পেলেই তো তাই বসে পড়ি রেললাইনে, কখনো বা লাইব্রেরিতে বা কখনো ডিপার্টমেন্টেরই কোরিডোরে। দুষ্টামি আর খামখেয়ালিপনাতেও জুড়ি নেই এ বন্ধুদের। প্রত্যেক বন্ধু সার্কেলেই হয়ত এমন কেউ থাকে যে খেতে একটু বেশি পছন্দ করে, বা এমন কেউ থাকে যে ঘুরতে বেশি পছন্দ করে, আবার এমনো কেউ থাকে যে সবসময় সেজেগুজে টিপটপ হয়ে থাকতে পছন্দ করে। আর প্রতিদিনের আড্ডায় পচানির খোরাক হয় এরাই।

সব মিলিয়ে প্রতিদিনের জীবন যেন নতুনভাবেই শুরু হয় প্রতিদিন। কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, হাসি, তামাশা, সুখ, দুঃখ মিলেই আমাদের ক্যাম্পাস জীবন। ক্যাম্পাসে সময়-সুযোগ পেলেই তো তাই মেতে উঠি আড্ডায়, ঘুরতে যাই বন্ধুদের সঙ্গে। সত্যি কথা বলতে, ক্যাম্পাস থেকে যখন চলে যাব, তখন এ দিনগুলো খুব মিস করব। কৃষি অনুষদের আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিনের পূণর্মিলনী আমাদের এই আড্ডাগুলো। ছোট ছোট অনুভূতির সম্মিলিত প্রকাশ এ আড্ডা। ক্ষুদ্র স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে কখনই আমরা আমাদের এ বন্ধুত্বে ফাটল ধরাতে চাই না। আমরা চাই আমাদের এ বন্ধুত্ব যেন আজীবন এমনই অটুট ও অমলিন থাকে। খামখেয়ালি আর দুষ্টামিতে ভরা এ বন্ধুত্ব হলেও যে কোন সাহায্য-সহযোগিতায় সবার আগে পাশে থাকে এ বন্ধুরাই। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুতেই ভাগ বসায় যারা, যে কোনো বিপদ-আপদে ছায়ার মতো পাশে পাওয়া যায় সেই তাদেরই। এটাই তো ক্যাম্পাস জীবন, যেখানে বন্ধুরাই অভিভাবক, বন্ধুরাই আত্মীয়স্বজন।

প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে সবসময়ের সঙ্গী।

একদিন শেষ হয় ক্যাম্পাস জীবন। চলে যেতে হয় সবাইকে। অশ্রæজলে ভাসিয়ে প্রত্যেকে বিদায় জানায় তার প্রিয় ক্যাম্পাসকে। নতুনরা আসে। তারাও গড়ে তোলে এরকমই নতুন বন্ধুত্ব। হাসি-আড্ডায় কাটায় দিন। দিনশেষে তারাও চলে যায়। শুধু রেখে যায় স্মৃতি, রেখে যায় ভালবাসার কিছু মুহূর্ত। কিন্তু তারপরও সবসময় মুখর থাকে ক্যাম্পাস। নতুনদের নতুন বন্ধুত্বকে ঘিরে। ভাল থাকুক সবার সে বন্ধুত্ব, অটুট হোক এ বন্ধুত্বের বাঁধন। :: ক্যাম্পাস ডেস্ক

ক্যাম্পাস'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj