ছোট ছোট স্বপ্নগুলো পুড়ে ছাই

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯

আগুনের সঙ্গে যুদ্ধ করে, শুধু যুদ্ধই নয়; আগুনকে পরাজিত করেই ওদের প্রতিদিন চলতে হয়! আজ হয়তো আগুনে পুড়েছে দেখে বা কেউ শুনে সাময়িক একটু কষ্ট অনুভব করছেন। কিন্তু বছরব্যাপীই ওদের জীবনযুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর-৭ নম্বর সেকশনের ঝিলপাড়ের চলন্তিকা বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৮ সহস্রাধিক পরিবারের স্বপ্ন পুড়ে যায়। পোড়া ধ্বংসস্তূপ হাতড়ে বেড়াচ্ছেন সব হারানো মানুষ। সেখানে খুঁজে ফিরছেন কিছু অবশিষ্ট আছে কিনা। কিন্তু পাচ্ছেন না কিছুই। ঢাকা শহরের বেশিরভাগ বস্তির বাসিন্দাই, গৃহকর্মী, দারোয়ান, দিনমজুর, কলকারখানা বা গার্মেন্টস শ্রমিক। শুধু রাজধানীতে কমবেশি ৩০ লাখ লোক বিভিন্ন বস্তিতে বাস করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পোশাক শ্রমিক। ঝিলপাড়ে যাদের ঘর পুড়েছে। বস্তিবাসীরা কেউই বিনা ভাড়ায় থাকতে পারেন না। বিনা পুঁজিতে বস্তাভর্তি টাকা আদায়ের আখড়া একেকটা বস্তি। সঙ্গে মাদকের ব্যবসা তো আছেই। ক্ষমতাসীনরা সরকারি জায়গায় বস্তি বসিয়ে ভাড়া তুলে থাকে। বস্তির লোককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতাপও দেখান। অবৈধপথে পেতে হয় বলে, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি তাদের কিনতে হয় বাজার মূল্যের চাইতে বেশি দরে। সব মিলিয়ে মধ্যবিত্তরা যে ভাড়া দিয়ে ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকেন, বর্গফুট হিসেবে তাদের চেয়ে বস্তির ভাড়া কম নয় মোটেই। ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তিতে গত এক দশকে ১৭ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গত তিন বছরে ছয়বার লাগা অগ্নিকাণ্ডের তিনটিকেই ‘নাশকতা’ বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী। বস্তিতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের কারণ কী? বস্তির অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, সরকারি জায়গা দখল নিতে দুর্বৃত্তরা বস্তিতে আগুন লাগায়। বস্তিতে নতুন দখলদারের ছড়ি ঘোরানো, ভূমি দখলের রাজনীতি এবং অর্থনীতিসহ অনেক মহাক‚টপরিকল্পনা থাকে ঝুপড়ি ঘরগুলো ঘিরে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন সেই সরকারের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীর প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসীরা অগ্নিকাণ্ড সংঘটন করে। প্রতিটি ঘটনার পরই গঠিত হয় তদন্ত কমিটি। কিন্তু তদন্তের পরও বস্তিবাসীর ‘নাশকতার’ অভিযোগের সত্যতা পায় না সংশ্লিষ্টরা। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে- বস্তিতে কেন বারবার আগুন লাগে? বস্তির আগুন কি দুর্ঘটনা, নাকি নাশকতা? বস্তির নাগরিকদের জীবনের প্রতি সরকারে কোনো দায় আছে কী? সর্বশেষ কথা হলো, একটি মানবিক অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে আগুনে সব হারানো মানুষগুলোর জন্য স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

:: মোহাম্মদ আবু নোমান, কদমতলী, ঢাকা।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj